সংবাদ

কেন শিক্ষামন্ত্রীকে আগলে রেখেছেন মোদী?

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের হুঁশিয়ারি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের হুঁশিয়ারি

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ঘিরে দিল্লির রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদচ্যুত না করা হলে সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবি তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই চরম হুঁশিয়ারি দেন। এই আন্দোলনের জেরে ভারতজুড়ে আরও বড় আকারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে তরুণদের গঠিত এই সংগঠনটি।
​সমাবেশে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিজিৎ দীপকে অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণের অনুরোধ জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী যদি ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ না করেন, তবে আন্দোলন কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরবর্তী সময়ে তরুণ সমাজ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলবে।"
তিনি আরও মন্তব্য করেন, একজন ব্যর্থ মন্ত্রী কোনোভাবেই দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না।
সমাবেশে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা বলেন, বিষয়টিতে মনোযোগ দিতে এবং সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর ৩৪ দিন সময় লেগেছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
এছাড়া আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বাধা ও ব্যারিকেড দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আন্দোলনকারীদের আটকানোর জন্য প্রশাসন যে পরিমাণ তৎপরতা দেখিয়েছে, সেই উদ্যোগ যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে দেখানো হতো, তবে হয়তো অন্তত ২২ জন শিক্ষার্থীর জীবন বেঁচে যেত।"
​এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও বৈঠকের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান, আলোচনা হতে পারে কেবল কোনো সরকারি বাসভবন বা কার্যালয়ে। তবে সিজেপি সরকারের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা জানান, তারা আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তর কিংবা কনস্টিটিউশন ক্লাবের মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছেন, তবে কোনো নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয় বা বাসভবনে যাবেন না। দাবি পূরণ না হলে শুধু দিল্লি নয়, গোটা ভারতজুড়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
​অন্যদিকে ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা এবং এর জেরে চলা আন্দোলন নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মেয়াদের ক্ষমতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ গত সোমবার লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করায় শতাধিক বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হন। প্রধান বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নামলেও চারপাশের চাপের মুখেও শিক্ষামন্ত্রীকে এখনো পদ থেকে সরাননি ভার‌তের প্রধানমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১২ বছরের মোদী সরকারের মেয়াদে বড় ধরনের বিতর্ক বা দেশজুড়ে তীব্র দাবি ওঠা সত্ত্বেও কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ না করানোর একটি বিশেষ ধারা তৈরি হয়েছে। অতীতে ২০১৫ সালে গো-মাংস সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মহেশ শর্মা, ২০১৬ সালে রোহিত ভেমুলা আত্মহত্যার ঘটনায় স্মৃতি ইরানি ও বান্দারু দত্তাত্রেয় এবং ২০২১ সালে লখিমপুর খেরির ঘটনার পর অজয় মিশ্র তেনির মতো মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র দাবি উঠলেও তাদের পদ থেকে সরানো হয়নি।
মোদী আমলের এই ধারা প্রমাণ করে যে, জনদাবি বা আন্দোলনের মুখে নিজের মন্ত্রীদের রক্ষা করা বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক নীতিতে পরিণত হয়েছে, যদিও এর ব্যতিক্রম হিসেবে কেবল করোনা মহামারির পর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের পদত্যাগের ঘটনাটি ঘটেছিল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ঘিরে দিল্লির রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদচ্যুত না করা হলে সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবি তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই চরম হুঁশিয়ারি দেন। এই আন্দোলনের জেরে ভারতজুড়ে আরও বড় আকারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে তরুণদের গঠিত এই সংগঠনটি।
​সমাবেশে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিজিৎ দীপকে অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণের অনুরোধ জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী যদি ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ না করেন, তবে আন্দোলন কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরবর্তী সময়ে তরুণ সমাজ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলবে।"
তিনি আরও মন্তব্য করেন, একজন ব্যর্থ মন্ত্রী কোনোভাবেই দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না।
সমাবেশে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা বলেন, বিষয়টিতে মনোযোগ দিতে এবং সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর ৩৪ দিন সময় লেগেছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
এছাড়া আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি বাধা ও ব্যারিকেড দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আন্দোলনকারীদের আটকানোর জন্য প্রশাসন যে পরিমাণ তৎপরতা দেখিয়েছে, সেই উদ্যোগ যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে দেখানো হতো, তবে হয়তো অন্তত ২২ জন শিক্ষার্থীর জীবন বেঁচে যেত।"
​এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও বৈঠকের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান, আলোচনা হতে পারে কেবল কোনো সরকারি বাসভবন বা কার্যালয়ে। তবে সিজেপি সরকারের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা জানান, তারা আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তর কিংবা কনস্টিটিউশন ক্লাবের মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছেন, তবে কোনো নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয় বা বাসভবনে যাবেন না। দাবি পূরণ না হলে শুধু দিল্লি নয়, গোটা ভারতজুড়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
​অন্যদিকে ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা এবং এর জেরে চলা আন্দোলন নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মেয়াদের ক্ষমতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ গত সোমবার লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করায় শতাধিক বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হন। প্রধান বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নামলেও চারপাশের চাপের মুখেও শিক্ষামন্ত্রীকে এখনো পদ থেকে সরাননি ভার‌তের প্রধানমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১২ বছরের মোদী সরকারের মেয়াদে বড় ধরনের বিতর্ক বা দেশজুড়ে তীব্র দাবি ওঠা সত্ত্বেও কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ না করানোর একটি বিশেষ ধারা তৈরি হয়েছে। অতীতে ২০১৫ সালে গো-মাংস সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মহেশ শর্মা, ২০১৬ সালে রোহিত ভেমুলা আত্মহত্যার ঘটনায় স্মৃতি ইরানি ও বান্দারু দত্তাত্রেয় এবং ২০২১ সালে লখিমপুর খেরির ঘটনার পর অজয় মিশ্র তেনির মতো মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র দাবি উঠলেও তাদের পদ থেকে সরানো হয়নি।
মোদী আমলের এই ধারা প্রমাণ করে যে, জনদাবি বা আন্দোলনের মুখে নিজের মন্ত্রীদের রক্ষা করা বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক নীতিতে পরিণত হয়েছে, যদিও এর ব্যতিক্রম হিসেবে কেবল করোনা মহামারির পর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের পদত্যাগের ঘটনাটি ঘটেছিল।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত