ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সংঘাত বাধলে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে পারে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (প্রিএসএম)। দুইটি সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র এসব অস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলেছে।
সামরিক বাহিনীর এটিএসিএএমএস ও প্রিএসএম ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কতটা কমে গেছে, সে তথ্য এর আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। দূরপাল্লার এসব গোলাবারুদ মার্কিন সামরিক অস্ত্রভান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিরাপদ দূরত্ব থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে সক্ষম এই অস্ত্রগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুতের একটি বড় অংশ ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ৪৫ শতাংশের বেশি মজুত কমেছে, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর প্রায় ৫০ শতাংশ মজুত কমেছে আর থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অর্ধেকের বেশি মজুত কমেছে।একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিস্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
সিএসআইএসের প্রতিবেদন বলছে, এমনকি পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকলেও যুদ্ধের আগের স্তরে মজুত ফিরিয়ে আনতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় প্রয়োজন।
যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে প্রায় ৩০০০-৪০০০ 'টমাহক' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ২০২৬ অর্থবছরে এর উৎপাদন ছিল মাত্র ১১০টি। এক দিনের যুদ্ধে যেখানে ২০০-এর বেশি টমাহক নিক্ষেপ করা হচ্ছে, সেখানে এক বছরের উৎপাদন মাত্র চার দিনের যুদ্ধের জন্যও যথেষ্ট নয়।
এমনকি ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরের মজুতও শেষের দিকে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের আগে মজুত পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে’ এবং ‘আমাদের প্রয়োজনের তুলনায়ও অনেক বেশি।’
বিশ্লেষকেরা একমত যে, আর্টিলারি শেল ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে তাদের সতর্কতা, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের চাহিদা মেটাতে এই উৎপাদনও যথেষ্ট নাও হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে প্রতিটি ধরনের কতটি ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, তা অজ্ঞাত। তবে এটিএসিএএমএস ও প্রিএসএম প্রায় শেষের দিকে। এর ফলে রাশিয়া ও চীনসহ প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিবৃত্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। তখন তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, সংঘাতটি স্বল্প সময়ের হবে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সংঘাত বাধলে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে পারে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (প্রিএসএম)। দুইটি সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র এসব অস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহার করে ফেলেছে।
সামরিক বাহিনীর এটিএসিএএমএস ও প্রিএসএম ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কতটা কমে গেছে, সে তথ্য এর আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। দূরপাল্লার এসব গোলাবারুদ মার্কিন সামরিক অস্ত্রভান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিরাপদ দূরত্ব থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে সক্ষম এই অস্ত্রগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুতের একটি বড় অংশ ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ৪৫ শতাংশের বেশি মজুত কমেছে, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর প্রায় ৫০ শতাংশ মজুত কমেছে আর থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অর্ধেকের বেশি মজুত কমেছে।একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিস্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
সিএসআইএসের প্রতিবেদন বলছে, এমনকি পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকলেও যুদ্ধের আগের স্তরে মজুত ফিরিয়ে আনতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় প্রয়োজন।
যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে প্রায় ৩০০০-৪০০০ 'টমাহক' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ২০২৬ অর্থবছরে এর উৎপাদন ছিল মাত্র ১১০টি। এক দিনের যুদ্ধে যেখানে ২০০-এর বেশি টমাহক নিক্ষেপ করা হচ্ছে, সেখানে এক বছরের উৎপাদন মাত্র চার দিনের যুদ্ধের জন্যও যথেষ্ট নয়।
এমনকি ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরের মজুতও শেষের দিকে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের আগে মজুত পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে’ এবং ‘আমাদের প্রয়োজনের তুলনায়ও অনেক বেশি।’
বিশ্লেষকেরা একমত যে, আর্টিলারি শেল ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে তাদের সতর্কতা, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের চাহিদা মেটাতে এই উৎপাদনও যথেষ্ট নাও হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে প্রতিটি ধরনের কতটি ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, তা অজ্ঞাত। তবে এটিএসিএএমএস ও প্রিএসএম প্রায় শেষের দিকে। এর ফলে রাশিয়া ও চীনসহ প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিবৃত্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। তখন তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, সংঘাতটি স্বল্প সময়ের হবে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন