সংবাদ

বেনাপোল দিয়ে এলো ৩৮ হাজার কেজি কাঁচা মরিচ, কমেছে দাম


প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

বেনাপোল দিয়ে এলো ৩৮ হাজার কেজি কাঁচা মরিচ, কমেছে দাম
ছবি : সংবাদ

দেশে অতিবৃষ্টির কারণে হঠাৎ কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ট্রাকে ৩৮ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচা মরিচ বন্দরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এসেছে ২৯ হাজার ২২০ কেজি এবং সোমবার (৩ আগস্ট) এসেছিল ৯ হাজার ২০০ কেজি।

বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালানগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। এসব চালানের আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ ও রয়্যাল এন্টারপ্রাইজ। বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স ও রয়্যাল এন্টারপ্রাইজ।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক ট্রাক কাঁচা মরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার সেগুলো বন্দরে প্রবেশ করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মরিচ আমদানিকারকরা আমদানিকৃত ইনভয়েসে (ক্রয়মূল্য) প্রতি কেজির দাম দেখাচ্ছেন ২৫ থেকে ৪০ টাকা। কিন্তু যে দামেই কেনা হোক না কেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতি কেজি দশমিক ৫০ ডলারে শুল্কায়ন করায় মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৬১.৭৮ টাকা। এর ওপর ইনস্যুরেন্স ও ল্যান্ডিং চার্জ যোগ হয়ে ডিউটি (শুল্ক) নেওয়া হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৩ টাকার ওপরে ৩৮ টাকা ৪৪ পয়সা। সেই হিসেবে কেনা দাম ও শুল্ক দিয়ে প্রতি কেজি মরিচের দাম পড়ছে ৬৪ টাকা থেকে ৭৯ টাকা।

এরপর ভারতীয় রপ্তানিকারকের খরচ, ট্রাকভাড়া, এ দেশের এলসি খোলার ব্যাংক খরচ, ডলার মূল্যের সমন্বয়, শ্রমিক খরচসহ কাস্টমস, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খরচ এবং ঢাকায় পাঠানোর ট্রাকভাড়াসহ প্রতি কেজিতে খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সব মিলিয়ে এক কেজি মরিচের দাম পড়ছে ১৩৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। এবার আমদানিকারক নিজের লাভ ধরে বাজারে বিক্রি করছেন ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।

মরিচ আমদানিকারক শাহজাহান জানান, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে বাজারে বিক্রি করছেন। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরও কমে আসবে। তবে পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর ও খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন।

অন্য এক মরিচ আমদানিকারক রয়্যাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভারত থেকে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে কিনে আনি। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেটির ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করেছে ৬১.৭৮ টাকা। সরকারি শুল্ক দিয়ে প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৬৪ টাকা থেকে ৭৯ টাকা। এরপর অন্যান্য খরচ তো রয়েছেই। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি ক্রয়মূল্যের ওপর শুল্ক নিত, তবে আমরা আরও কম দামে বাজারে কাঁচা মরিচ সরবরাহ করতে পারতাম।’

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। বেনাপোল বাজারের কাঁচামালের পাইকারি ব্যবসায়ী ইছাহাক আলী জানান, কাঁচাবাজারে মঙ্গলবার সকালে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও বিকেলের দিকে ২৫০-২৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত দুই দিন আগেও বাজারে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কিছুটা কমে আসবে বলে তিনি জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা যায়, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) থেকেই এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহসংকট মোকাবিলায় সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ ভোক্তারা দ্রুত স্বস্তি পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


বেনাপোল দিয়ে এলো ৩৮ হাজার কেজি কাঁচা মরিচ, কমেছে দাম

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশে অতিবৃষ্টির কারণে হঠাৎ কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ট্রাকে ৩৮ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচা মরিচ বন্দরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এসেছে ২৯ হাজার ২২০ কেজি এবং সোমবার (৩ আগস্ট) এসেছিল ৯ হাজার ২০০ কেজি।

বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালানগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। এসব চালানের আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ ও রয়্যাল এন্টারপ্রাইজ। বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স ও রয়্যাল এন্টারপ্রাইজ।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক ট্রাক কাঁচা মরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার সেগুলো বন্দরে প্রবেশ করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মরিচ আমদানিকারকরা আমদানিকৃত ইনভয়েসে (ক্রয়মূল্য) প্রতি কেজির দাম দেখাচ্ছেন ২৫ থেকে ৪০ টাকা। কিন্তু যে দামেই কেনা হোক না কেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতি কেজি দশমিক ৫০ ডলারে শুল্কায়ন করায় মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৬১.৭৮ টাকা। এর ওপর ইনস্যুরেন্স ও ল্যান্ডিং চার্জ যোগ হয়ে ডিউটি (শুল্ক) নেওয়া হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৩ টাকার ওপরে ৩৮ টাকা ৪৪ পয়সা। সেই হিসেবে কেনা দাম ও শুল্ক দিয়ে প্রতি কেজি মরিচের দাম পড়ছে ৬৪ টাকা থেকে ৭৯ টাকা।

এরপর ভারতীয় রপ্তানিকারকের খরচ, ট্রাকভাড়া, এ দেশের এলসি খোলার ব্যাংক খরচ, ডলার মূল্যের সমন্বয়, শ্রমিক খরচসহ কাস্টমস, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খরচ এবং ঢাকায় পাঠানোর ট্রাকভাড়াসহ প্রতি কেজিতে খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সব মিলিয়ে এক কেজি মরিচের দাম পড়ছে ১৩৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। এবার আমদানিকারক নিজের লাভ ধরে বাজারে বিক্রি করছেন ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।

মরিচ আমদানিকারক শাহজাহান জানান, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে বাজারে বিক্রি করছেন। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরও কমে আসবে। তবে পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর ও খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন।

অন্য এক মরিচ আমদানিকারক রয়্যাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভারত থেকে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে কিনে আনি। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেটির ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করেছে ৬১.৭৮ টাকা। সরকারি শুল্ক দিয়ে প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৬৪ টাকা থেকে ৭৯ টাকা। এরপর অন্যান্য খরচ তো রয়েছেই। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি ক্রয়মূল্যের ওপর শুল্ক নিত, তবে আমরা আরও কম দামে বাজারে কাঁচা মরিচ সরবরাহ করতে পারতাম।’

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। বেনাপোল বাজারের কাঁচামালের পাইকারি ব্যবসায়ী ইছাহাক আলী জানান, কাঁচাবাজারে মঙ্গলবার সকালে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও বিকেলের দিকে ২৫০-২৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত দুই দিন আগেও বাজারে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কিছুটা কমে আসবে বলে তিনি জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা যায়, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) থেকেই এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহসংকট মোকাবিলায় সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ ভোক্তারা দ্রুত স্বস্তি পাবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত