মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া মাদ্রাসা, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আগের দিন এসব সংঘর্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। গত প্রায় দুই বছর ধরে ক্যাম্পাসগুলোতে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও হঠাৎ এই সংঘর্ষে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ ফেরা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বেরোবি: সংঘর্ষের সূচনা হয় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা স্মারকে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শীর্ষক ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ব্যানারটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির ছয় নেতার ছবি ছিল। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হন।
জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রনেতা ও সাংবাদিকও রয়েছেন। সংঘর্ষের রেশ পরে রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ওই হাসপাতালে অন্তত ৭০ জন চিকিৎসা নেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফ, জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া, ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন সাইফ এবং কয়েকজন সাংবাদিক।
আলিয়া মাদ্রাসা: রাজধানীর বকশীবাজারের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মাদ্রাসার আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলী আহসান বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সহিংসতা চাই না। বারবার সহিংসতার ঘটনায় আমাদের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে এবং ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে।’
ঢাকা কলেজ: ঢাকা কলেজেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর প্রায় দুইটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষ হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছোট একটি ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে আসি। প্রতিহিংসার রাজনীতির সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তাদের কেন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে হবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ কি এমন হওয়া উচিত?’তিনি নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া মাদ্রাসা, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আগের দিন এসব সংঘর্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। গত প্রায় দুই বছর ধরে ক্যাম্পাসগুলোতে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও হঠাৎ এই সংঘর্ষে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ ফেরা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বেরোবি: সংঘর্ষের সূচনা হয় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা স্মারকে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শীর্ষক ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ব্যানারটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির ছয় নেতার ছবি ছিল। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হন।
জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রনেতা ও সাংবাদিকও রয়েছেন। সংঘর্ষের রেশ পরে রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ওই হাসপাতালে অন্তত ৭০ জন চিকিৎসা নেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফ, জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া, ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন সাইফ এবং কয়েকজন সাংবাদিক।
আলিয়া মাদ্রাসা: রাজধানীর বকশীবাজারের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মাদ্রাসার আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলী আহসান বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সহিংসতা চাই না। বারবার সহিংসতার ঘটনায় আমাদের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে এবং ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে।’
ঢাকা কলেজ: ঢাকা কলেজেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর প্রায় দুইটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষ হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছোট একটি ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে আসি। প্রতিহিংসার রাজনীতির সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তাদের কেন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে হবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ কি এমন হওয়া উচিত?’তিনি নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন