সংবাদ

কোটি টাকার আধুনিক ব্রিজে ওঠার উপায় সাঁকো


প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

কোটি টাকার আধুনিক ব্রিজে ওঠার উপায় সাঁকো
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কামারপাড়া ব্রিজে উঠতে হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে। ছবি : সংবাদ

কাজে ঢিলেমি আর চরম অব্যবস্থাপনার কারণে নির্মাণের ছয় বছর পরও সুফল মিলছে না টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কামারপাড়া ব্রিজের। মূল ব্রিজের কাজ ফেলে রাখার পর এখন সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। ফলে আধুনিক ব্রিজে উঠতে স্থানীয়দের ভরসা করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।

মির্জাপুরের ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মিত এই ব্রিজটি চালু হলে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও ধামরাইয়ের সঙ্গে মির্জাপুরের দূরত্ব ও যোগাযোগ অনেকটাই সহজ হতো। কিন্তু বর্তমানে সংযোগ সড়ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ব্রিজের রেলিং নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি। মূল কাঠামো শেষের পর ভূমি জটিলতায় আটকে ছিল সংযোগ সড়ক। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হলেও গত ১৫ মাসে তার অর্ধেকও এগোয়নি।

সরেজমিনে কামারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের উত্তর পাশে নামমাত্র কিছু মাটি ফেলে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। খাড়া ও আঁকাবাঁকা ঢালু পথ বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ব্রিজে উঠছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে ব্রিজের ওপর পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই নদী পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’ একদিন কাজ করলে সাতদিন কাজ বন্ধ রাখে। কামারপাড়া গ্রামের সত্তোরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘বয়স সত্তরে পৌঁছেছে। অনেক ইচ্ছা ছিল এই ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে বাজারে যাব। কাজের যে অবস্থা, তাতে সেই আশা পূরণ হবে কি না আল্লাহই জানেন।’ একই গ্রামের আবজাল হোসেন জানান, মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। ব্রিজের কাজ শেষ হলে মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে সরাসরি ঢাকায় যাতায়াত করা যাবে। এটি মির্জাপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার দারুণ এক বিকল্প পথ হতে পারত।

ধীরগতির বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত ঝামেলা নিরসন করতে সময় লেগেছে। এ ছাড়া বর্ষার কারণেও কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ‘জমির সমস্যা নিয়ে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরে বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহা করা হয়েছে। এখন কোনো ঝামেলা নেই, তাই কাজের গতি বাড়াতে হবে।’

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন জানান, বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, ‘কাজে গাফিলতি বা জনভোগান্তি বরদাশত করা হবে না। আইনি জটিলতা নিরসন হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ব্রিজটি সবার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কোটি টাকার আধুনিক ব্রিজে ওঠার উপায় সাঁকো

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কাজে ঢিলেমি আর চরম অব্যবস্থাপনার কারণে নির্মাণের ছয় বছর পরও সুফল মিলছে না টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কামারপাড়া ব্রিজের। মূল ব্রিজের কাজ ফেলে রাখার পর এখন সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। ফলে আধুনিক ব্রিজে উঠতে স্থানীয়দের ভরসা করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।

মির্জাপুরের ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মিত এই ব্রিজটি চালু হলে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও ধামরাইয়ের সঙ্গে মির্জাপুরের দূরত্ব ও যোগাযোগ অনেকটাই সহজ হতো। কিন্তু বর্তমানে সংযোগ সড়ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ব্রিজের রেলিং নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি। মূল কাঠামো শেষের পর ভূমি জটিলতায় আটকে ছিল সংযোগ সড়ক। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হলেও গত ১৫ মাসে তার অর্ধেকও এগোয়নি।

সরেজমিনে কামারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের উত্তর পাশে নামমাত্র কিছু মাটি ফেলে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। খাড়া ও আঁকাবাঁকা ঢালু পথ বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ব্রিজে উঠছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে ব্রিজের ওপর পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই নদী পার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’ একদিন কাজ করলে সাতদিন কাজ বন্ধ রাখে। কামারপাড়া গ্রামের সত্তোরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘বয়স সত্তরে পৌঁছেছে। অনেক ইচ্ছা ছিল এই ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে বাজারে যাব। কাজের যে অবস্থা, তাতে সেই আশা পূরণ হবে কি না আল্লাহই জানেন।’ একই গ্রামের আবজাল হোসেন জানান, মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। ব্রিজের কাজ শেষ হলে মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে সরাসরি ঢাকায় যাতায়াত করা যাবে। এটি মির্জাপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার দারুণ এক বিকল্প পথ হতে পারত।

ধীরগতির বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত ঝামেলা নিরসন করতে সময় লেগেছে। এ ছাড়া বর্ষার কারণেও কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ‘জমির সমস্যা নিয়ে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরে বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহা করা হয়েছে। এখন কোনো ঝামেলা নেই, তাই কাজের গতি বাড়াতে হবে।’

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন জানান, বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, ‘কাজে গাফিলতি বা জনভোগান্তি বরদাশত করা হবে না। আইনি জটিলতা নিরসন হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ব্রিজটি সবার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত