পর্তুগালের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়েছে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের নাটকীয় পরাজয়ে। এই হারের মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অভিযানের ইতি ঘটল।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো আগেই জানিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট। ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে তিনি নতুন ইতিহাস গড়লেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি তার। যদিও ক্লাব ফুটবল ও ব্যক্তিগত অর্জনে সাফল্যের চূড়ায় থাকা রোনালদো ২০০৬ সালে দলের চতুর্থ স্থান অর্জনকেই নিজের সেরা সাফল্য হিসেবে ধরে রেখেছেন।
বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁতে না পারা কিংবদন্তিদের তালিকায় রোনালদোর নামটি বেশ গুরুত্ব পায়। ফুটবল বিপ্লবের অগ্রদূত ইয়োহান ক্রুয়েফের কথাই ধরা যাক। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে ‘টোটাল ফুটবল’ এর মাধ্যমে তিনি নেদারল্যান্ডসকে ফাইনালে তুললেও পশ্চিম জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তার।
অন্যদিকে আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর গল্পটি আরও হতাশাজনক। ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড় নানা জটিলতা ও ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চেই কখনো নামতে পারেননি।
হাঙ্গেরির কিংবদন্তি ফেরেঙ্ক পুসকাস ১৯৫৪ বিশ্বকাপে শিরোপার খুব কাছে ছিলেন। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে রানার্সআপ হয় তার দল।
গোলমেশিন ইউসেবিও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে মাত্র একবার অংশ নিয়েই ৯ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন, কিন্তু সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।
দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২,২১৭ মিনিট খেলার রেকর্ড ধরে রাখা ইতালির রক্ষণভাগের দেয়াল পাওলো মালদিনিও শিরোপার দেখা পাননি। ১৯৯৪ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে তার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়।
এছাড়া রবার্তো ব্যাজ্জিও, জিকো, সক্রেটিস, মিশেল প্লাতিনি, লেভ ইয়াসিন এবং নেইমারের মতো বিশ্বমানের ফুটবলাররাও বিশ্বকাপ ট্রফি না জেতার দীর্ঘ তালিকায় রয়েছেন। অসংখ্য ব্যক্তিগত রেকর্ড ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরেও বিশ্বকাপ জয়ের অনুপস্থিতিই এসব কিংবদন্তির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হিসেবে থেকে গেছে।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
পর্তুগালের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়েছে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের নাটকীয় পরাজয়ে। এই হারের মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ অভিযানের ইতি ঘটল।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো আগেই জানিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট। ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে তিনি নতুন ইতিহাস গড়লেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি তার। যদিও ক্লাব ফুটবল ও ব্যক্তিগত অর্জনে সাফল্যের চূড়ায় থাকা রোনালদো ২০০৬ সালে দলের চতুর্থ স্থান অর্জনকেই নিজের সেরা সাফল্য হিসেবে ধরে রেখেছেন।
বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁতে না পারা কিংবদন্তিদের তালিকায় রোনালদোর নামটি বেশ গুরুত্ব পায়। ফুটবল বিপ্লবের অগ্রদূত ইয়োহান ক্রুয়েফের কথাই ধরা যাক। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে ‘টোটাল ফুটবল’ এর মাধ্যমে তিনি নেদারল্যান্ডসকে ফাইনালে তুললেও পশ্চিম জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তার।
অন্যদিকে আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর গল্পটি আরও হতাশাজনক। ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড় নানা জটিলতা ও ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চেই কখনো নামতে পারেননি।
হাঙ্গেরির কিংবদন্তি ফেরেঙ্ক পুসকাস ১৯৫৪ বিশ্বকাপে শিরোপার খুব কাছে ছিলেন। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে রানার্সআপ হয় তার দল।
গোলমেশিন ইউসেবিও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে মাত্র একবার অংশ নিয়েই ৯ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন, কিন্তু সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।
দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২,২১৭ মিনিট খেলার রেকর্ড ধরে রাখা ইতালির রক্ষণভাগের দেয়াল পাওলো মালদিনিও শিরোপার দেখা পাননি। ১৯৯৪ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে তার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়।
এছাড়া রবার্তো ব্যাজ্জিও, জিকো, সক্রেটিস, মিশেল প্লাতিনি, লেভ ইয়াসিন এবং নেইমারের মতো বিশ্বমানের ফুটবলাররাও বিশ্বকাপ ট্রফি না জেতার দীর্ঘ তালিকায় রয়েছেন। অসংখ্য ব্যক্তিগত রেকর্ড ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরেও বিশ্বকাপ জয়ের অনুপস্থিতিই এসব কিংবদন্তির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হিসেবে থেকে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন