ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিল্লিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্কের পথে থাকা কিছু সংবেদনশীল বিষয়ও উঠে এসেছে। ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী মোদির দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা বাংলাদেশকে জানাবেন দীনেশ ত্রিবেদী।
দিল্লির এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে হাইকমিশনার ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তার দিকনির্দেশনা চেয়েছেন। বিশেষ করে দুই দেশের বহুমাত্রিক ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে গঠনমূলক ও জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বিকশিত করতে কী করা উচিত, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ চেয়েছেন।
ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত দুই দিনে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব বার্তা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
ঢাকায় সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে দিল্লি সফরের প্রসঙ্গও তোলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি জানান, ভারত সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবার দিল্লি সফরে অভ্যর্থনা জানাতে আগ্রহী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বিষয়ে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিয়েছে। তার ভাষায়, ‘সম্পর্ক এগিয়ে নিতে যে পরিবেশ প্রয়োজন, সেটি সৃষ্টি হওয়া জরুরি।’
এদিকে, মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো প্রসঙ্গে জয়সোয়াল বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি, সেই সঙ্গে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দিতে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের হস্তান্তরের দাবি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে জয়সোয়াল বলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের ভূমিকা স্পষ্ট এবং প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আইনগত বিষয় এবং তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিল্লিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্কের পথে থাকা কিছু সংবেদনশীল বিষয়ও উঠে এসেছে। ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী মোদির দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা বাংলাদেশকে জানাবেন দীনেশ ত্রিবেদী।
দিল্লির এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে হাইকমিশনার ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তার দিকনির্দেশনা চেয়েছেন। বিশেষ করে দুই দেশের বহুমাত্রিক ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে গঠনমূলক ও জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বিকশিত করতে কী করা উচিত, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ চেয়েছেন।
ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত দুই দিনে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব বার্তা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
ঢাকায় সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে দিল্লি সফরের প্রসঙ্গও তোলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি জানান, ভারত সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবার দিল্লি সফরে অভ্যর্থনা জানাতে আগ্রহী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বিষয়ে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিয়েছে। তার ভাষায়, ‘সম্পর্ক এগিয়ে নিতে যে পরিবেশ প্রয়োজন, সেটি সৃষ্টি হওয়া জরুরি।’
এদিকে, মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো প্রসঙ্গে জয়সোয়াল বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি, সেই সঙ্গে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দিতে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের হস্তান্তরের দাবি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে জয়সোয়াল বলেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের ভূমিকা স্পষ্ট এবং প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আইনগত বিষয় এবং তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন