সংবাদ

মোদী সরকারের ১২ বছর

দুর্নীতি, বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমতে অসন্তোষের মেঘ


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

দুর্নীতি, বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমতে অসন্তোষের মেঘ

  • বিজেপির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

​নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১২ বছরের শাসনামলে ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’ স্লোগানের ওপর ভর করে গড়ে ওঠা দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তির সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে ধরেছে ‘ইন্ডিয়া টুডে-সিভোটার মুড অব দ্য নেশন (MOTN)’ সমীক্ষা।
২০২৬ সালের এই সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি বেড়েছে। বিপরীতে ৩৪.৮ শতাংশ মানুষের মতে দুর্নীতি কমেছে এবং ১৪.৮ শতাংশ মনে করছেন পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সমীক্ষার এই ফল সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির চূড়ান্ত প্রমাণ না হলেও, দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে আসা পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
​দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির পাশাপাশি বেকারত্ব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিংবা বৈশ্বিক অঙ্গনে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির খবর প্রচার হলেও সাধারণ ভোটারের কাছে নিজস্ব ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও কর্মসংস্থানই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর পাশাপাশি NEET-UG সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল ও নিয়োগ বিতর্কের কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে চাকরি পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​রাজনৈতিক ও আইনি ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন, আদালতের হস্তক্ষেপ এবং মাঠের লড়াইয়ের কারণে কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরে শাসক জোটের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জরিপের নির্বাচনী প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩২৬টি আসন পেতে পারে, যা গত জানুয়ারি মাসের ৩৫২টি আসন প্রক্ষেপণের তুলনায় ২৬টি কম। এককভাবে বিজেপির আসন সংখ্যা কমে ২৬১-তে নেমে আসার সম্ভাবনা নির্দেশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের জন্য ১৮৫টি আসনের কথা বলা হয়েছে। ফলে সরকারের আসন কমলেও বিরোধীরা সরাসরি সেই রাজনৈতিক সুবিধা পুরোপুরি ঘরে তুলতে পারছে না।
​সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বিজেপি সরকারের প্রধান শক্তি হিসেবে বজায় রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন নীতি বা কর্মসংস্থান নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর প্রতি জনগণের আস্থায় বড় ধরনের ধস নামেনি।
উত্তরপ্রদেশের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে তরুণদের কর্মসংস্থান ও পরীক্ষা সংক্রান্ত ক্ষোভ ভবিষ্যতের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৯ সালের আগামী সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি উন্নয়ন দাবির বিপরীতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা ও একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তোলার লড়াই নতুন রূপ নিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুর্নীতি, বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমতে অসন্তোষের মেঘ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

  • বিজেপির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

​নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১২ বছরের শাসনামলে ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’ স্লোগানের ওপর ভর করে গড়ে ওঠা দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তির সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে ধরেছে ‘ইন্ডিয়া টুডে-সিভোটার মুড অব দ্য নেশন (MOTN)’ সমীক্ষা।
২০২৬ সালের এই সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি বেড়েছে। বিপরীতে ৩৪.৮ শতাংশ মানুষের মতে দুর্নীতি কমেছে এবং ১৪.৮ শতাংশ মনে করছেন পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সমীক্ষার এই ফল সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির চূড়ান্ত প্রমাণ না হলেও, দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে আসা পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
​দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির পাশাপাশি বেকারত্ব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিংবা বৈশ্বিক অঙ্গনে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির খবর প্রচার হলেও সাধারণ ভোটারের কাছে নিজস্ব ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও কর্মসংস্থানই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর পাশাপাশি NEET-UG সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল ও নিয়োগ বিতর্কের কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে চাকরি পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​রাজনৈতিক ও আইনি ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন, আদালতের হস্তক্ষেপ এবং মাঠের লড়াইয়ের কারণে কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরে শাসক জোটের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জরিপের নির্বাচনী প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩২৬টি আসন পেতে পারে, যা গত জানুয়ারি মাসের ৩৫২টি আসন প্রক্ষেপণের তুলনায় ২৬টি কম। এককভাবে বিজেপির আসন সংখ্যা কমে ২৬১-তে নেমে আসার সম্ভাবনা নির্দেশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের জন্য ১৮৫টি আসনের কথা বলা হয়েছে। ফলে সরকারের আসন কমলেও বিরোধীরা সরাসরি সেই রাজনৈতিক সুবিধা পুরোপুরি ঘরে তুলতে পারছে না।
​সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বিজেপি সরকারের প্রধান শক্তি হিসেবে বজায় রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন নীতি বা কর্মসংস্থান নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর প্রতি জনগণের আস্থায় বড় ধরনের ধস নামেনি।
উত্তরপ্রদেশের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে তরুণদের কর্মসংস্থান ও পরীক্ষা সংক্রান্ত ক্ষোভ ভবিষ্যতের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৯ সালের আগামী সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি উন্নয়ন দাবির বিপরীতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা ও একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তোলার লড়াই নতুন রূপ নিচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত