ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিন দিন ভেঙে পড়ছে চিকিৎসাসেবা। জেলা ও আশপাশের অঞ্চলের প্রধান এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি বর্তমানে একরকম অভিভাবকহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না, উল্টো পদে পদে ভোগান্তি ও অনিয়মের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগে একশ্রেণির চিকিৎসক কর্মস্থলে সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকছেন না। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত চেম্বার ও আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বেশি সময় দিচ্ছেন। এমনকি জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন—এমন রোগীদেরও নানা কৌশলে হাসপাতালের সামনের বেসরকারি ক্লিনিকে স্থানান্তরে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এসব ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে সম্প্রতি একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি বেসরকারি ক্লিনিকের সঙ্গে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসকদের একটি অংশের অসাধু সিন্ডিকেট রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়েও চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ঢোকার প্রধান পথ থেকে ভেতরের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে পার্ক করে রাখা হচ্ছে অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স। ফলে পুরো হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের চেয়ে অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড বলেই মনে হয়। এর সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা জমে তৈরি হয়েছে নোংরা পরিবেশ। প্রবেশপথ ও ভেতরের চত্বরে গড়ে উঠেছে অবৈধ অস্থায়ী দোকানপাট, যা উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, দোকান ও অ্যাম্বুলেন্স থেকে চাঁদা আদায় করা হয়, যার ভাগ রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায় বলে তাদের অভিযোগ। এ কারণেই পরিবেশ বেহাল বলে মনে করেন তারা। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে সবার সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে হাসপাতালের পরিবেশ ও অবৈধ দখল প্রসঙ্গে উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, হাসপাতালের ভেতরের বিশৃঙ্খলা, যত্রতত্র অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং এবং আশপাশের অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মাসিক সভায় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই জেলা প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মফিউজ্জামান চৌধুরী সোহান জানান, হাসপাতাল পরিচালনার যাবতীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের এখতিয়ার মূলত পরিচালকের ওপরই ন্যস্ত।
এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের অচলাবস্থা নিরসন ও স্বাস্থ্যসেবার মান ফিরিয়ে আনতে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের নাগরিকেরা।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিন দিন ভেঙে পড়ছে চিকিৎসাসেবা। জেলা ও আশপাশের অঞ্চলের প্রধান এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি বর্তমানে একরকম অভিভাবকহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না, উল্টো পদে পদে ভোগান্তি ও অনিয়মের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগে একশ্রেণির চিকিৎসক কর্মস্থলে সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকছেন না। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত চেম্বার ও আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বেশি সময় দিচ্ছেন। এমনকি জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন—এমন রোগীদেরও নানা কৌশলে হাসপাতালের সামনের বেসরকারি ক্লিনিকে স্থানান্তরে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এসব ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে সম্প্রতি একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি বেসরকারি ক্লিনিকের সঙ্গে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসকদের একটি অংশের অসাধু সিন্ডিকেট রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়েও চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ঢোকার প্রধান পথ থেকে ভেতরের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে পার্ক করে রাখা হচ্ছে অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স। ফলে পুরো হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের চেয়ে অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড বলেই মনে হয়। এর সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা জমে তৈরি হয়েছে নোংরা পরিবেশ। প্রবেশপথ ও ভেতরের চত্বরে গড়ে উঠেছে অবৈধ অস্থায়ী দোকানপাট, যা উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, দোকান ও অ্যাম্বুলেন্স থেকে চাঁদা আদায় করা হয়, যার ভাগ রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায় বলে তাদের অভিযোগ। এ কারণেই পরিবেশ বেহাল বলে মনে করেন তারা। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে সবার সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে হাসপাতালের পরিবেশ ও অবৈধ দখল প্রসঙ্গে উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, হাসপাতালের ভেতরের বিশৃঙ্খলা, যত্রতত্র অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং এবং আশপাশের অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মাসিক সভায় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই জেলা প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মফিউজ্জামান চৌধুরী সোহান জানান, হাসপাতাল পরিচালনার যাবতীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের এখতিয়ার মূলত পরিচালকের ওপরই ন্যস্ত।
এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের অচলাবস্থা নিরসন ও স্বাস্থ্যসেবার মান ফিরিয়ে আনতে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের নাগরিকেরা।

আপনার মতামত লিখুন