সংবাদ

উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি প্রাচীন মহেশপুর পৌরসভায়


প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ পিএম

উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি প্রাচীন মহেশপুর পৌরসভায়
মহেশপুর পৌরসভা। ছবিঃ সংবাদ

প্রতিষ্ঠার দেড় শ বছর পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার বাসিন্দাদের। ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন পৌরসভায় এখনো জরাজীর্ণ সড়ক, অকেজো সড়কবাতি, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়ে গেছে। নিয়মিত কর দিলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হওয়া ২২ বর্গকিলোমিটারের এই শহরে নাগরিক সুযোগ-সুবিধার তেমন কোনো প্রতিফলন নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়ক বছরের পর বছর সংস্কারহীন। সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, আর বড় বড় খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলে যানবাহন।

পৌর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিয়মিত কর দিই, কিন্তু সুবিধা পাই না। বৃষ্টি হলে রাস্তায় হাঁটা যায় না।” ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

সড়কবাতি নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। ৩ হাজার বাতির চাহিদার বিপরীতে আছে মাত্র ২ হাজার, যার বড় অংশই নষ্ট। ফলে রাতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকেন নারী ও শিশুরা। সুপেয় পানির সংকটে অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের নিজস্ব টিউবওয়েলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “পৌরবাসীর দুর্ভোগের বিষয়ে আমরা অবগত। সেবার মান বাড়াতে ইতোমধ্যে কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপনের কাজ শেষ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

দীর্ঘ ঐতিহ্যের এই পৌরসভাকে আধুনিক ও জনবান্ধব শহরে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি প্রাচীন মহেশপুর পৌরসভায়

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রতিষ্ঠার দেড় শ বছর পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার বাসিন্দাদের। ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন পৌরসভায় এখনো জরাজীর্ণ সড়ক, অকেজো সড়কবাতি, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়ে গেছে। নিয়মিত কর দিলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হওয়া ২২ বর্গকিলোমিটারের এই শহরে নাগরিক সুযোগ-সুবিধার তেমন কোনো প্রতিফলন নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়ক বছরের পর বছর সংস্কারহীন। সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, আর বড় বড় খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলে যানবাহন।

পৌর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিয়মিত কর দিই, কিন্তু সুবিধা পাই না। বৃষ্টি হলে রাস্তায় হাঁটা যায় না।” ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

সড়কবাতি নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। ৩ হাজার বাতির চাহিদার বিপরীতে আছে মাত্র ২ হাজার, যার বড় অংশই নষ্ট। ফলে রাতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকেন নারী ও শিশুরা। সুপেয় পানির সংকটে অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের নিজস্ব টিউবওয়েলের ওপর নির্ভর করতে হয়।

মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “পৌরবাসীর দুর্ভোগের বিষয়ে আমরা অবগত। সেবার মান বাড়াতে ইতোমধ্যে কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপনের কাজ শেষ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

দীর্ঘ ঐতিহ্যের এই পৌরসভাকে আধুনিক ও জনবান্ধব শহরে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত