মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও আবাসিক- সব শ্রেণির গ্রাহকই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিকের কোনো ঠিকানা নেই, তিতাস কর্তৃপক্ষ বারবার দুঃখ প্রকাশ করলেও কাটছে না ভোগান্তি।
রোববার (২৬ জুলাই) তিতাস গ্যাসের পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনালগুলোতে কারিগরি ত্রুটির কারণে আরএলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের অধীন বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
গত ২২ জুলাই থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অ্যাক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন ও কারিগরি ত্রুটির ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে টার্মিনালটি বন্ধ রয়েছে।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এতে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬২০ এমএমসিএফডি থেকে কমে প্রায় ২ হাজার ১৭০ এমএমসিএফডিতে নেমেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি।
বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এগুলো থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৯৭০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ করা হয়, যা মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৭ শতাংশ। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার (২০ জুলাই) তিতাস গ্যাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের অধিভুক্ত বেশ কিছু এলাকায় শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তখনও তারা গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।
এরপর রোববার আবারও এক বার্তায় তিতাস জানায়, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু টানা পাঁচ দিনেও সংকট কাটেনি, দুঃখ প্রকাশের বাইরে কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
এদিকে পুরনো বিতরণ লাইন পরিবর্তন ও সার্ভিস লাইন প্রতিস্থাপনের কাজের জন্যও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। তাছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা দিয়েছে। গাড়ি চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
শিল্প-কারখানাগুলোও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বালানোর মতো গ্যাস নেই, অনেকে বিদ্যুচ্চালিত চুলা বা বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত টার্মিনালটি কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি। শনিবার এক বিবৃতিতে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এফএসআরইউটি মেরামত ও চালু করতে দেশি-বিদেশি কারিগরি দল কাজ করছে। কিন্তু ত্রুটির কারণ, কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে কিংবা কত সময় লাগতে পারে- সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
তিতাস গ্যাস বারবার দুঃখ প্রকাশ করলেও কবে নাগাদ স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ মিলবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সাধারণ মানুষ তাই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে।

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও আবাসিক- সব শ্রেণির গ্রাহকই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিকের কোনো ঠিকানা নেই, তিতাস কর্তৃপক্ষ বারবার দুঃখ প্রকাশ করলেও কাটছে না ভোগান্তি।
রোববার (২৬ জুলাই) তিতাস গ্যাসের পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনালগুলোতে কারিগরি ত্রুটির কারণে আরএলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের অধীন বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
গত ২২ জুলাই থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অ্যাক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন ও কারিগরি ত্রুটির ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে টার্মিনালটি বন্ধ রয়েছে।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এতে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬২০ এমএমসিএফডি থেকে কমে প্রায় ২ হাজার ১৭০ এমএমসিএফডিতে নেমেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি।
বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এগুলো থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৯৭০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ করা হয়, যা মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৭ শতাংশ। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার (২০ জুলাই) তিতাস গ্যাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের অধিভুক্ত বেশ কিছু এলাকায় শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তখনও তারা গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।
এরপর রোববার আবারও এক বার্তায় তিতাস জানায়, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু টানা পাঁচ দিনেও সংকট কাটেনি, দুঃখ প্রকাশের বাইরে কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
এদিকে পুরনো বিতরণ লাইন পরিবর্তন ও সার্ভিস লাইন প্রতিস্থাপনের কাজের জন্যও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। তাছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা দিয়েছে। গাড়ি চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
শিল্প-কারখানাগুলোও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বালানোর মতো গ্যাস নেই, অনেকে বিদ্যুচ্চালিত চুলা বা বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত টার্মিনালটি কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি। শনিবার এক বিবৃতিতে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এফএসআরইউটি মেরামত ও চালু করতে দেশি-বিদেশি কারিগরি দল কাজ করছে। কিন্তু ত্রুটির কারণ, কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে কিংবা কত সময় লাগতে পারে- সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
তিতাস গ্যাস বারবার দুঃখ প্রকাশ করলেও কবে নাগাদ স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ মিলবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সাধারণ মানুষ তাই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন