সংবাদ

মঞ্চে না ডাকায় ক্ষোভে অনুষ্ঠান ছাড়লেন বিএনপি-জামায়াত নেতারা


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

মঞ্চে না ডাকায় ক্ষোভে অনুষ্ঠান ছাড়লেন বিএনপি-জামায়াত নেতারা
ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সম্মানি দেওয়ার সময় রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে না ডাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ না করেই সভাস্থল ত্যাগ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। তবে জেলা প্রশাসক দাবি করেছেন, কেউ অনুষ্ঠান ত্যাগ করেননি।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৪ জন শহীদ পরিবার ও ৯৭ জন আহত ব্যক্তিসহ মোট ১০১ জনের মধ্যে সম্মানি হিসেবে প্রাইজবন্ড বিতরণ করা হয়। শহীদ পরিবারগুলোকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং আহতদের ৫০০ টাকার প্রাইজবন্ড দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আলোচনার শেষ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ ও পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোহাম্মদ আশরাফুল আলম মঞ্চে উঠে প্রাইজবন্ড বিতরণ শুরু করেন। এ সময় মিলনায়তনে উপস্থিত জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ শীর্ষ নেতাদের কাউকে মঞ্চে ডাকা হয়নি। আমন্ত্রিত নেতাদের এভাবে উপেক্ষা করায় তাৎক্ষণিকভাবে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘মঞ্চে না ডাকার ঘটনাটি সঠিক। এ কারণে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে এসেছেন।’ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, ‘এ ঘটনার পর হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাহেবের নেতৃত্বে আমরা সবাই চলে এসেছি।’

নেতাদের ক্ষোভ ও অনুষ্ঠান ত্যাগের বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা কেউ অনুষ্ঠান ত্যাগ করে যাননি, সবাই শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। ৪ জন শহীদ পরিবারের হাতে আমি ও পুলিশ সুপার মহোদয় সম্মানি তুলে দিয়েছি, আর আহতদের সম্মানি দিয়েছেন প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।’

জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এই আয়োজনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যথাযথ সম্মান না দেওয়া এবং একতরফাভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার ঘটনায় সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


মঞ্চে না ডাকায় ক্ষোভে অনুষ্ঠান ছাড়লেন বিএনপি-জামায়াত নেতারা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সম্মানি দেওয়ার সময় রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে না ডাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ না করেই সভাস্থল ত্যাগ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। তবে জেলা প্রশাসক দাবি করেছেন, কেউ অনুষ্ঠান ত্যাগ করেননি।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৪ জন শহীদ পরিবার ও ৯৭ জন আহত ব্যক্তিসহ মোট ১০১ জনের মধ্যে সম্মানি হিসেবে প্রাইজবন্ড বিতরণ করা হয়। শহীদ পরিবারগুলোকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং আহতদের ৫০০ টাকার প্রাইজবন্ড দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আলোচনার শেষ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ ও পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোহাম্মদ আশরাফুল আলম মঞ্চে উঠে প্রাইজবন্ড বিতরণ শুরু করেন। এ সময় মিলনায়তনে উপস্থিত জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ শীর্ষ নেতাদের কাউকে মঞ্চে ডাকা হয়নি। আমন্ত্রিত নেতাদের এভাবে উপেক্ষা করায় তাৎক্ষণিকভাবে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘মঞ্চে না ডাকার ঘটনাটি সঠিক। এ কারণে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে এসেছেন।’ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, ‘এ ঘটনার পর হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাহেবের নেতৃত্বে আমরা সবাই চলে এসেছি।’

নেতাদের ক্ষোভ ও অনুষ্ঠান ত্যাগের বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা কেউ অনুষ্ঠান ত্যাগ করে যাননি, সবাই শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। ৪ জন শহীদ পরিবারের হাতে আমি ও পুলিশ সুপার মহোদয় সম্মানি তুলে দিয়েছি, আর আহতদের সম্মানি দিয়েছেন প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।’

জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এই আয়োজনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যথাযথ সম্মান না দেওয়া এবং একতরফাভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার ঘটনায় সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত