যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। বিশেষ করে বুলগেরিয়ার ওপর তেহরানের সাম্প্রতিক কড়া নজরদারি ও হুঁশিয়ারি নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি ইউরোপের কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূমি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সুযোগ করে দেয়, তবে সেই দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সম্প্রতি প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানায়, পূর্ব ইউরোপে ইরানের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও বুলগেরিয়া এখন তেহরানের নিশানায় রয়েছে। এর প্রধান কারণ দেশটির বেজমের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে সহায়তা দিচ্ছে। যদিও বুলগেরিয়া সম্প্রতি ওই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু সোমবার ইরান ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছে, “যেকোনো আগ্রাসনের উৎসস্থলে পাল্টা আঘাত হানার অধিকার ইরানের রয়েছে।”
এর আগে গত মার্চ মাসে সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইরান। একই মাসে ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তুরস্কও জানিয়েছিল, তাদের আকাশসীমা দিয়ে উড়ে যাওয়া বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ইউরোপকে হামলার ভয় দেখালেও তারা এখনই ন্যাটোকে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। দুবাইয়ে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ অ্যালান আয়ার বলেন, “ইরান এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে। তাদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হবে উপযোগিতার ভিত্তিতে। ইউরোপে হামলা করলে তারা বাড়তি কী সুবিধা পাবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।”
সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিসের সিনিয়র ফেলো ডেভিড ক্যাটলার মনে করেন, ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হবে তেহরানের জন্য বড় কৌশলগত ভুল। কারণ, এখন পর্যন্ত ইউরোপের অনেক দেশ এই যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে, কিন্তু হামলা হলে তারা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়বে। তবে হামলার চেয়েও তেহরানের ‘হুমকি’ দেওয়ার কৌশলটি বেশি কার্যকর হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে মিত্রদের মধ্যে ফাটল ধরাতে পারে।
এদিকে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরানকে কোণঠাসা করতে নতুন কৌশল নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গত সপ্তাহে ইরানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ (Economic D-Day) দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ (Operation Economic Outcast) ঘোষণা করেছেন। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক রাখবে, তাদের মার্কিন ডলার ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।
ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, তারা প্রয়োজন হলে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানে ফিরতে প্রস্তুত। তবে আমেরিকার অস্ত্র মজুত কমে যাওয়া নিয়ে পেন্টাগনের ভেতরেই উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক অবরোধের মুখেও নতি স্বীকার করতে রাজি নয় ইরান। দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রী আলী মাদানজাদেহ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, “আমরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের প্রতিরক্ষা কৌশল এখন আর শুধু আত্মরক্ষামূলক নয়; শত্রুদের এখন আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।”
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও গত মাসে তা ভেস্তে যায়। এরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। ওমানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সুফল আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক সংঘাত এখন অনেকটা অর্থনৈতিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বন্ড মার্কেটে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: দ্য হিল
/

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। বিশেষ করে বুলগেরিয়ার ওপর তেহরানের সাম্প্রতিক কড়া নজরদারি ও হুঁশিয়ারি নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি ইউরোপের কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূমি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সুযোগ করে দেয়, তবে সেই দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সম্প্রতি প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানায়, পূর্ব ইউরোপে ইরানের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও বুলগেরিয়া এখন তেহরানের নিশানায় রয়েছে। এর প্রধান কারণ দেশটির বেজমের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে সহায়তা দিচ্ছে। যদিও বুলগেরিয়া সম্প্রতি ওই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু সোমবার ইরান ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছে, “যেকোনো আগ্রাসনের উৎসস্থলে পাল্টা আঘাত হানার অধিকার ইরানের রয়েছে।”
এর আগে গত মার্চ মাসে সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইরান। একই মাসে ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তুরস্কও জানিয়েছিল, তাদের আকাশসীমা দিয়ে উড়ে যাওয়া বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ইউরোপকে হামলার ভয় দেখালেও তারা এখনই ন্যাটোকে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। দুবাইয়ে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ অ্যালান আয়ার বলেন, “ইরান এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে। তাদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হবে উপযোগিতার ভিত্তিতে। ইউরোপে হামলা করলে তারা বাড়তি কী সুবিধা পাবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।”
সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিসের সিনিয়র ফেলো ডেভিড ক্যাটলার মনে করেন, ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হবে তেহরানের জন্য বড় কৌশলগত ভুল। কারণ, এখন পর্যন্ত ইউরোপের অনেক দেশ এই যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে, কিন্তু হামলা হলে তারা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়বে। তবে হামলার চেয়েও তেহরানের ‘হুমকি’ দেওয়ার কৌশলটি বেশি কার্যকর হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে মিত্রদের মধ্যে ফাটল ধরাতে পারে।
এদিকে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরানকে কোণঠাসা করতে নতুন কৌশল নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গত সপ্তাহে ইরানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ (Economic D-Day) দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ (Operation Economic Outcast) ঘোষণা করেছেন। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক রাখবে, তাদের মার্কিন ডলার ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।
ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, তারা প্রয়োজন হলে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানে ফিরতে প্রস্তুত। তবে আমেরিকার অস্ত্র মজুত কমে যাওয়া নিয়ে পেন্টাগনের ভেতরেই উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক অবরোধের মুখেও নতি স্বীকার করতে রাজি নয় ইরান। দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রী আলী মাদানজাদেহ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, “আমরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের প্রতিরক্ষা কৌশল এখন আর শুধু আত্মরক্ষামূলক নয়; শত্রুদের এখন আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।”
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও গত মাসে তা ভেস্তে যায়। এরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। ওমানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সুফল আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক সংঘাত এখন অনেকটা অর্থনৈতিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বন্ড মার্কেটে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: দ্য হিল
/

আপনার মতামত লিখুন