মহাকাশপ্রেমীদের জন্য ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রমী একটি দিন। একই সময়সীমার মধ্যে আকাশে ঘটতে যাচ্ছে তিনটি উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক ঘটনা–পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সক্রিয়তা এবং ছয় গ্রহের দৃশ্যমান ‘প্ল্যানেটারি প্যারেড’। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তিনটি ঘটনা একসঙ্গে ক্যালেন্ডারে এসে পড়া বিরল হলেও এগুলো পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। পৃথিবী থেকে দেখা আকাশের অবস্থানের কারণে একই সময়কালে এমন চমকপ্রদ সমাবেশ দেখা যাচ্ছে।
পারসিড উল্কাবৃষ্টি: রাতের আকাশে ‘আলোর বৃষ্টি’
আগস্টের রাতের আকাশের অন্যতম আকর্ষণ পারসিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতিবছর জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই উল্কাবৃষ্টি সক্রিয় থাকে। তবে ২০২৬ সালে এর সর্বোচ্চ পর্যায় হবে ১২ আগস্টের রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত। এ বছর পারসিড দেখার পরিস্থিতি বিশেষভাবে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময়ের কাছাকাছি থাকবে নতুন চাঁদ। ফলে চাঁদের আলোয় আকাশ উজ্জ্বল হয়ে উল্কা দেখার ক্ষেত্রে যে বাধা তৈরি হয়, তা অনেকটাই থাকবে না।
পারসিড আসলে কোনো একটি তারার বিস্ফোরণ বা নক্ষত্রের পতন নয়। এটি সৃষ্টি হয় ১০৯পি/ সুইফট-টাটল (109P/ Swift-Tuttle) নামের ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধুলা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অতিক্রম করার সময়। পৃথিবী যখন ওই ধ্বংসাবশেষের অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যায়, তখন কণাগুলো প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণে উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে। পৃথিবী থেকে তখন এগুলোকে আকাশে দ্রুত ছুটে চলা উজ্জ্বল আলোর রেখার মতো দেখা যায়।
২০২৬ সালের পারসিডের সর্বোচ্চ সময়ে অনুকূল আকাশে প্রতি ঘণ্টায় কয়েক ডজন থেকে প্রায় ৫০–১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা নির্ভর করবে পর্যবেক্ষকের অবস্থান, আকাশের অন্ধকার, আবহাওয়া ও আলোকদূষণের ওপর।
পারসিড দেখার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। শহরের আলো থেকে দূরে গিয়ে খোলা জায়গা থেকে আকাশের দিকে তাকালেই উল্কা দেখার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং ভোরের দিকে উল্কা দেখার সুযোগ বাড়ে।
বাংলাদেশ থেকে: ১২ আগস্ট রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোরে পারসিড দেখার সুযোগ থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়া, মেঘ ও শহুরে আলোকদূষণ দৃশ্যমানতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: দিনের আকাশে নেমে আসবে রাতের আবহ
১২ আগস্ট ২০২৬-এর সবচেয়ে আলোচিত মহাজাগতিক ঘটনা হলো পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। এদিন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এমন অবস্থানে আসবে যে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে দেবে। তখন দিনের বেলায় অল্প সময়ের জন্য আকাশ অন্ধকার হয়ে আসবে এবং সূর্যের উজ্জ্বল পৃষ্ঠের পরিবর্তে তার বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দৃশ্যমান হবে।
এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পূর্ণতার পথ পৃথিবীর সব জায়গা দিয়ে যাবে না। নাসার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রহণের পথ উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আটলান্টিক মহাসাগর, উত্তর স্পেন এবং পর্তুগালের একটি ছোট অংশ অতিক্রম করবে। এর বাইরে বিস্তৃত অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে।
পূর্ণগ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যের ডিস্ক সম্পূর্ণ ঢেকে ফেললে কয়েক মিনিটের জন্য অসাধারণ দৃশ্য তৈরি হয়। আকাশের উজ্জ্বলতা হঠাৎ কমে যায়, তাপমাত্রায় সামান্য পরিবর্তন অনুভূত হতে পারে এবং সূর্যের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সাদা-রুপালি করোনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গ্রহণের শুরু ও শেষে ‘ডায়মন্ড রিং’ এবং ‘বেইলি’স বিডস’-এর মতো চমৎকার দৃশ্যও দেখা যেতে পারে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো–সাধারণ সানগ্লাস, ক্যামেরার সাধারণ ফিল্টার বা খালি চোখে সূর্যগ্রহণের আংশিক পর্যায় দেখা নিরাপদ নয়। সূর্য দেখার জন্য অবশ্যই উপযুক্ত সৌর পর্যবেক্ষণ চশমা বা অনুমোদিত সৌর ফিল্টার ব্যবহার করতে হয়।
বাংলাদেশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। ১২ আগস্টের পূর্ণতার মূল পথ বাংলাদেশের অনেক দূরে। তাই বাংলাদেশে বসে এই বিরল পূর্ণগ্রহণের সরাসরি দৃশ্য পাওয়ার সুযোগ নেই; তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রচার ও মহাকাশ সংস্থার লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমে এটি দেখা যাবে। নাসা জানিয়েছে, তারা গ্রহণের পথ ধরে সরাসরি সম্প্রচার করবে।
ছয় গ্রহের ‘প্ল্যানেটারি প্যারেড’: ভোরের আকাশে ছয় গ্রহ
১২ আগস্টের আরেকটি আকর্ষণ হলো ছয় গ্রহের প্ল্যানেটারি প্যারেড। এদিন ভোরের আকাশে একই সাধারণ অঞ্চলে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বুধ, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুনের।
তবে ‘ছয় গ্রহ এক সরলরেখায় দাঁড়াবে’–এভাবে বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। বাস্তবে গ্রহগুলো মহাকাশে একটি সরল রেখায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় না। পৃথিবী থেকে দেখলে তারা আকাশের একটি দীর্ঘ বক্ররেখা বা একই সাধারণ অঞ্চলে অবস্থান করছে বলে মনে হয়। এই কারণেই ঘটনাটিকে সাধারণভাবে ‘Planetary Parade’ বা ‘গ্রহের প্যারেড’ বলা হয়।
এই ছয় গ্রহের মধ্যে বৃহস্পতি, মঙ্গল, শনি ও বুধ তুলনামূলকভাবে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু ইউরেনাস ও নেপচুন অনেক বেশি ক্ষীণ হওয়ায় খালি চোখে দেখা কঠিন বা কার্যত অসম্ভব; এগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য দূরবীন বা টেলিস্কোপ প্রয়োজন হতে পারে।
গ্রহগুলোর এই সমাবেশ মূলত ভোরের আগে পূর্ব আকাশে পর্যবেক্ষণ করার বিষয়। তাই এটি সূর্যগ্রহণের মতো দিনের ঘটনা নয় এবং পারসিড উল্কাবৃষ্টির মতো গভীর রাতের ঘটনাও নয়। অর্থাৎ ১২ আগস্টকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বিভিন্ন সময়পর্বে তিন ধরনের আলাদা আকাশীয় দৃশ্য পাওয়া যাবে–ভোরে গ্রহের প্যারেড, দিনের নির্দিষ্ট অঞ্চলে সূর্যগ্রহণ এবং রাতে পারসিড উল্কাবৃষ্টি।
একই দিনে তিন মহাজাগতিক ঘটনা–কতটা বিরল?
