সংবাদ

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে ৩৭, জলাতঙ্কে ৯ জন আক্রান্ত


আ. মতিন সরকার, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
আ. মতিন সরকার, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে ৩৭, জলাতঙ্কে ৯ জন আক্রান্ত
সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স সচেতনতা বাড়াতে সরকারি কর্মকর্তাদের উঠোন বৈঠকে গ্রামবাসী।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দুই গ্রামে অসুস্থ গরু জবাই, মাংস কাটাকাটি এবং বিয়ের বাড়িতে গরুর মাংস দিয়ে দাওয়াত খাওয়ানোর পর ৩৭ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে শিয়ালের কামড়ে ৯ জন মানুষ ও দুটি গরু জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। হঠাৎ এই তীব্র সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ওই দুই গ্রামসহ গোটা উপজেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

যারা গরুর মাংস কিনেছেন, তাদের পরিবারের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষ ও পশুকে টিকা দেওয়া চলমান।

ইতোমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এবং এপিডেমিওলজি সেলের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রোগ নিশ্চিতকরণ ও ল্যাব পরীক্ষার জন্য শিয়ালের মাথা ও অসুস্থ গরুর মাংস সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে, ল্যাবে পাঠানো নমুনায় অ্যানথ্রাক্স ও জলাতঙ্ক পজিটিভ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের হাবিবুর রহমান এবং ১৮ সেপ্টেম্বর সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের একটি করে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় অসুস্থ গরু জবাই করেন।

দুই গ্রামের অন্তত ২০০ মানুষের কাছে ওই মাংস বিক্রি করা হয়। এর এক-দুই দিন পর দুই গ্রামের মানুষের শরীরে ফোসকা পড়ে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। হাসপাতালে পরীক্ষা করলে রোগটি শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় দুই গ্রামের ৩৪ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আক্রান্তরা হলেন- বাছহাটী গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীন, মো. গোলেজার রহমান, মো. নুর আকাইদ, মোছা. রুমি বেগম, মোছা. রশিদা বেগম, মো. সুলতান মিয়া, মোছা. রাহেলা বেগম, মোছা. শরিফন নেছা, মোছা. দেলেনা বেগম, মো. জয়নাল আবেদীন, মোছা. জেলী বেগম, মোছা. ফুলমতি বেগম, মোছা. রাবেয়া বেগম, মো. আজমিন মিয়া, মোছা. ফাহিমা বেগম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. শফিয়াল মিয়া, মো. আব্দুর রশিদ, মো. চান্দ মিয়া, মো. আব্দুল জলিল মিয়া, মোছা. লাবনী আকতার, মোছা. রোশনা বেগম, মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, মোছা. মিসকিনা বেগম, মোছা. শাহিনুর বেগম, মো. আনছার আলী, মো. জবেদ আলী এবং দুলাল গ্রামের মো. জাহেদুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলাম, মো. আজগার আলী, মো. আবুল হোসেন, মো. নাজমুল ইসলাম, আকলিমা বেগম, আইরিন বেগম ও রোজামনী বেগম।

এদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ি ও তালুক বেলকা গ্রামে শিয়ালের কামড়ে শিশু-নারীসহ ৯ জন মানুষ ও দুটি গরু আক্রান্ত হয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তরা হলেন- জিগাবাড়ি ও তালুক বেলকা গ্রামের মোছা. রারেয়া বেগম, মো. রাকিবুল হাসান, মো. এনামুল হক, মোছা. আয়শা আকতার, মো. হাসান মিয়া, মোছা. নিলি বেগম, মো. সাদেক হোসেন, মোছা. আফরুজা বেগম ও মো. শাওন মিয়া।

সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল রহমান, ডা. কাজী তাহমিনা করিম, এফইটিসি ফেলো ডা. মোস্তফা মাহমুদ, ডা. মেরি হাপাং, মেডিকেল অ্যানথ্রোপলজিস্ট ড. দৌলত খানসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজি সেলের ডেপুটি চিফ এপিডেমিওলজিস্ট ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, ইউএলও ডা. সাজেদুল হায়াত, ডা. মোছা. কামরুন্নাহার আকতারসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট গরুর সংখ্যা ২ লাখ ৫৪ হাজার। নিয়ম অনুযায়ী, যে এলাকায় অ্যানথ্রাক্স দেখা দেয়, তার আশপাশ তিন কিলোমিটারের মধ্যে যতগুলো গরু রয়েছে, তাদের টিকা দিতে হবে। সে অনুযায়ী বর্তমানে টিকার প্রয়োজন ৪৫ হাজার। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত টিকা পাওয়া গেছে ৩০ হাজার। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

খামারি ও গরু মালিকদের দাবি, টিকা ও জনবল সংকটের কারণে যথাসময়ে টিকা প্রদান না করায় অ্যানথ্রাক্সের এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যেহেতু ২০২৫ সালে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগাম টিকা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটি করা হয়নি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আক্রান্তদের জবানবন্দি শুনে বিষয়টি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত বলে মনে হয়েছে। আক্রান্তদের সবাইকে ডেকে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকার সব গরু-ছাগলকে অ্যানথ্রাক্স টিকা দেওয়া হয়েছে এবং গরু মালিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর রক্ত যাদের শরীরে লাগবে, তাদেরই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে মাংস যেহেতু উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা হয়, সেহেতু যারা মাংস খেয়েছেন, তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

এদিকে, শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাগারে প্রাথমিকভাবে গরুর মাংসে অ্যানথ্রাক্স এবং শিয়ালের মাথায় জলাতঙ্ক জীবাণু পাওয়া গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে দুই গ্রামের ৩৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া শিয়ালের কামড়ে একজন ভর্তি আছেন, বাকি আটজন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন কামরুল হাসান।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, আক্রান্তদের গুরুত্বসহকারে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিয়ালের কামড়ে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসে অ্যানথ্রাক্সে ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে সময় ১০টি গরু ও এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে ৩৭, জলাতঙ্কে ৯ জন আক্রান্ত

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দুই গ্রামে অসুস্থ গরু জবাই, মাংস কাটাকাটি এবং বিয়ের বাড়িতে গরুর মাংস দিয়ে দাওয়াত খাওয়ানোর পর ৩৭ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে শিয়ালের কামড়ে ৯ জন মানুষ ও দুটি গরু জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। হঠাৎ এই তীব্র সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ওই দুই গ্রামসহ গোটা উপজেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

যারা গরুর মাংস কিনেছেন, তাদের পরিবারের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষ ও পশুকে টিকা দেওয়া চলমান।

ইতোমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এবং এপিডেমিওলজি সেলের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রোগ নিশ্চিতকরণ ও ল্যাব পরীক্ষার জন্য শিয়ালের মাথা ও অসুস্থ গরুর মাংস সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে, ল্যাবে পাঠানো নমুনায় অ্যানথ্রাক্স ও জলাতঙ্ক পজিটিভ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের হাবিবুর রহমান এবং ১৮ সেপ্টেম্বর সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের একটি করে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় অসুস্থ গরু জবাই করেন।

দুই গ্রামের অন্তত ২০০ মানুষের কাছে ওই মাংস বিক্রি করা হয়। এর এক-দুই দিন পর দুই গ্রামের মানুষের শরীরে ফোসকা পড়ে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। হাসপাতালে পরীক্ষা করলে রোগটি শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় দুই গ্রামের ৩৪ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আক্রান্তরা হলেন- বাছহাটী গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীন, মো. গোলেজার রহমান, মো. নুর আকাইদ, মোছা. রুমি বেগম, মোছা. রশিদা বেগম, মো. সুলতান মিয়া, মোছা. রাহেলা বেগম, মোছা. শরিফন নেছা, মোছা. দেলেনা বেগম, মো. জয়নাল আবেদীন, মোছা. জেলী বেগম, মোছা. ফুলমতি বেগম, মোছা. রাবেয়া বেগম, মো. আজমিন মিয়া, মোছা. ফাহিমা বেগম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. শফিয়াল মিয়া, মো. আব্দুর রশিদ, মো. চান্দ মিয়া, মো. আব্দুল জলিল মিয়া, মোছা. লাবনী আকতার, মোছা. রোশনা বেগম, মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, মোছা. মিসকিনা বেগম, মোছা. শাহিনুর বেগম, মো. আনছার আলী, মো. জবেদ আলী এবং দুলাল গ্রামের মো. জাহেদুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলাম, মো. আজগার আলী, মো. আবুল হোসেন, মো. নাজমুল ইসলাম, আকলিমা বেগম, আইরিন বেগম ও রোজামনী বেগম।

এদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ি ও তালুক বেলকা গ্রামে শিয়ালের কামড়ে শিশু-নারীসহ ৯ জন মানুষ ও দুটি গরু আক্রান্ত হয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তরা হলেন- জিগাবাড়ি ও তালুক বেলকা গ্রামের মোছা. রারেয়া বেগম, মো. রাকিবুল হাসান, মো. এনামুল হক, মোছা. আয়শা আকতার, মো. হাসান মিয়া, মোছা. নিলি বেগম, মো. সাদেক হোসেন, মোছা. আফরুজা বেগম ও মো. শাওন মিয়া।

সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল রহমান, ডা. কাজী তাহমিনা করিম, এফইটিসি ফেলো ডা. মোস্তফা মাহমুদ, ডা. মেরি হাপাং, মেডিকেল অ্যানথ্রোপলজিস্ট ড. দৌলত খানসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজি সেলের ডেপুটি চিফ এপিডেমিওলজিস্ট ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, ইউএলও ডা. সাজেদুল হায়াত, ডা. মোছা. কামরুন্নাহার আকতারসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট গরুর সংখ্যা ২ লাখ ৫৪ হাজার। নিয়ম অনুযায়ী, যে এলাকায় অ্যানথ্রাক্স দেখা দেয়, তার আশপাশ তিন কিলোমিটারের মধ্যে যতগুলো গরু রয়েছে, তাদের টিকা দিতে হবে। সে অনুযায়ী বর্তমানে টিকার প্রয়োজন ৪৫ হাজার। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত টিকা পাওয়া গেছে ৩০ হাজার। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

খামারি ও গরু মালিকদের দাবি, টিকা ও জনবল সংকটের কারণে যথাসময়ে টিকা প্রদান না করায় অ্যানথ্রাক্সের এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যেহেতু ২০২৫ সালে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগাম টিকা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটি করা হয়নি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আক্রান্তদের জবানবন্দি শুনে বিষয়টি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত বলে মনে হয়েছে। আক্রান্তদের সবাইকে ডেকে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকার সব গরু-ছাগলকে অ্যানথ্রাক্স টিকা দেওয়া হয়েছে এবং গরু মালিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর রক্ত যাদের শরীরে লাগবে, তাদেরই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে মাংস যেহেতু উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা হয়, সেহেতু যারা মাংস খেয়েছেন, তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

এদিকে, শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাগারে প্রাথমিকভাবে গরুর মাংসে অ্যানথ্রাক্স এবং শিয়ালের মাথায় জলাতঙ্ক জীবাণু পাওয়া গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে দুই গ্রামের ৩৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া শিয়ালের কামড়ে একজন ভর্তি আছেন, বাকি আটজন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন কামরুল হাসান।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, আক্রান্তদের গুরুত্বসহকারে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিয়ালের কামড়ে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসে অ্যানথ্রাক্সে ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে সময় ১০টি গরু ও এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত