দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময়ের প্রতীক্ষা শেষে আগামী ৩০ জুলাই থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গভাবে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। গত শনিবার দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও শতভাগ অটোমেশনের মাধ্যমে কুষ্টিয়াকে খুলনা বিভাগের প্রধান ‘হেলথ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেনাবাহিনী ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ায় এখন হাসপাতালের পুরো অবকাঠামো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে। জরুরি বিভাগ চালুর পর আগামী দুই মাসের মধ্যে ১৫টি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সচল করে ইনডোর ও আউটডোর সেবার পরিধি বাড়ানো হবে।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে কঠোর নজরদারির ফলে মাসে রাজস্ব আয় ৮-১০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। ডিজিটাল বিলিং ও অটোমেশন চালু হলে তা ৩০ লাখ টাকা ছাড়াবে। এ সময় ডা. জাহিদ রায়হান চিকিৎসক সংকট মেটাতে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক, ৩০০ ডেন্টাল সার্জন ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। রোগীদের জন্য দ্রুতই ডিজিটাল হেলথ কার্ড চালু হবে বলেও জানান তিনি।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে যে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ৬৮২ কোটি টাকায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে হাসপাতালের ৫শ শয্যার বিপরীতে মাত্র ছয়টি বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে ২৩টি বিভাগের কার্যক্রম এখনো শুরু করা যায়নি। বর্তমানে ২ হাজার জনবলের বিপরীতে মাত্র ২৯৮ জন কর্মরত আছেন।
এদিকে ৯২ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হলেও দীর্ঘ সময় ভবন ও যন্ত্রাংশ হস্তান্তর না হওয়ায় অনেক দামি সরঞ্জাম পড়ে আছে। সিটি স্ক্যান বা এমআরআইয়ের মতো সেবা এখনো চালু হয়নি। এ ছাড়া বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনা এবং বেনামি ব্র্যান্ডের কম্পিউটার সরবরাহের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
সভায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আকুল উদ্দিন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ ড্যাব ও অন্যান্য চিকিৎসক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময়ের প্রতীক্ষা শেষে আগামী ৩০ জুলাই থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গভাবে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। গত শনিবার দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও শতভাগ অটোমেশনের মাধ্যমে কুষ্টিয়াকে খুলনা বিভাগের প্রধান ‘হেলথ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেনাবাহিনী ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ায় এখন হাসপাতালের পুরো অবকাঠামো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে। জরুরি বিভাগ চালুর পর আগামী দুই মাসের মধ্যে ১৫টি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সচল করে ইনডোর ও আউটডোর সেবার পরিধি বাড়ানো হবে।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে কঠোর নজরদারির ফলে মাসে রাজস্ব আয় ৮-১০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। ডিজিটাল বিলিং ও অটোমেশন চালু হলে তা ৩০ লাখ টাকা ছাড়াবে। এ সময় ডা. জাহিদ রায়হান চিকিৎসক সংকট মেটাতে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক, ৩০০ ডেন্টাল সার্জন ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। রোগীদের জন্য দ্রুতই ডিজিটাল হেলথ কার্ড চালু হবে বলেও জানান তিনি।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে যে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ৬৮২ কোটি টাকায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে হাসপাতালের ৫শ শয্যার বিপরীতে মাত্র ছয়টি বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে ২৩টি বিভাগের কার্যক্রম এখনো শুরু করা যায়নি। বর্তমানে ২ হাজার জনবলের বিপরীতে মাত্র ২৯৮ জন কর্মরত আছেন।
এদিকে ৯২ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হলেও দীর্ঘ সময় ভবন ও যন্ত্রাংশ হস্তান্তর না হওয়ায় অনেক দামি সরঞ্জাম পড়ে আছে। সিটি স্ক্যান বা এমআরআইয়ের মতো সেবা এখনো চালু হয়নি। এ ছাড়া বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনা এবং বেনামি ব্র্যান্ডের কম্পিউটার সরবরাহের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
সভায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আকুল উদ্দিন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ ড্যাব ও অন্যান্য চিকিৎসক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন