ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নফাঁস রোধ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লি অভিমুখে ঐতিহাসিক ‘লং মার্চ টু পার্লামেন্ট’ কর্মসূচি শুরু করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)।
দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই পদযাত্রাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরে চলা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে এই কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যন্তর মন্তরের আশপাশে শত শত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই পদযাত্রার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে সিজিপি-র মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও তারা পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্লামেন্ট অভিমুখে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
মে মাসে অভিজিৎ দীপকের হাত ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ খুব দ্রুতই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সোমবার ভোর থেকেই যন্তর মন্তর এলাকা সরকারবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা সেখানে জাতীয় পতাকা এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে হাতে প্লাস্টিক গোলাপ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছেন।
পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকানোর চেষ্টা করলেও সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা মূল রাস্তার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সিজিপি স্বেচ্ছাসেবকরা বারবার সবাইকে সহিংসতা এড়িয়ে শান্ত থাকার নির্দেশনা দিচ্ছেন।
পুলিশের ভারী ব্যারিকেডে আটকা পড়ার পর অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করতে সরকার তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। লং মার্চ সফল করতে গত কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।
রবিবার রাতে যন্তর মন্তর এলাকাটি একটি অস্থায়ী ক্যাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ত্রিপলের নিচে রাত কাটান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকরা অংশগ্রহণকারীদের জন্য পানির বোতল, শুকনো খাবার, জরুরি ফোন নম্বর এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক নির্দেশিকা শেয়ার করেছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে মিছিল চলাকালীন পুলিশের সাথে কোনো প্রকার হাতাহাতি বা তর্কে না জড়ানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি এই বিশাল বিক্ষোভ যখন চলছে, তখন লোকসভার ভেতরেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতাদের স্লোগান ও হট্টগোলের কারণে অধিবেশন দুপুর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এর আগে সংসদ ভবনের বাইরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন এবং সংসদ সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে পার্লামেন্ট থেকে খুব কাছেই চলমান এই শিক্ষার্থী আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নফাঁস রোধ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লি অভিমুখে ঐতিহাসিক ‘লং মার্চ টু পার্লামেন্ট’ কর্মসূচি শুরু করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)।
দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই পদযাত্রাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরে চলা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে এই কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যন্তর মন্তরের আশপাশে শত শত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই পদযাত্রার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে সিজিপি-র মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও তারা পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্লামেন্ট অভিমুখে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
মে মাসে অভিজিৎ দীপকের হাত ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ খুব দ্রুতই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সোমবার ভোর থেকেই যন্তর মন্তর এলাকা সরকারবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা সেখানে জাতীয় পতাকা এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে হাতে প্লাস্টিক গোলাপ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছেন।
পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকানোর চেষ্টা করলেও সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা মূল রাস্তার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সিজিপি স্বেচ্ছাসেবকরা বারবার সবাইকে সহিংসতা এড়িয়ে শান্ত থাকার নির্দেশনা দিচ্ছেন।
পুলিশের ভারী ব্যারিকেডে আটকা পড়ার পর অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করতে সরকার তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। লং মার্চ সফল করতে গত কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।
রবিবার রাতে যন্তর মন্তর এলাকাটি একটি অস্থায়ী ক্যাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ত্রিপলের নিচে রাত কাটান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকরা অংশগ্রহণকারীদের জন্য পানির বোতল, শুকনো খাবার, জরুরি ফোন নম্বর এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক নির্দেশিকা শেয়ার করেছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে মিছিল চলাকালীন পুলিশের সাথে কোনো প্রকার হাতাহাতি বা তর্কে না জড়ানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি এই বিশাল বিক্ষোভ যখন চলছে, তখন লোকসভার ভেতরেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতাদের স্লোগান ও হট্টগোলের কারণে অধিবেশন দুপুর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এর আগে সংসদ ভবনের বাইরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন এবং সংসদ সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে পার্লামেন্ট থেকে খুব কাছেই চলমান এই শিক্ষার্থী আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন