সংবাদ

ওয়াশরুমে গোপন ভিডিও, কাটেনি খুবির অচলাবস্থা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

ওয়াশরুমে গোপন ভিডিও, কাটেনি খুবির অচলাবস্থা
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট দ্বিতীয় দিনেও অবসান হয়নি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটক তালাবদ্ধ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

গত ২২ জুলাই রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন সকাল থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিক জরুরি বৈঠক করে। বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

এর মধ্যে রয়েছে, বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বাদী হয়ে অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় মামলা, অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন (তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন), হল ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, ছাত্রী হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ, ভবিষ্যতে ওই দুই হলে কোনো পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়া ও ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরে অস্বচ্ছ গ্লাস স্থাপন। 

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শুধু একটি মামলার মাধ্যমে এই ঘটনার সমাধান হবে না। তারা ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং অতীতের অভিযোগগুলোরও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সাবিনা ইয়াসমিন তিথি বলেন, ‘ঘটনার পর অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।’

ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ, প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিয়ে প্রশাসনকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিন।’

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা না আসায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


ওয়াশরুমে গোপন ভিডিও, কাটেনি খুবির অচলাবস্থা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট দ্বিতীয় দিনেও অবসান হয়নি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটক তালাবদ্ধ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

গত ২২ জুলাই রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন সকাল থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিক জরুরি বৈঠক করে। বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

এর মধ্যে রয়েছে, বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বাদী হয়ে অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় মামলা, অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন (তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন), হল ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, ছাত্রী হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ, ভবিষ্যতে ওই দুই হলে কোনো পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়া ও ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরে অস্বচ্ছ গ্লাস স্থাপন। 

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শুধু একটি মামলার মাধ্যমে এই ঘটনার সমাধান হবে না। তারা ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং অতীতের অভিযোগগুলোরও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সাবিনা ইয়াসমিন তিথি বলেন, ‘ঘটনার পর অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।’

ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ, প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিয়ে প্রশাসনকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিন।’

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা না আসায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত