সংবাদ

‘চুরির এই মিথ্যা অপবাদ আমি সইতে পারছি না’


জেলা বার্তা পরিবেশক, শরীয়তপুর
জেলা বার্তা পরিবেশক, শরীয়তপুর
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

‘চুরির এই মিথ্যা অপবাদ আমি সইতে পারছি না’
ছবি : ভিডিও থেকে সংগৃহীত

‘আমি একজন অসুস্থ মানুষ। আমাকে ওরা জোর করে তুলে নিয়ে গেল। এরপর সেই পড়া রুটি খাইয়ে পাইপ আর লাঠি দিয়ে কী মারটাই না দিল! কিন্তু চুরির এই মিথ্যা অপবাদ আমি সইতে পারছি না।’ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন নার্গিস বেগম।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও গ্রামে চুরির সন্দেহে ওই নারীকে তথাকথিত ‘ফকিরের পড়া রুটি’ খাইয়ে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয়গাঁও ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেন মোল্লার বাড়ি থেকে কিছু টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী নার্গিস বেগমকে সন্দেহ করেন আনোয়ার।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই গত কয়েকদিন আগে নার্গিস বেগমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চুরির স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক ‘ফকিরের পড়া রুটি’ খাওয়ানো হয়। এরপর পাইপ ও গাছের টুকরো দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নার্গিস বেগমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুস্থ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

নার্গিস বেগমের ছেলে আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমার মায়ের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় ক্ষমতা দেখানো হয়েছে। চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে প্রকাশ্যে পেটানো হয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।’

এদিকে ঘটনার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লা। তার মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


‘চুরির এই মিথ্যা অপবাদ আমি সইতে পারছি না’

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

‘আমি একজন অসুস্থ মানুষ। আমাকে ওরা জোর করে তুলে নিয়ে গেল। এরপর সেই পড়া রুটি খাইয়ে পাইপ আর লাঠি দিয়ে কী মারটাই না দিল! কিন্তু চুরির এই মিথ্যা অপবাদ আমি সইতে পারছি না।’ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন নার্গিস বেগম।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও গ্রামে চুরির সন্দেহে ওই নারীকে তথাকথিত ‘ফকিরের পড়া রুটি’ খাইয়ে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয়গাঁও ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেন মোল্লার বাড়ি থেকে কিছু টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী নার্গিস বেগমকে সন্দেহ করেন আনোয়ার।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই গত কয়েকদিন আগে নার্গিস বেগমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চুরির স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক ‘ফকিরের পড়া রুটি’ খাওয়ানো হয়। এরপর পাইপ ও গাছের টুকরো দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নার্গিস বেগমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুস্থ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

নার্গিস বেগমের ছেলে আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমার মায়ের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় ক্ষমতা দেখানো হয়েছে। চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে প্রকাশ্যে পেটানো হয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।’

এদিকে ঘটনার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লা। তার মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত