দেশজুড়ে
অপরাধ দমনে পুলিশের বিশাল
‘কর্মযজ্ঞ ও পাহাড়সম’ গ্রেফতারের
পরিসংখ্যান সামনে এলেও সাধারণ মানুষের
মনে কাটেনি উদ্বেগ। গত আড়াই মাসে
পুলিশের বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে
মোট ১ লাখ ১৬
হাজার ৭২৫ জনকে গ্রেফতার
করা হয়েছে।
পুলিশ
সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ মে
থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত
চলমান বিশেষ অভিযানে ৩২ হাজার ৯০৮
জন এবং অন্যান্য মামলায়
৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে আইনের
আওতায় আনা হয়েছে। অভিযানের
সময় উদ্ধার হয়েছে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩
রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন ও
অসংখ্য দেশীয় অস্ত্র। মাদক নিয়ন্ত্রণেও মিলেছে
বড় সাফল্য, ৭৬ লাখের বেশি
ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ
হেরোইন-ফেনসিডিলসহ ২০ হাজার ৪৩৯
জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে
‘কাগজের এই বিশাল সাফল্যের’
পরও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে
গ্রামেগঞ্জে এখনো চলছে মাদক
কেনাবেচা, সড়ক-মহাসড়কে ওৎ
পেতে আছে ডাকাত দল,
আর শহরের অলিগলিতে চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি।
অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পরও কেন সাধারণ
মানুষের দিন কাটছে আতঙ্কে;
সেই প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
পুলিশ
সদর দপ্তর থেকে স্পষ্ট করে
বলা হয়েছে, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে
নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ এই
বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায়
আনার জন্য পুলিশ এখনো
তৎপর রয়েছে।"
পুলিশের
এই দাবির সত্যতা মিললেও বাস্তবতার সমীকরণ ভিন্ন কথা বলছে। অভিযোগ
রয়েছে, সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেও শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রাম-গঞ্জে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে
পড়েছে মহামারির মতো। প্রত্যন্ত অঞ্চলে
প্রতিটি ইয়াবা আড়াইশ থেকে ৩০০ টাকায়
অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ছোটখাটো খুচরা বিক্রেতারা ধরা পড়লেও পর্দার
আড়ালের মূল মাদক সম্রাটরা
এখনো বহাল তবিয়তে রয়ে
গেছেন, যার ফলে মাদকের
শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব
হচ্ছে না।
একই
চিত্র চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের
ক্ষেত্রেও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই
চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা
প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি টাকা
চাঁদার দাবিতে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে
বরিশালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে মারধর
ও চাঁদাবাজির ঘটনা দেশজুড়ে ‘তুমুল
চাঞ্চল্য’ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীদের
আক্ষেপ, মাঠপর্যায়ের ছিঁচকে অপরাধীরা ধরা পড়লেও গডফাদার
বা মূল হোতারা অধরাই
থেকে যাচ্ছে।
এদিকে,
সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ
নিয়ে সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে
সক্রিয় হয়ে উঠেছে ডাকাত
দল। গত ১১ জুলাই
রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র
নিয়ে ডাকাতির চেষ্টার পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাকভর্তি গবাদিপশু
লুটের ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা
চালক ও হেলপারকে হাত-পা এবং চোখ
বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায়; যাদের পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর
মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের
নিজস্ব পরিসংখ্যানেই অপরাধের এই ভয়াবহতার চিত্র
ফুটে উঠেছে। কেবল জুন মাসেই
সারাদেশে ২৯টি ডাকাতি, ১৫০টি
দস্যুতা, আট শতাধিক চুরি
ও ২ হাজার ১৯৪টি
নারী ও শিশু নির্যাতনের
ঘটনা ঘটেছে।
তবে
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব চিত্র
এর চেয়েও ভয়ানক। কারণ অনেক ঘটনার
ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা হয়রানি ও ভয়ে থানায়
মামলা করতে যান না।
ফলে চলমান ‘মেগা অভিযানের’ ভেতরেও
এক অদৃশ্য আতঙ্কে দিন পার করছে
দেশের সাধারণ মানুষ।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে
অপরাধ দমনে পুলিশের বিশাল
‘কর্মযজ্ঞ ও পাহাড়সম’ গ্রেফতারের
পরিসংখ্যান সামনে এলেও সাধারণ মানুষের
মনে কাটেনি উদ্বেগ। গত আড়াই মাসে
পুলিশের বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে
মোট ১ লাখ ১৬
হাজার ৭২৫ জনকে গ্রেফতার
করা হয়েছে।
পুলিশ
সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ মে
থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত
চলমান বিশেষ অভিযানে ৩২ হাজার ৯০৮
জন এবং অন্যান্য মামলায়
৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে আইনের
আওতায় আনা হয়েছে। অভিযানের
সময় উদ্ধার হয়েছে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩
রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন ও
অসংখ্য দেশীয় অস্ত্র। মাদক নিয়ন্ত্রণেও মিলেছে
বড় সাফল্য, ৭৬ লাখের বেশি
ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ
হেরোইন-ফেনসিডিলসহ ২০ হাজার ৪৩৯
জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে
‘কাগজের এই বিশাল সাফল্যের’
পরও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে
গ্রামেগঞ্জে এখনো চলছে মাদক
কেনাবেচা, সড়ক-মহাসড়কে ওৎ
পেতে আছে ডাকাত দল,
আর শহরের অলিগলিতে চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি।
অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পরও কেন সাধারণ
মানুষের দিন কাটছে আতঙ্কে;
সেই প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
পুলিশ
সদর দপ্তর থেকে স্পষ্ট করে
বলা হয়েছে, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে
নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ এই
বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায়
আনার জন্য পুলিশ এখনো
তৎপর রয়েছে।"
পুলিশের
এই দাবির সত্যতা মিললেও বাস্তবতার সমীকরণ ভিন্ন কথা বলছে। অভিযোগ
রয়েছে, সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেও শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রাম-গঞ্জে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে
পড়েছে মহামারির মতো। প্রত্যন্ত অঞ্চলে
প্রতিটি ইয়াবা আড়াইশ থেকে ৩০০ টাকায়
অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ছোটখাটো খুচরা বিক্রেতারা ধরা পড়লেও পর্দার
আড়ালের মূল মাদক সম্রাটরা
এখনো বহাল তবিয়তে রয়ে
গেছেন, যার ফলে মাদকের
শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব
হচ্ছে না।
একই
চিত্র চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের
ক্ষেত্রেও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই
চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা
প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি টাকা
চাঁদার দাবিতে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে
বরিশালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে মারধর
ও চাঁদাবাজির ঘটনা দেশজুড়ে ‘তুমুল
চাঞ্চল্য’ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীদের
আক্ষেপ, মাঠপর্যায়ের ছিঁচকে অপরাধীরা ধরা পড়লেও গডফাদার
বা মূল হোতারা অধরাই
থেকে যাচ্ছে।
এদিকে,
সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ
নিয়ে সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে
সক্রিয় হয়ে উঠেছে ডাকাত
দল। গত ১১ জুলাই
রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র
নিয়ে ডাকাতির চেষ্টার পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাকভর্তি গবাদিপশু
লুটের ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা
চালক ও হেলপারকে হাত-পা এবং চোখ
বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায়; যাদের পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর
মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের
নিজস্ব পরিসংখ্যানেই অপরাধের এই ভয়াবহতার চিত্র
ফুটে উঠেছে। কেবল জুন মাসেই
সারাদেশে ২৯টি ডাকাতি, ১৫০টি
দস্যুতা, আট শতাধিক চুরি
ও ২ হাজার ১৯৪টি
নারী ও শিশু নির্যাতনের
ঘটনা ঘটেছে।
তবে
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব চিত্র
এর চেয়েও ভয়ানক। কারণ অনেক ঘটনার
ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা হয়রানি ও ভয়ে থানায়
মামলা করতে যান না।
ফলে চলমান ‘মেগা অভিযানের’ ভেতরেও
এক অদৃশ্য আতঙ্কে দিন পার করছে
দেশের সাধারণ মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন