সংবাদ

বিএনপির দু’পক্ষে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র সিরাজগঞ্জ শহর


প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

বিএনপির দু’পক্ষে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র সিরাজগঞ্জ শহর
সিরাজগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষে সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি ভাঙচুর।

সিরাজগঞ্জ শহরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিলো ভয়াবহ সংঘর্ষে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে পুরো শহর কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের ইলিয়ট ব্রিজ, এসএস রোড, মুজিব সড়ক ও বাহিরগোলা এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শহরে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার সেই উত্তেজনা প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি বিক্ষোভ মিছিল ইলিয়ট ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ দ্রুত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আতঙ্কে আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনমনে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং বিএনপি নেতা হাজী আব্দুস সাত্তারের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে পুরাতন পোস্ট অফিস রোডে অবস্থিত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বর্তমানে বগুড়ায় অবস্থান করছি। দুপুরের দিকে আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়েছি। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা হাজী আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, “সংঘর্ষের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

শহর যুবদলের সহ-সভাপতি সোহান আহমেদ শামীম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তাদের মিছিলে হামলা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টা পরও পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এতে ঘটনাটির পেছনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক বিরোধের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার পর শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিএনপির দু’পক্ষে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র সিরাজগঞ্জ শহর

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জ শহরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিলো ভয়াবহ সংঘর্ষে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে পুরো শহর কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের ইলিয়ট ব্রিজ, এসএস রোড, মুজিব সড়ক ও বাহিরগোলা এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শহরে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার সেই উত্তেজনা প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি বিক্ষোভ মিছিল ইলিয়ট ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ দ্রুত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আতঙ্কে আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনমনে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং বিএনপি নেতা হাজী আব্দুস সাত্তারের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে পুরাতন পোস্ট অফিস রোডে অবস্থিত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বর্তমানে বগুড়ায় অবস্থান করছি। দুপুরের দিকে আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়েছি। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা হাজী আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, “সংঘর্ষের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

শহর যুবদলের সহ-সভাপতি সোহান আহমেদ শামীম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তাদের মিছিলে হামলা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টা পরও পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এতে ঘটনাটির পেছনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক বিরোধের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার পর শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত