সংবাদ

১১ জন শিক্ষক, ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ১


প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

১১ জন শিক্ষক, ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ১
ছবি : সংবাদ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ১১ জন অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র একজন। ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও এমন বিপর্যয়কর ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা হতাশ।

জানা যায়, গত বছরও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল একই রকম হতাশাজনক। সেবার আটজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল মাত্র একজন। টানা দুই বছর এমন ফল সত্ত্বেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত উপস্থিতি থাকে বড়জোর পাঁচ-ছয়জনের। শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ জন হলেও পাঠদানের মান প্রশ্নবিদ্ধ। এক যুগের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টি চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। প্রতি মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ব্যয় হচ্ছে তিন লাখ টাকার বেশি। অথচ এর বিপরীতে শিক্ষার আউটপুট শূন্যের কোঠায়।

ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার আক্ষেপের বদলে উদাসীনতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘১১ জনের মধ্যে একজন পাস করেছে। গত বছরও আটজনে একজন করেছিল।’ পাস করা শিক্ষার্থীর নাম বা গ্রেড তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেননি। ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলের জন্য দুঃখিত কি না-এমন প্রশ্নে তার জবাব, ‘দুঃখ কিসের? শিক্ষার্থীরা স্কুলে না এলে বা না পড়লে আমাদের কী করার আছে?’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়ে শিক্ষকেরা দায় এড়াতে পারেন না। নিয়মিত তদারকি ও পাঠদানের পরিবেশ থাকলে ফলাফলের এমন বিপর্যয় হতো না। তারা এই অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


১১ জন শিক্ষক, ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ১

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ১১ জন অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র একজন। ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও এমন বিপর্যয়কর ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা হতাশ।

জানা যায়, গত বছরও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল একই রকম হতাশাজনক। সেবার আটজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল মাত্র একজন। টানা দুই বছর এমন ফল সত্ত্বেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত উপস্থিতি থাকে বড়জোর পাঁচ-ছয়জনের। শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ জন হলেও পাঠদানের মান প্রশ্নবিদ্ধ। এক যুগের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টি চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। প্রতি মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ব্যয় হচ্ছে তিন লাখ টাকার বেশি। অথচ এর বিপরীতে শিক্ষার আউটপুট শূন্যের কোঠায়।

ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার আক্ষেপের বদলে উদাসীনতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘১১ জনের মধ্যে একজন পাস করেছে। গত বছরও আটজনে একজন করেছিল।’ পাস করা শিক্ষার্থীর নাম বা গ্রেড তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেননি। ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলের জন্য দুঃখিত কি না-এমন প্রশ্নে তার জবাব, ‘দুঃখ কিসের? শিক্ষার্থীরা স্কুলে না এলে বা না পড়লে আমাদের কী করার আছে?’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়ে শিক্ষকেরা দায় এড়াতে পারেন না। নিয়মিত তদারকি ও পাঠদানের পরিবেশ থাকলে ফলাফলের এমন বিপর্যয় হতো না। তারা এই অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত