সুনামগঞ্জের বিশম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত মিয়ারচর খেয়াঘাটের দখল ও টোল আদায় নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মিয়ারচর খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছিল। আব্দুল ওয়াহিদ গং জেলা পরিষদ থেকে এবং শিশির আহমদ গং শ্রীপুর দেবোত্তর এস্টেট থেকে ইজারা পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পাড়ে পৃথকভাবে টোল আদায় করায় দুই উপজেলার হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিলেন। এর প্রতিবাদে সম্প্রতি বাদাঘাট বাজারে বণিক সমিতির উদ্যোগে মানববন্ধন করে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী তারা মিয়া, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় মুরুব্বিরা সালিসে বসেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, ইজারা দাবিদার দুই পক্ষের কেউই টোল আদায় করতে পারবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকৃত ইজারাদার নির্ধারণ না করা পর্যন্ত হাজী তারা মিয়ার নিযুক্ত ব্যক্তিরা টোল আদায় করবেন। এই টাকা গচ্ছিত রাখা হবে এবং পরবর্তীতে বৈধ ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষই সম্মতি প্রকাশ করেছে।
এলাকাবাসী জানান, এই সমঝোতার ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ হবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে। প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন ঘাটের কার্যক্রম চলবে।
আপনার মতামত লিখুন