ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দীর্ঘ আন্দোলনের পর এবার আরও তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। আজ মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের নির্দেশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছ থেকেই এসেছিল। এই অভিযোগের পক্ষে তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
দিপকে বলেন, ‘অমিত শাহের অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিত। যদি সরকার দাবি করে আমাদের আন্দোলনের পিছনে বিদেশি অর্থ বা বাইরের শক্তি রয়েছে, তাহলে সেটাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা। আর ছাত্রদের উপর বলপ্রয়োগের নির্দেশও তাঁর থেকেই এসেছে বলে আমি মনে করি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্র বিপদের মুখে এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এবং হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই এখন শুধু বিরোধীদের নয়, সাধারণ মানুষেরও।”
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর নিয়োগ নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন দিপকে। তাঁর অভিযোগ, “যদি দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্ষকদের প্রশংসা করেন, তাহলে বোঝা যায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরিবর্তে আরেকজন অদ্ভুত মানুষকে আনা হয়েছে।” যদিও এই মন্তব্যের সমর্থনে তিনি নির্দিষ্ট কোনও ঘটনার উল্লেখ করেননি।
যোগগুরু বাবা রামদেব সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, জেন-জি ভারতের সংস্কৃতিকে কলঙ্কিত করছে। তার জবাবে দিপকে বলেন, “আমরা গান্ধীজি ও আম্বেদকরের ছবি নিয়ে সাংবিধানিকভাবে আন্দোলন করেছি। এটাকে যদি সংস্কৃতির অপমান বলা হয়, তাহলে সেটাই করেছি। বাবা রামদেবের উচিত পতঞ্জলির ব্যবসার দিকেই নজর দেওয়া।”
দিপকের আরও দাবি, আন্দোলনের আগে দিল্লি পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাস্থলের কাছে পাথরভর্তি ট্রাক এনে রেখেছিল, যাতে পরে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পাথর ছোড়ার অভিযোগ আনা যায়। তিনি বলেন, “আমি নিজে সেই ট্রাক দেখেছি এবং পুলিশের কাছে প্রশ্নও করেছি। তারা বলেছিল নির্মাণস্থলের ধ্বংসাবশেষ। কিন্তু আমার মতে, ছাত্রদের ফাঁসানোর পরিকল্পনার অংশ ছিল এটি।”
দিপকে জানান, ভবিষ্যতে কৃষক আন্দোলনে প্রয়োজন হলে সিজেপি পাশে থাকবে। তার কথায়, “আমিও কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষকদের সন্তানদের ভবিষ্যতের প্রশ্নও আমাদের আন্দোলনের অংশ।”
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর আন্দোলন আপাতত স্থগিত হয়েছে। তবে অভিজিৎ দিপকের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এখন বিষয়টিকে বৃহত্তর গণতন্ত্র, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং কেন্দ্রের ভূমিকার প্রশ্নে নিয়ে যেতে চাইছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অমিত শাহ, দিল্লি পুলিশ, বিজেপি এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি অভিজিৎ দিপকের বক্তব্য ও দাবি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির তরফে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি l

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দীর্ঘ আন্দোলনের পর এবার আরও তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। আজ মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের নির্দেশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছ থেকেই এসেছিল। এই অভিযোগের পক্ষে তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
দিপকে বলেন, ‘অমিত শাহের অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিত। যদি সরকার দাবি করে আমাদের আন্দোলনের পিছনে বিদেশি অর্থ বা বাইরের শক্তি রয়েছে, তাহলে সেটাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা। আর ছাত্রদের উপর বলপ্রয়োগের নির্দেশও তাঁর থেকেই এসেছে বলে আমি মনে করি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্র বিপদের মুখে এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এবং হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই এখন শুধু বিরোধীদের নয়, সাধারণ মানুষেরও।”
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর নিয়োগ নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন দিপকে। তাঁর অভিযোগ, “যদি দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্ষকদের প্রশংসা করেন, তাহলে বোঝা যায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরিবর্তে আরেকজন অদ্ভুত মানুষকে আনা হয়েছে।” যদিও এই মন্তব্যের সমর্থনে তিনি নির্দিষ্ট কোনও ঘটনার উল্লেখ করেননি।
যোগগুরু বাবা রামদেব সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, জেন-জি ভারতের সংস্কৃতিকে কলঙ্কিত করছে। তার জবাবে দিপকে বলেন, “আমরা গান্ধীজি ও আম্বেদকরের ছবি নিয়ে সাংবিধানিকভাবে আন্দোলন করেছি। এটাকে যদি সংস্কৃতির অপমান বলা হয়, তাহলে সেটাই করেছি। বাবা রামদেবের উচিত পতঞ্জলির ব্যবসার দিকেই নজর দেওয়া।”
দিপকের আরও দাবি, আন্দোলনের আগে দিল্লি পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাস্থলের কাছে পাথরভর্তি ট্রাক এনে রেখেছিল, যাতে পরে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পাথর ছোড়ার অভিযোগ আনা যায়। তিনি বলেন, “আমি নিজে সেই ট্রাক দেখেছি এবং পুলিশের কাছে প্রশ্নও করেছি। তারা বলেছিল নির্মাণস্থলের ধ্বংসাবশেষ। কিন্তু আমার মতে, ছাত্রদের ফাঁসানোর পরিকল্পনার অংশ ছিল এটি।”
দিপকে জানান, ভবিষ্যতে কৃষক আন্দোলনে প্রয়োজন হলে সিজেপি পাশে থাকবে। তার কথায়, “আমিও কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষকদের সন্তানদের ভবিষ্যতের প্রশ্নও আমাদের আন্দোলনের অংশ।”
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর আন্দোলন আপাতত স্থগিত হয়েছে। তবে অভিজিৎ দিপকের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এখন বিষয়টিকে বৃহত্তর গণতন্ত্র, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং কেন্দ্রের ভূমিকার প্রশ্নে নিয়ে যেতে চাইছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অমিত শাহ, দিল্লি পুলিশ, বিজেপি এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি অভিজিৎ দিপকের বক্তব্য ও দাবি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির তরফে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি l

আপনার মতামত লিখুন