সংবাদ

কেবল প্রেম-রোমান্সের নাটক-সিনেমা বন্ধের রিট হাইকোর্টে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

কেবল প্রেম-রোমান্সের নাটক-সিনেমা বন্ধের রিট হাইকোর্টে

যুবসমাজের ‘নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী’ করতে দেশের গণমাধ্যমে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্টদের বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না পাওয়ায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।

আবেদনে বলা হয়, বর্তমান ধারার চলচ্চিত্র ও নাটকে মাত্রাতিরিক্ত রোমান্স, পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে রিটে দাবি করা হয়, লাগামহীন এসব কনটেন্ট যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং নারীর প্রতি সহিংসতাসহ অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার ও পড়ালেখা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।

রিটকারী আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন যুক্তিতে তুলে ধরেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও জননৈতিকতা ও শালীনতার স্বার্থে যুক্তিসংগত নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রয়েছে। অপরাধে প্ররোচনাকারী কনটেন্ট এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। এছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

আবেদনে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩’-এর ৫(২) ও ৮(১) ধারা এবং ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর ১৯ ও ২০ ধারা অনুযায়ী মূল্যবোধ পরিপন্থী কনটেন্ট বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে আইনগত দায়িত্বপালনে ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করা হয়।

কেবল প্রেমভিত্তিক নির্মাণ বন্ধের পাশাপাশি যুবসমাজের সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেম জাগাতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচার বাধ্যতামূলক করতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কেবল প্রেম-রোমান্সের নাটক-সিনেমা বন্ধের রিট হাইকোর্টে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

যুবসমাজের ‘নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী’ করতে দেশের গণমাধ্যমে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্টদের বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না পাওয়ায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।

আবেদনে বলা হয়, বর্তমান ধারার চলচ্চিত্র ও নাটকে মাত্রাতিরিক্ত রোমান্স, পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে রিটে দাবি করা হয়, লাগামহীন এসব কনটেন্ট যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং নারীর প্রতি সহিংসতাসহ অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার ও পড়ালেখা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।

রিটকারী আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন যুক্তিতে তুলে ধরেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও জননৈতিকতা ও শালীনতার স্বার্থে যুক্তিসংগত নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রয়েছে। অপরাধে প্ররোচনাকারী কনটেন্ট এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। এছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

আবেদনে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩’-এর ৫(২) ও ৮(১) ধারা এবং ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর ১৯ ও ২০ ধারা অনুযায়ী মূল্যবোধ পরিপন্থী কনটেন্ট বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে আইনগত দায়িত্বপালনে ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করা হয়।

কেবল প্রেমভিত্তিক নির্মাণ বন্ধের পাশাপাশি যুবসমাজের সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেম জাগাতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচার বাধ্যতামূলক করতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত