বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যে প্রথমবারের মতো শনাক্ত করেছেন ‘এরিথ্রুলোজ’ নামক প্রাকৃতিক শর্করা। গবেষণা বলছে, প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পড়েছিল পাঁচ লাখ থেকে পাঁচ কোটি টন চিনি- যা হয়তো এনে দিয়েছিল জীবনের সূচনা।
পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা কীভাবে হলো- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা পৌঁছেছেন মহাশূন্যে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রথমবারের মতো আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে শনাক্ত হয়েছে ‘এরিথ্রুলোজ’ নামের একটি প্রাকৃতিক শর্করা, যা পৃথিবীতে রাস্পবেরি ফলে পাওয়া যায়। আর এই আবিষ্কারই নতুন করে আলো ফেলেছে কীভাবে পৃথিবীতে এলো জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান।
আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের কাছে জি+০.৬৯৩-০.০২৭ নামের এক বিশাল আণবিক মেঘে এই শর্করার সন্ধান পান স্পেনের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ইয়েবেস ৪০ মিটার এবং আইআরএএম ৩০ মিটার রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তারা অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যবেক্ষণ চালান।
গবেষক দলের প্রধান ইজাসকুন জিমেনেজ সেরা বলেন, ‘এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে অপেক্ষাকৃত জটিল শর্করা নক্ষত্র ও গ্রহের জন্মের আগেই মহাশূন্যে তৈরি হতে পারে।’
গবেষণায় দেখা গেছে, এই শর্করা মহাশূন্যে ধুলাকণার বরফের ওপর তৈরি হয়। সেখানে সরল দ্বি-কার্বন অ্যালকোহল ও অ্যালডিহাইড যৌগ বিকিরণের প্রভাবে যুক্ত হয়ে তৈরি করে চার-কার্বনবিশিষ্ট এরিথ্রুলোজ।
গবেষকেরা গণনা করে দেখেছেন, এই শর্করা যে পরিমাণে মহাশূন্যে রয়েছে, তার ভিত্তিতে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে ‘লেট হেভি বোম্বার্ডমেন্ট’-এর সময় পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে পাঁচ লাখ থেকে পাঁচ কোটি টন এরিথ্রুলোজ। সেই সময় অসংখ্য গ্রহাণু ও ধূমকেতু পৃথিবীতে আঘাত হানছিল।
এই বিপুল পরিমাণ শর্করা তখনকার আদিম পৃথিবীর রাসায়নিক বিক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল- যার ফলশ্রুতিতে কোটি কোটি বছর পরে জন্ম নিয়েছে প্রাণের প্রথম রূপ।
গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো- বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যে তিন-কার্বনের সহজ শর্করা খুঁজছিলেন, কিন্তু পেয়ে গেলেন আরও জটিল চার-কার্বনের এরিথ্রুলোজ। এটি অন্তত ৮ থেকে ১৭ গুণ বেশি পরিমাণে রয়েছে তিন-কার্বন শর্করার চেয়ে।
জিমেনেজ সেরা বলেন, ‘এই ফলাফল প্রচলিত ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করছে। মহাশূন্যে জটিল জৈব অণু তৈরির প্রক্রিয়া হয়তো আমাদের কল্পনার চেয়েও ভিন্ন।’
যদি মহাশূন্যে স্বাভাবিকভাবে জটিল শর্করা তৈরি হতে পারে, তবে অন্য নক্ষত্রের গ্রহেও জীবনের প্রয়োজনীয় উপাদান পৌঁছাতে পারে। গবেষণার সহ-লেখক কার্লোস ব্রিওনেস বলেন, ‘এরিথ্রুলোজ শনাক্ত করা অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ, কারণ এটি মহাশূন্যে আরও অন্যান্য শর্করা—যেমন আরএনএ-র অংশ রাইবোজ- আবিষ্কারের সম্ভাবনা উন্মোচন করে।’
অর্থাৎ, মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব হয়তো আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি স্বাভাবিক কোনো বিষয়। নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা জীবনের উৎপত্তি নিয়ে অনুসন্ধানে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যে প্রথমবারের মতো শনাক্ত করেছেন ‘এরিথ্রুলোজ’ নামক প্রাকৃতিক শর্করা। গবেষণা বলছে, প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পড়েছিল পাঁচ লাখ থেকে পাঁচ কোটি টন চিনি- যা হয়তো এনে দিয়েছিল জীবনের সূচনা।
পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা কীভাবে হলো- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা পৌঁছেছেন মহাশূন্যে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রথমবারের মতো আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে শনাক্ত হয়েছে ‘এরিথ্রুলোজ’ নামের একটি প্রাকৃতিক শর্করা, যা পৃথিবীতে রাস্পবেরি ফলে পাওয়া যায়। আর এই আবিষ্কারই নতুন করে আলো ফেলেছে কীভাবে পৃথিবীতে এলো জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান।
আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের কাছে জি+০.৬৯৩-০.০২৭ নামের এক বিশাল আণবিক মেঘে এই শর্করার সন্ধান পান স্পেনের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ইয়েবেস ৪০ মিটার এবং আইআরএএম ৩০ মিটার রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তারা অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যবেক্ষণ চালান।
গবেষক দলের প্রধান ইজাসকুন জিমেনেজ সেরা বলেন, ‘এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে অপেক্ষাকৃত জটিল শর্করা নক্ষত্র ও গ্রহের জন্মের আগেই মহাশূন্যে তৈরি হতে পারে।’
গবেষণায় দেখা গেছে, এই শর্করা মহাশূন্যে ধুলাকণার বরফের ওপর তৈরি হয়। সেখানে সরল দ্বি-কার্বন অ্যালকোহল ও অ্যালডিহাইড যৌগ বিকিরণের প্রভাবে যুক্ত হয়ে তৈরি করে চার-কার্বনবিশিষ্ট এরিথ্রুলোজ।
গবেষকেরা গণনা করে দেখেছেন, এই শর্করা যে পরিমাণে মহাশূন্যে রয়েছে, তার ভিত্তিতে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে ‘লেট হেভি বোম্বার্ডমেন্ট’-এর সময় পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে পাঁচ লাখ থেকে পাঁচ কোটি টন এরিথ্রুলোজ। সেই সময় অসংখ্য গ্রহাণু ও ধূমকেতু পৃথিবীতে আঘাত হানছিল।
এই বিপুল পরিমাণ শর্করা তখনকার আদিম পৃথিবীর রাসায়নিক বিক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল- যার ফলশ্রুতিতে কোটি কোটি বছর পরে জন্ম নিয়েছে প্রাণের প্রথম রূপ।
গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো- বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যে তিন-কার্বনের সহজ শর্করা খুঁজছিলেন, কিন্তু পেয়ে গেলেন আরও জটিল চার-কার্বনের এরিথ্রুলোজ। এটি অন্তত ৮ থেকে ১৭ গুণ বেশি পরিমাণে রয়েছে তিন-কার্বন শর্করার চেয়ে।
জিমেনেজ সেরা বলেন, ‘এই ফলাফল প্রচলিত ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করছে। মহাশূন্যে জটিল জৈব অণু তৈরির প্রক্রিয়া হয়তো আমাদের কল্পনার চেয়েও ভিন্ন।’
যদি মহাশূন্যে স্বাভাবিকভাবে জটিল শর্করা তৈরি হতে পারে, তবে অন্য নক্ষত্রের গ্রহেও জীবনের প্রয়োজনীয় উপাদান পৌঁছাতে পারে। গবেষণার সহ-লেখক কার্লোস ব্রিওনেস বলেন, ‘এরিথ্রুলোজ শনাক্ত করা অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ, কারণ এটি মহাশূন্যে আরও অন্যান্য শর্করা—যেমন আরএনএ-র অংশ রাইবোজ- আবিষ্কারের সম্ভাবনা উন্মোচন করে।’
অর্থাৎ, মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব হয়তো আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি স্বাভাবিক কোনো বিষয়। নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা জীবনের উৎপত্তি নিয়ে অনুসন্ধানে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

আপনার মতামত লিখুন