অনাবৃষ্টি ও জলাশয়ে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পাটচাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ক্ষেতের আশপাশে পানি না থাকায় দূর-দূরান্তের নদী, খাল কিংবা পুকুরে নিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ও শ্রমিক বাবদ কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।
উপজেলার যদুনন্দীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদী ও খালের অল্প পানিতেই কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকদের মতে, সালথার গ্রামীণ অর্থনীতি মূলত পাট ও পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে সেচ খরচ এবং এখন দূর-দূরান্তে পাট পরিবহনের কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
যদুনন্দী এলাকার কৃষক মিরাজ মোল্যা বলেন, ‘জমির পাশে পানি নেই। বাধ্য হয়ে গাড়ি ভাড়া করে দূরে নদীতে পাট নিতে হচ্ছে। পাটের ভালো দাম না পেলে এবার বড় ধরনের লোকসান হবে।’ আরেক কৃষক আলাউদ্দিন জানান, অনেকে বাড়তি খরচের ভয়ে নিজের পুকুরে সেচ দিয়ে পানি ঢুকিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সালথা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে তোষা পাটের ‘জেআরও-৫২৪’ (নাবিল) জাতের চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
উপজেলা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের সেচ ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। এখন পুরোদমে আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেজাউল করিম জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে তীব্র অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর পাটের ফলন ও উৎপাদন কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন