দীর্ঘ ১৭ বছরের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুনরায় কনস্যুলার সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভেনেজুয়েলা ও ইসরায়েল। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারের তরফ থেকে যৌথভাবে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আনা হয়। বিশ্ব ভূরাজনীতির বিশ্লেষকরা একে ইসরায়েলের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে জোড়া লাগানোর পথে এক বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য,
২০০৯ সালে গাজা উপত্যকায়
ইসরায়েলি বাহিনীর নারকীয় বিমান হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তেল আবিবের সঙ্গে
সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ। পরবর্তীতে
নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলেও একইভাবে ইসরায়েলবিরোধী এই নীতি কঠোরভাবে
বজায় রাখা হয়।
তবে
চলতি বছরের শুরুর দিকে এক ঝটিকা
সামরিক অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে
তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
এই পটপরিবর্তনের পর দেশটির ক্ষমতায়
বসেন মাদুরোর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহচর ডেলসি রদ্রিগেজ।
মূলত তিনি দায়িত্ব গ্রহণ
করার পর থেকেই ইসরায়েলের
সাথে দ্বিপাক্ষিক বরফ গলাতে কূটনৈতিক
উদ্যোগ নিতে শুরু করেন।
কনস্যুলার
সেবা চালুর কারণ ও প্রেক্ষাপট
ব্যাখ্যা করে ভেনেজুয়েলা সরকারের
জারি করা এক বিবৃতিতে
বলা হয়, গত জুনে
দেশটিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ
ভূমিকম্পের পর ইসরায়েলের একটি
বিশেষ 'মানবিক প্রতিনিধিদল' ভেনেজুয়েলা সফরে আসে। ওই
সফরকালে উভয় দেশের জ্যেষ্ঠ
কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্গঠন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা
হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ
যৌথভাবে এই কনস্যুলার সেবা
চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে
আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল
এবং ভেনেজুয়েলার ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যকার ঐতিহ্যগত ঐতিহাসিক সম্পর্ককে উভয় সরকারই অত্যন্ত
গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।
এই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন
দুটি দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু
হিসেবে কাজ করছে। ভেনেজুয়েলার
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও হুবহু একই বিবৃতি প্রকাশ
করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন
ধরে বিশ্ব রাজনীতিতে ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল ভেনেজুয়েলা। তেল
উৎপাদনকারী এই দুই দেশই
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হচ্ছিল। এমনকি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও কড়া নিন্দা জানিয়েছিল
ইরান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের এই নতুন পদক্ষেপে
কারাকাস-তেহরান অক্ষ ভেঙে এখন
ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের নতুন
মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে।

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘ ১৭ বছরের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুনরায় কনস্যুলার সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভেনেজুয়েলা ও ইসরায়েল। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারের তরফ থেকে যৌথভাবে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আনা হয়। বিশ্ব ভূরাজনীতির বিশ্লেষকরা একে ইসরায়েলের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে জোড়া লাগানোর পথে এক বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য,
২০০৯ সালে গাজা উপত্যকায়
ইসরায়েলি বাহিনীর নারকীয় বিমান হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তেল আবিবের সঙ্গে
সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ। পরবর্তীতে
নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলেও একইভাবে ইসরায়েলবিরোধী এই নীতি কঠোরভাবে
বজায় রাখা হয়।
তবে
চলতি বছরের শুরুর দিকে এক ঝটিকা
সামরিক অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে
তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
এই পটপরিবর্তনের পর দেশটির ক্ষমতায়
বসেন মাদুরোর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহচর ডেলসি রদ্রিগেজ।
মূলত তিনি দায়িত্ব গ্রহণ
করার পর থেকেই ইসরায়েলের
সাথে দ্বিপাক্ষিক বরফ গলাতে কূটনৈতিক
উদ্যোগ নিতে শুরু করেন।
কনস্যুলার
সেবা চালুর কারণ ও প্রেক্ষাপট
ব্যাখ্যা করে ভেনেজুয়েলা সরকারের
জারি করা এক বিবৃতিতে
বলা হয়, গত জুনে
দেশটিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ
ভূমিকম্পের পর ইসরায়েলের একটি
বিশেষ 'মানবিক প্রতিনিধিদল' ভেনেজুয়েলা সফরে আসে। ওই
সফরকালে উভয় দেশের জ্যেষ্ঠ
কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্গঠন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা
হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ
যৌথভাবে এই কনস্যুলার সেবা
চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে
আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল
এবং ভেনেজুয়েলার ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যকার ঐতিহ্যগত ঐতিহাসিক সম্পর্ককে উভয় সরকারই অত্যন্ত
গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।
এই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন
দুটি দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু
হিসেবে কাজ করছে। ভেনেজুয়েলার
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও হুবহু একই বিবৃতি প্রকাশ
করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন
ধরে বিশ্ব রাজনীতিতে ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল ভেনেজুয়েলা। তেল
উৎপাদনকারী এই দুই দেশই
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হচ্ছিল। এমনকি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও কড়া নিন্দা জানিয়েছিল
ইরান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের এই নতুন পদক্ষেপে
কারাকাস-তেহরান অক্ষ ভেঙে এখন
ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের নতুন
মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন