ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েক প্রহর। পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর এখন নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে, যেখানে শিরোপা নির্ধারণী মহারণে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। হাইভোল্টেজ এই ফাইনালের আগে স্বাভাবিকভাবেই আকাশচুম্বী চাপ থাকবে।
তবে এই চাপ সামলানোর মন্ত্র জানালেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জাভিটস সেন্টারে আয়োজিত ‘ফ্যানাটিকস ফেস্ট’ অনুষ্ঠানে এনএফএল তারকা টম ব্রেডি এবং সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ডের মুখোমুখি হয়ে মেসি এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
শৈশবের ফুটবল জীবনের স্মৃতিচারণ করে মেসি বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই অনেক আবেগ নিয়ে ফুটবল খেলেছি। যেখানে সুযোগ পেয়েছি, স্কুলে, রাস্তায় কিংবা ক্লাবে; সেখানেই খেলেছি, আনন্দ করেছি। কারণ আমরা সবাই পাড়ার দল থেকেই ফুটবল শুরু করেছি।’
বিশ্বকাপের মতো বড় ম্যাচের চাপ নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা কখনো চাপ নিয়ে আলাদা করে ভাবি না। খেলাটাকে স্বাভাবিকভাবেই নিই এবং উপভোগ করার চেষ্টা করি। আমরা প্রতিযোগিতাপ্রিয়, জিততে ভালোবাসি। তবে ফুটবল দলীয় খেলা, প্রতিপক্ষও খেলে। তাই সব সময় জেতা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ছোটবেলায় আমি শিখেছি, জয়ের চেয়ে হারই বেশি আসে। সেই হারগুলোই আমাকে মানুষ হিসেবে এবং ফুটবলার হিসেবে আরও পরিণত করেছে।’
ফাইনালের প্রতিপক্ষ স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। মেসি বলেন, ‘ইয়ামাল অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমি তাকে অনেক দিন ধরেই অনুসরণ করছি, কারণ সে এমন একটি ক্লাবে খেলে, যেটিকে আমি ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্ব ফুটবলের আইকনে পরিণত হয়েছে। সামনে তার পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে এবং ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগও রয়েছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন সেটা এবার না হয়।’
ইয়ামালকে কোলে নেওয়ার সেই বিখ্যাত ছবি নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি যখন ওর সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, তখন সে ছিল ছোট্ট একটি শিশু। আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে নামব—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। জীবনে এমন ঘটনাও ঘটে! এখন সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।’
প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে থামানোর প্রত্যয় জানিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি চাই ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক, কারণ ওর ভালো মানে বার্সেলোনারও ভালো। কিন্তু ফাইনালে আমরা চেষ্টা করব যেন ও নিজের সেরাটা খেলতে না পারে। যদিও সেটা সহজ হবে না। স্পেনের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে এবং তাদের খেলার ধরনও দুর্দান্ত। তবে আমাদেরও নিজেদের শক্তি রয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্পেন এবং বুধবার ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালে জায়গা করে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের এই ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে আগামী রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েক প্রহর। পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর এখন নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে, যেখানে শিরোপা নির্ধারণী মহারণে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। হাইভোল্টেজ এই ফাইনালের আগে স্বাভাবিকভাবেই আকাশচুম্বী চাপ থাকবে।
তবে এই চাপ সামলানোর মন্ত্র জানালেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জাভিটস সেন্টারে আয়োজিত ‘ফ্যানাটিকস ফেস্ট’ অনুষ্ঠানে এনএফএল তারকা টম ব্রেডি এবং সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ডের মুখোমুখি হয়ে মেসি এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
শৈশবের ফুটবল জীবনের স্মৃতিচারণ করে মেসি বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই অনেক আবেগ নিয়ে ফুটবল খেলেছি। যেখানে সুযোগ পেয়েছি, স্কুলে, রাস্তায় কিংবা ক্লাবে; সেখানেই খেলেছি, আনন্দ করেছি। কারণ আমরা সবাই পাড়ার দল থেকেই ফুটবল শুরু করেছি।’
বিশ্বকাপের মতো বড় ম্যাচের চাপ নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা কখনো চাপ নিয়ে আলাদা করে ভাবি না। খেলাটাকে স্বাভাবিকভাবেই নিই এবং উপভোগ করার চেষ্টা করি। আমরা প্রতিযোগিতাপ্রিয়, জিততে ভালোবাসি। তবে ফুটবল দলীয় খেলা, প্রতিপক্ষও খেলে। তাই সব সময় জেতা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ছোটবেলায় আমি শিখেছি, জয়ের চেয়ে হারই বেশি আসে। সেই হারগুলোই আমাকে মানুষ হিসেবে এবং ফুটবলার হিসেবে আরও পরিণত করেছে।’
ফাইনালের প্রতিপক্ষ স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। মেসি বলেন, ‘ইয়ামাল অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমি তাকে অনেক দিন ধরেই অনুসরণ করছি, কারণ সে এমন একটি ক্লাবে খেলে, যেটিকে আমি ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্ব ফুটবলের আইকনে পরিণত হয়েছে। সামনে তার পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে এবং ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগও রয়েছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন সেটা এবার না হয়।’
ইয়ামালকে কোলে নেওয়ার সেই বিখ্যাত ছবি নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি যখন ওর সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, তখন সে ছিল ছোট্ট একটি শিশু। আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে নামব—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। জীবনে এমন ঘটনাও ঘটে! এখন সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।’
প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে থামানোর প্রত্যয় জানিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি চাই ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক, কারণ ওর ভালো মানে বার্সেলোনারও ভালো। কিন্তু ফাইনালে আমরা চেষ্টা করব যেন ও নিজের সেরাটা খেলতে না পারে। যদিও সেটা সহজ হবে না। স্পেনের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে এবং তাদের খেলার ধরনও দুর্দান্ত। তবে আমাদেরও নিজেদের শক্তি রয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্পেন এবং বুধবার ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালে জায়গা করে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের এই ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে আগামী রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

আপনার মতামত লিখুন