বিগত পাঁচ মাস ধরে আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল সৌদি আরব। ইরানের ড্রোন হামলার পরও যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছিল রিয়াদ। কিন্তু এখন দেশটি চারপাশ থেকে শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে। ইরান, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের ত্রিমুখী হামলায় শেষ পর্যন্ত নীরবতা ভাঙতে বাধ্য হলো রিয়াদ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে সৌদি যুদ্ধবিমান। এর আগে গত সোমবার সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল শোধনাগার কেন্দ্র আবকাইক ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদির তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এতে ইয়ানবু বন্দর হয়ে এশিয়ায় জ্বালানি রফতানির পরিকল্পনা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। রিয়াদ অতীতে সাত বছর হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল এবং ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও স্থায়ী শান্তি আসেনি।
হুতিরা মূলত একটি শিয়া ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন, যা ১৯৯০-এর দশকে ইয়েমেনে উদ্ভূত হয়েছিল। তারা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে এবং ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপকে প্রতিহত করছে।
অন্যদিকে ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থি মিলিশিয়ারা সোমবার ও মঙ্গলবার রিয়াদসহ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলা চালায়। ইরাকের এই মিলিশিয়ারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা পরিচালিত বলে দাবি করছে সেন্টকম। জবাবে রিয়াদ ধৈর্য হারিয়ে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব বিপুল সামরিক ব্যয় সত্ত্বেও চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র মুখ ফিরিয়ে নিলে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্যের মুখোমুখি হওয়ার ভয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৌদি পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলেছে
২০১৯ সালে আবকাইক তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা রিয়াদ ভোলে যায়নি। বিশ্বে দৈনিক যত অপরিশোধিত তেল কেনাবেচা ও ব্যবহার করা হয়, তার শতকরা ৫ ভাগ একাই এই আবকাইক শোধনাগার থেকে প্রক্রিয়াজাত হয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্টকম এই যৌথ পদক্ষেপকে ইরানের আইআরজিসি দ্বারা পরিচালিত ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জোরালো জবাব বলে উল্লেখ করেছে। শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষার জন্য কতটা ছাড় দেওয়া সম্ভব, সেই হিসাব কষেই পাল্টা আক্রমণের কঠোর পথে হাঁটতে শুরু করেছে রিয়াদ।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
বিগত পাঁচ মাস ধরে আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল সৌদি আরব। ইরানের ড্রোন হামলার পরও যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছিল রিয়াদ। কিন্তু এখন দেশটি চারপাশ থেকে শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে। ইরান, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের ত্রিমুখী হামলায় শেষ পর্যন্ত নীরবতা ভাঙতে বাধ্য হলো রিয়াদ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে সৌদি যুদ্ধবিমান। এর আগে গত সোমবার সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল শোধনাগার কেন্দ্র আবকাইক ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদির তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এতে ইয়ানবু বন্দর হয়ে এশিয়ায় জ্বালানি রফতানির পরিকল্পনা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। রিয়াদ অতীতে সাত বছর হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল এবং ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও স্থায়ী শান্তি আসেনি।
হুতিরা মূলত একটি শিয়া ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন, যা ১৯৯০-এর দশকে ইয়েমেনে উদ্ভূত হয়েছিল। তারা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে এবং ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপকে প্রতিহত করছে।
অন্যদিকে ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থি মিলিশিয়ারা সোমবার ও মঙ্গলবার রিয়াদসহ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলা চালায়। ইরাকের এই মিলিশিয়ারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা পরিচালিত বলে দাবি করছে সেন্টকম। জবাবে রিয়াদ ধৈর্য হারিয়ে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব বিপুল সামরিক ব্যয় সত্ত্বেও চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র মুখ ফিরিয়ে নিলে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্যের মুখোমুখি হওয়ার ভয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৌদি পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলেছে
২০১৯ সালে আবকাইক তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা রিয়াদ ভোলে যায়নি। বিশ্বে দৈনিক যত অপরিশোধিত তেল কেনাবেচা ও ব্যবহার করা হয়, তার শতকরা ৫ ভাগ একাই এই আবকাইক শোধনাগার থেকে প্রক্রিয়াজাত হয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্টকম এই যৌথ পদক্ষেপকে ইরানের আইআরজিসি দ্বারা পরিচালিত ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জোরালো জবাব বলে উল্লেখ করেছে। শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষার জন্য কতটা ছাড় দেওয়া সম্ভব, সেই হিসাব কষেই পাল্টা আক্রমণের কঠোর পথে হাঁটতে শুরু করেছে রিয়াদ।

আপনার মতামত লিখুন