কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির বিস্কুট সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই থেকে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রাণ ডেইরি লিমিটেড’ বিস্কুট সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্কুট না পেয়ে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিকল্প হিসেবে কলা দেওয়া হচ্ছে।
গাবুর হেলান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের মূল আকর্ষণ হচ্ছে বিস্কুট। এর সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে, কিন্তু আমরা নিজেরাও সঠিক কারণ জানি না।’
একই উদ্বেগের কথা জানান অভিভাবক এনামুল হক সরকার। তিনি বলেন, নিয়মিত বিস্কুট না পাওয়ায় শিশুরা স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছে। পুষ্টি ও উপস্থিতির হার ধরে রাখতে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়মিত হওয়া জরুরি।
পুটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহান ইমু জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে তারা বিস্কুট পাচ্ছে না। স্যারেরা শুধু কলা খেতে দিয়েছেন।
রাজারহাট উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হৃদয় কৃষ্ণ বর্মণ বিস্কুট সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শরীফ আহম্মদ জানান, টেন্ডার-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের জানিয়েছে।
অন্যদিকে প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের স্থানীয় প্রতিনিধি আকাঈদ হোসেন দাবি করেন, গ্যাস সংকটের কারণে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় বিস্কুট উৎপাদন ও বিতরণ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
আপনার মতামত লিখুন