নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক দিনমজুরকে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন ও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (৪ অগস্ট) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা মোড়ের একটি দোকান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম জিহাদ (২৬) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক। গ্রেপ্তার অন্য ছয়জন তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা হলেন-রমজান আলী (২৩), মো. আল আমিন (২২), গোলাম কিবরিয়া জয় (২১), রবিউল ইসলাম (২৪), মো. লোকমান (২৩) ও মো. আরমান (২২)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলামের (২৫) বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে দিনমজুরের কাজ করেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সিআইখোলা বউ বাজার এলাকা থেকে জাহিদুল ও তার সহযোগীরা তাঁকে তুলে নিয়ে যান। এরপর সিআইখোলা মোড়ের একটি দোকানে তাকে আটকে রেখে রাতভর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা।
অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা রফিকুলকে তার পরিবারের কাছে টাকা জোগাড় করতে বলেন। আজ মঙ্গলবার সকালে রফিকুল কৌশলে তার চাচা হাদিস মিয়াকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। ঘটনা শুনে হাদিস মিয়া দ্রুত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশকে অবহিত করেন। পরে দুপুর দুইটার দিকে পুলিশ ওই দোকানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে রফিকুলকে উদ্ধার এবং হাতেনাতে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।
বিকেলে ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার সাতজন ছাড়াও আরও তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন