চায়ের রাজধানী ও পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গল শহর থেকে কালীঘাট সড়ক হয়ে ভারতীয় সীমান্তবর্তী হরিণছড়া পর্যন্ত বিস্তৃত পথটি সিন্দুরখান ও রাজঘাট ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। চা-বাগানঘেরা এ পথে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, চা-শ্রমিক, রোগী ও পর্যটকেরা।
শ্রীমঙ্গল থেকে হরিণছড়া পর্যন্ত সড়কটির বড় একটি অংশ চা-বাগানের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় তুলনামূলক ভালো থাকলেও এখন পিচ উঠে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। ফলে যানবাহন চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি জরুরি রোগী পরিবহনেও ভোগান্তি বাড়ছে। অ্যাম্বুলেন্সে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় গর্ত ও উঁচু-নিচু পথে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি সহ্য করতে হয়।
এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য চা-বাগান, যার বিস্তৃতি ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত। বাগানের শ্রমিকদের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি চা পরিবহনের জন্যও পথটি গুরুত্বপূর্ণ। বাগান থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা চা-পাতা গাড়িতে করে কারখানায় নেওয়া হয়। পরে প্রক্রিয়াজাত চা পৌঁছে দেওয়া হয় অকশন মার্কেটে। সড়কের দুরবস্থার কারণে এসব কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও চালকদেরও বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটনের জন্যও পথটির রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিদিন অনেক পর্যটক সিন্দুরখান ও রাজঘাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে যান। হরিণছড়া ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে অসংখ্য গিরিখাত ও লুকানো গুহা। এসব স্থানের অনেকগুলো এখনো দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অজানা। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও সেগুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই বলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এসব এলাকায় পর্যটনের সম্ভাবনা থাকলেও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সড়কের বেহাল দশার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা পর্যটকবাহী যান নিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে না গিয়ে শ্রীমঙ্গল শহরে ফিরে আসেন।
হ্যালো শ্রীমঙ্গল ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের কর্ণধার তাজুল ইসলাম জাভেদ বলেন, “কালীঘাট রোড হয়ে যে সড়কটি একেবারে সীমান্তঘেঁষা এলাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী। রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। খুব সহজে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যানবাহন নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।”
তাজুল ইসলাম জাভেদ বলেন, চা-বাগানের শ্রমিকদের যাতায়াতের পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচলের সুবিধার জন্য সড়কটির উন্নয়ন প্রয়োজন। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলে এই অঞ্চলে পর্যটকের আনাগোনা বাড়বে এবং পর্যটনশিল্প ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির দুরবস্থার কারণে তাঁরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। অথচ চা-শ্রমিক, রোগী, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক—বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন।গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথটির সংস্কার করা হলে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি চা-বাগানের উৎপাদন ও পরিবহনব্যবস্থা আরও গতিশীল হতে পারে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা হরিণছড়া ও আশপাশের সম্ভাবনাময় পর্যটনস্থলগুলোও পর্যটকদের কাছে আরও সহজে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চায়ের রাজধানী ও পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গল শহর থেকে কালীঘাট সড়ক হয়ে ভারতীয় সীমান্তবর্তী হরিণছড়া পর্যন্ত বিস্তৃত পথটি সিন্দুরখান ও রাজঘাট ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। চা-বাগানঘেরা এ পথে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, চা-শ্রমিক, রোগী ও পর্যটকেরা।
শ্রীমঙ্গল থেকে হরিণছড়া পর্যন্ত সড়কটির বড় একটি অংশ চা-বাগানের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় তুলনামূলক ভালো থাকলেও এখন পিচ উঠে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। ফলে যানবাহন চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি জরুরি রোগী পরিবহনেও ভোগান্তি বাড়ছে। অ্যাম্বুলেন্সে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় গর্ত ও উঁচু-নিচু পথে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি সহ্য করতে হয়।
এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য চা-বাগান, যার বিস্তৃতি ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত। বাগানের শ্রমিকদের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি চা পরিবহনের জন্যও পথটি গুরুত্বপূর্ণ। বাগান থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা চা-পাতা গাড়িতে করে কারখানায় নেওয়া হয়। পরে প্রক্রিয়াজাত চা পৌঁছে দেওয়া হয় অকশন মার্কেটে। সড়কের দুরবস্থার কারণে এসব কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও চালকদেরও বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটনের জন্যও পথটির রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিদিন অনেক পর্যটক সিন্দুরখান ও রাজঘাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে যান। হরিণছড়া ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে অসংখ্য গিরিখাত ও লুকানো গুহা। এসব স্থানের অনেকগুলো এখনো দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অজানা। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও সেগুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই বলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এসব এলাকায় পর্যটনের সম্ভাবনা থাকলেও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সড়কের বেহাল দশার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা পর্যটকবাহী যান নিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে না গিয়ে শ্রীমঙ্গল শহরে ফিরে আসেন।
হ্যালো শ্রীমঙ্গল ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের কর্ণধার তাজুল ইসলাম জাভেদ বলেন, “কালীঘাট রোড হয়ে যে সড়কটি একেবারে সীমান্তঘেঁষা এলাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী। রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। খুব সহজে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যানবাহন নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।”
তাজুল ইসলাম জাভেদ বলেন, চা-বাগানের শ্রমিকদের যাতায়াতের পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচলের সুবিধার জন্য সড়কটির উন্নয়ন প্রয়োজন। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলে এই অঞ্চলে পর্যটকের আনাগোনা বাড়বে এবং পর্যটনশিল্প ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির দুরবস্থার কারণে তাঁরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। অথচ চা-শ্রমিক, রোগী, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক—বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন।গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথটির সংস্কার করা হলে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি চা-বাগানের উৎপাদন ও পরিবহনব্যবস্থা আরও গতিশীল হতে পারে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা হরিণছড়া ও আশপাশের সম্ভাবনাময় পর্যটনস্থলগুলোও পর্যটকদের কাছে আরও সহজে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আপনার মতামত লিখুন