১২ আগস্ট ২০২৬-এর বিশেষত্ব এখানেই। তিনটি ঘটনা একই মহাজাগতিক ‘লাইনআপ’-এর অংশ নয়, কিন্তু ক্যালেন্ডারের একই দিনে বা একই সময়সীমায় তাদের উপস্থিতি আকাশপ্রেমীদের জন্য দিনটিকে অসাধারণ করে তুলেছে।
ভোরে আকাশে দেখা যাবে ছয় গ্রহের দৃশ্যমান সমাবেশ।
দিনে পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।
আর রাতে আকাশে সক্রিয় থাকবে বছরের অন্যতম আলোচিত উল্কাবৃষ্টি–পারসিড।
নাসাও আগস্ট ২০২৬-কে বিশেষ আকাশ পর্যবেক্ষণের মাস হিসেবে তুলে ধরেছে; মাসটিতে সূর্যগ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টি এবং অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আকাশীয় ঘটনা রয়েছে।
\

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
মহাকাশপ্রেমীদের জন্য ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রমী একটি দিন। একই সময়সীমার মধ্যে আকাশে ঘটতে যাচ্ছে তিনটি উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক ঘটনা–পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সক্রিয়তা এবং ছয় গ্রহের দৃশ্যমান ‘প্ল্যানেটারি প্যারেড’। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তিনটি ঘটনা একসঙ্গে ক্যালেন্ডারে এসে পড়া বিরল হলেও এগুলো পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। পৃথিবী থেকে দেখা আকাশের অবস্থানের কারণে একই সময়কালে এমন চমকপ্রদ সমাবেশ দেখা যাচ্ছে।
পারসিড উল্কাবৃষ্টি: রাতের আকাশে ‘আলোর বৃষ্টি’
আগস্টের রাতের আকাশের অন্যতম আকর্ষণ পারসিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতিবছর জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই উল্কাবৃষ্টি সক্রিয় থাকে। তবে ২০২৬ সালে এর সর্বোচ্চ পর্যায় হবে ১২ আগস্টের রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত। এ বছর পারসিড দেখার পরিস্থিতি বিশেষভাবে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময়ের কাছাকাছি থাকবে নতুন চাঁদ। ফলে চাঁদের আলোয় আকাশ উজ্জ্বল হয়ে উল্কা দেখার ক্ষেত্রে যে বাধা তৈরি হয়, তা অনেকটাই থাকবে না।
পারসিড আসলে কোনো একটি তারার বিস্ফোরণ বা নক্ষত্রের পতন নয়। এটি সৃষ্টি হয় ১০৯পি/ সুইফট-টাটল (109P/ Swift-Tuttle) নামের ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধুলা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অতিক্রম করার সময়। পৃথিবী যখন ওই ধ্বংসাবশেষের অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যায়, তখন কণাগুলো প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণে উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে। পৃথিবী থেকে তখন এগুলোকে আকাশে দ্রুত ছুটে চলা উজ্জ্বল আলোর রেখার মতো দেখা যায়।
২০২৬ সালের পারসিডের সর্বোচ্চ সময়ে অনুকূল আকাশে প্রতি ঘণ্টায় কয়েক ডজন থেকে প্রায় ৫০–১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা নির্ভর করবে পর্যবেক্ষকের অবস্থান, আকাশের অন্ধকার, আবহাওয়া ও আলোকদূষণের ওপর।
পারসিড দেখার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। শহরের আলো থেকে দূরে গিয়ে খোলা জায়গা থেকে আকাশের দিকে তাকালেই উল্কা দেখার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং ভোরের দিকে উল্কা দেখার সুযোগ বাড়ে।
বাংলাদেশ থেকে: ১২ আগস্ট রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোরে পারসিড দেখার সুযোগ থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়া, মেঘ ও শহুরে আলোকদূষণ দৃশ্যমানতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: দিনের আকাশে নেমে আসবে রাতের আবহ
১২ আগস্ট ২০২৬-এর সবচেয়ে আলোচিত মহাজাগতিক ঘটনা হলো পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। এদিন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এমন অবস্থানে আসবে যে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে দেবে। তখন দিনের বেলায় অল্প সময়ের জন্য আকাশ অন্ধকার হয়ে আসবে এবং সূর্যের উজ্জ্বল পৃষ্ঠের পরিবর্তে তার বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দৃশ্যমান হবে।
এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পূর্ণতার পথ পৃথিবীর সব জায়গা দিয়ে যাবে না। নাসার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রহণের পথ উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আটলান্টিক মহাসাগর, উত্তর স্পেন এবং পর্তুগালের একটি ছোট অংশ অতিক্রম করবে। এর বাইরে বিস্তৃত অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে।
পূর্ণগ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যের ডিস্ক সম্পূর্ণ ঢেকে ফেললে কয়েক মিনিটের জন্য অসাধারণ দৃশ্য তৈরি হয়। আকাশের উজ্জ্বলতা হঠাৎ কমে যায়, তাপমাত্রায় সামান্য পরিবর্তন অনুভূত হতে পারে এবং সূর্যের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সাদা-রুপালি করোনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গ্রহণের শুরু ও শেষে ‘ডায়মন্ড রিং’ এবং ‘বেইলি’স বিডস’-এর মতো চমৎকার দৃশ্যও দেখা যেতে পারে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো–সাধারণ সানগ্লাস, ক্যামেরার সাধারণ ফিল্টার বা খালি চোখে সূর্যগ্রহণের আংশিক পর্যায় দেখা নিরাপদ নয়। সূর্য দেখার জন্য অবশ্যই উপযুক্ত সৌর পর্যবেক্ষণ চশমা বা অনুমোদিত সৌর ফিল্টার ব্যবহার করতে হয়।
বাংলাদেশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। ১২ আগস্টের পূর্ণতার মূল পথ বাংলাদেশের অনেক দূরে। তাই বাংলাদেশে বসে এই বিরল পূর্ণগ্রহণের সরাসরি দৃশ্য পাওয়ার সুযোগ নেই; তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রচার ও মহাকাশ সংস্থার লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমে এটি দেখা যাবে। নাসা জানিয়েছে, তারা গ্রহণের পথ ধরে সরাসরি সম্প্রচার করবে।
ছয় গ্রহের ‘প্ল্যানেটারি প্যারেড’: ভোরের আকাশে ছয় গ্রহ
১২ আগস্টের আরেকটি আকর্ষণ হলো ছয় গ্রহের প্ল্যানেটারি প্যারেড। এদিন ভোরের আকাশে একই সাধারণ অঞ্চলে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বুধ, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুনের।
তবে ‘ছয় গ্রহ এক সরলরেখায় দাঁড়াবে’–এভাবে বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। বাস্তবে গ্রহগুলো মহাকাশে একটি সরল রেখায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় না। পৃথিবী থেকে দেখলে তারা আকাশের একটি দীর্ঘ বক্ররেখা বা একই সাধারণ অঞ্চলে অবস্থান করছে বলে মনে হয়। এই কারণেই ঘটনাটিকে সাধারণভাবে ‘Planetary Parade’ বা ‘গ্রহের প্যারেড’ বলা হয়।
এই ছয় গ্রহের মধ্যে বৃহস্পতি, মঙ্গল, শনি ও বুধ তুলনামূলকভাবে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু ইউরেনাস ও নেপচুন অনেক বেশি ক্ষীণ হওয়ায় খালি চোখে দেখা কঠিন বা কার্যত অসম্ভব; এগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য দূরবীন বা টেলিস্কোপ প্রয়োজন হতে পারে।
গ্রহগুলোর এই সমাবেশ মূলত ভোরের আগে পূর্ব আকাশে পর্যবেক্ষণ করার বিষয়। তাই এটি সূর্যগ্রহণের মতো দিনের ঘটনা নয় এবং পারসিড উল্কাবৃষ্টির মতো গভীর রাতের ঘটনাও নয়। অর্থাৎ ১২ আগস্টকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বিভিন্ন সময়পর্বে তিন ধরনের আলাদা আকাশীয় দৃশ্য পাওয়া যাবে–ভোরে গ্রহের প্যারেড, দিনের নির্দিষ্ট অঞ্চলে সূর্যগ্রহণ এবং রাতে পারসিড উল্কাবৃষ্টি।
একই দিনে তিন মহাজাগতিক ঘটনা–কতটা বিরল?
১২ আগস্ট ২০২৬-এর বিশেষত্ব এখানেই। তিনটি ঘটনা একই মহাজাগতিক ‘লাইনআপ’-এর অংশ নয়, কিন্তু ক্যালেন্ডারের একই দিনে বা একই সময়সীমায় তাদের উপস্থিতি আকাশপ্রেমীদের জন্য দিনটিকে অসাধারণ করে তুলেছে।
ভোরে আকাশে দেখা যাবে ছয় গ্রহের দৃশ্যমান সমাবেশ।
দিনে পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।
আর রাতে আকাশে সক্রিয় থাকবে বছরের অন্যতম আলোচিত উল্কাবৃষ্টি–পারসিড।
নাসাও আগস্ট ২০২৬-কে বিশেষ আকাশ পর্যবেক্ষণের মাস হিসেবে তুলে ধরেছে; মাসটিতে সূর্যগ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টি এবং অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আকাশীয় ঘটনা রয়েছে।
\

আপনার মতামত লিখুন