কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা নদীতে সরকারি পাইপলাইন ও জাহাজ থেকে রাতের আঁধারে জ্বালানি তেল (কনডেনসেট) চুরির অভিযোগ উঠেছে। একটি সক্রিয় চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই পাচারকাজ চালিয়ে আসায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ প্রান্তে কনডেনসেট হ্যান্ডলিং স্থাপনা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাহাজে তেল লোড করার সময় এই চুরি হয়। দেড় যুগের বেশি সময় ধরে চলা এই অবৈধ বাণিজ্যে প্রতি মাসে অর্ধকোটি টাকার বেশি জ্বালানি তেল পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রভাবশালী চক্রটি স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে ‘মাসোহারা’ দিয়ে এই কারবার চালাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুগঞ্জে পেট্রোবাংলার অধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) স্থাপনা থেকে অপরিশোধিত তেল (কনডেনসেট) জাহাজে ভরে চট্টগ্রামে শোধনাগারে পাঠানো হয়। আগে কেবল রাতে চুরি হলেও গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এখন দিনের বেলাও পাচার চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত তিন দিন গভীর রাতে স্টিলের নৌকার মাধ্যমে পাইপলাইন ও জাহাজ থেকে তেল ভর্তি করা হয়। প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ ড্রাম বা ৬০ হাজার লিটার তেল পাচার হয়। ১১০ টাকা লিটার দরে খোলাবাজারে এই তেলের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৬ লাখ টাকা। এই অপরিশোধিত তেল ভৈরব, কটিয়াদী, নেত্রকোনা ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ তেলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে, যা ইঞ্জিনের ক্ষতি করছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই সিন্ডিকেট সোহরাফ হোসেন নামে এক নেতার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে এর নিয়ন্ত্রণ রায়পুরার খোরশেদ মিয়ার হাতে। চক্রের সদস্য রুবেল মিয়া চুরির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এটি চুরি নয়। জাহাজ থেকে হোস পাইপ তোলার সময় পড়ে যাওয়া তেল আমরা সংগ্রহ করি। পরে তা বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করি।’ তবে এটি বৈধ কি না-এমন প্রশ্নে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
ভৈরব নৌ-পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেব। সাধারণত সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া রাতে নদীতে পুলিশি টহল থাকে না।’
কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার কে. এম. আরিফুল হক জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরপিজিসিএল-এর আশুগঞ্জ স্থাপনার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী এ কে এম রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় পাইপলাইন থেকে তেল চুরির সুযোগ নেই। তবে জাহাজের কর্মীদের যোগসাজশে পাচার হতে পারে, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
আপনার মতামত লিখুন