বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর চলাকালীনই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) এথিকস কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মানবাধিকারভিত্তিক সংস্থা ফেয়ার স্কয়ারের করা এই অভিযোগে বলা হয়েছে, ইনফ্যান্তিনোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশ্ব ফুটবলের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ফেয়ার স্কয়ারের দাবি অনুযায়ী, ইনফ্যান্তিনো ক্রীড়া প্রশাসকের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী কাজ করেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। ফেয়ার স্কয়ারের প্রধান নির্বাহী নিক ম্যাকগিহান বলেন, ফিফা যদি নিজেদের সভাপতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তে ব্যর্থ হয়, তবে আইওসির দায়িত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।
তিনি আরও যোগ করেন, একজন আইওসি সদস্য হিসেবে ইনফ্যান্তিনোর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ইনফ্যান্তিনো শুধু ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই বজায় রাখেননি, বরং ট্রাম্পের অভিষেক উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসাসূচক পোস্ট দেওয়া, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন জানানো এবং ফিফার শান্তি পুরস্কার তুলে দেওয়ার মতো কাজ করেছেন যা আইওসির নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর আগে একই অভিযোগ ফিফার নিজস্ব এথিকস কমিটিতে জমা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একাধিক সদস্য সমর্থন জানান। তবে এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা আইওসি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত ১১ জুলাই জানা যায়, ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত রাখার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পর ফিফার ভেতরেই ইনফ্যান্তিনোর সমর্থন কমছে। দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নিজে জানিয়েছেন তিনি বালোগুনের বিষয়টি নিয়ে ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এরপরই শাস্তি স্থগিতের ওই সিদ্ধান্ত আসে, যা নিয়ে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়ামসহ বেশ কয়েকটি দেশ তীব্র সমালোচনা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিফার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের এর চেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ কল্পনা করা কঠিন। ফিফা যেভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে তা হাস্যকর এবং ইনফ্যান্তিনো এখন গভীরভাবে বিচ্ছিন্ন। বিশ্বকাপের এই বিতর্কের ফলে তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের সম্ভাবনাও এখন বড় ধাক্কা খেয়েছে।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর চলাকালীনই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) এথিকস কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মানবাধিকারভিত্তিক সংস্থা ফেয়ার স্কয়ারের করা এই অভিযোগে বলা হয়েছে, ইনফ্যান্তিনোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশ্ব ফুটবলের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ফেয়ার স্কয়ারের দাবি অনুযায়ী, ইনফ্যান্তিনো ক্রীড়া প্রশাসকের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী কাজ করেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। ফেয়ার স্কয়ারের প্রধান নির্বাহী নিক ম্যাকগিহান বলেন, ফিফা যদি নিজেদের সভাপতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তে ব্যর্থ হয়, তবে আইওসির দায়িত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।
তিনি আরও যোগ করেন, একজন আইওসি সদস্য হিসেবে ইনফ্যান্তিনোর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ইনফ্যান্তিনো শুধু ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই বজায় রাখেননি, বরং ট্রাম্পের অভিষেক উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসাসূচক পোস্ট দেওয়া, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন জানানো এবং ফিফার শান্তি পুরস্কার তুলে দেওয়ার মতো কাজ করেছেন যা আইওসির নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর আগে একই অভিযোগ ফিফার নিজস্ব এথিকস কমিটিতে জমা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একাধিক সদস্য সমর্থন জানান। তবে এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা আইওসি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত ১১ জুলাই জানা যায়, ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত রাখার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পর ফিফার ভেতরেই ইনফ্যান্তিনোর সমর্থন কমছে। দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নিজে জানিয়েছেন তিনি বালোগুনের বিষয়টি নিয়ে ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এরপরই শাস্তি স্থগিতের ওই সিদ্ধান্ত আসে, যা নিয়ে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়ামসহ বেশ কয়েকটি দেশ তীব্র সমালোচনা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিফার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের এর চেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ কল্পনা করা কঠিন। ফিফা যেভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে তা হাস্যকর এবং ইনফ্যান্তিনো এখন গভীরভাবে বিচ্ছিন্ন। বিশ্বকাপের এই বিতর্কের ফলে তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের সম্ভাবনাও এখন বড় ধাক্কা খেয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন