স্বৈরাচারের দোসররা আজও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, ‘যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, ‘জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণে বা বিনা ইস্যুতে যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তবে তার সুফল পাবে স্বৈরাচারের দোসররা। তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়, তাই সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’
আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের দল এবং প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। ১৭ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ে বহু মানুষ গুম হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।’
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাস হয়েছে এবং কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।’
টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ঘোষণা দেন, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু ও জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়।
আপনার মতামত লিখুন