সংবাদ

ফেনীতে ফের তীব্র গ্যাস সংকট : চুলা জ্বলছে না, অচল ফিলিং স্টেশন


এম. এমরান পাটোয়ারী, ফেনী
এম. এমরান পাটোয়ারী, ফেনী
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

ফেনীতে ফের তীব্র গ্যাস সংকট : চুলা জ্বলছে না, অচল ফিলিং স্টেশন
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফেনীতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে জেলার প্রায় সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার আবাসিক গ্রাহক। এলএনজি সরবরাহ না বাড়লে এই পরিস্থিতি সহসা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) ফেনী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রতিদিন প্রায় ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে ফেনীর ১৯ হাজারসহ জেলার ২৫ হাজার আবাসিক গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছেন না। এ ছাড়া ১২টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ২৯টি শিল্পকারখানার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

বাসাবাড়িতে ভোগান্তি, এলপিজির বাজারে অস্থিরতা
বুধবার দুপুর থেকে ফেনী শহরের অধিকাংশ এলাকায় চুলায় গ্যাস না থাকায় গৃহস্থালি কাজ অচল হয়ে পড়ে। বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকলেও সেখানে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দাম। শহরের নাজির রোডের বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, ‘আগে গ্যাসের চাপ কম ছিল, কিন্তু আজ একদম বন্ধ। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তবে সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা ১ হাজার ৬০০ টাকার এলপিজি এখন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।’

পরিবহন সংকট ও বাড়তি ভাড়া
গ্যাসের চাপ না থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছে না যানবাহনগুলো। নজির আহমেদ ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষারত সিএনজি অটোরিকশাচালক শহিদুল ইসলাম জানান, আগাম ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস বন্ধ হওয়ায় তারা গাড়ি বের করতে পারছেন না। এতে মালিকের জমা ও সংসারের খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রাস্তায় যানবাহন কমে যাওয়ায় পথচারীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।

স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক বিপুল শর্মা জানান, তাদের তিনটি স্টেশনে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ শূন্যের কোঠায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিজিডিসিএল এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের (FSRU) কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে কুমিল্লা, ফেনীসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে স্বল্পচাপ বা শূন্য চাপ বিরাজ করছে। বিজিডিসিএল ফেনী কার্যালয়ের বিক্রয় শাখার ব্যবস্থাপক কিরণ শংকর পাল জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস না আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থার সঞ্চালন বিভাগের ব্যবস্থাপক দেওয়ান মোস্তফা ইমরান বলেন, ‘এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের সংকট। এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ঠিক কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।’ উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও টানা ছয় দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন ফেনীবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


ফেনীতে ফের তীব্র গ্যাস সংকট : চুলা জ্বলছে না, অচল ফিলিং স্টেশন

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফেনীতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে জেলার প্রায় সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার আবাসিক গ্রাহক। এলএনজি সরবরাহ না বাড়লে এই পরিস্থিতি সহসা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) ফেনী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রতিদিন প্রায় ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে ফেনীর ১৯ হাজারসহ জেলার ২৫ হাজার আবাসিক গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছেন না। এ ছাড়া ১২টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ২৯টি শিল্পকারখানার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

বাসাবাড়িতে ভোগান্তি, এলপিজির বাজারে অস্থিরতা
বুধবার দুপুর থেকে ফেনী শহরের অধিকাংশ এলাকায় চুলায় গ্যাস না থাকায় গৃহস্থালি কাজ অচল হয়ে পড়ে। বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকলেও সেখানে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দাম। শহরের নাজির রোডের বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, ‘আগে গ্যাসের চাপ কম ছিল, কিন্তু আজ একদম বন্ধ। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তবে সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা ১ হাজার ৬০০ টাকার এলপিজি এখন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।’

পরিবহন সংকট ও বাড়তি ভাড়া
গ্যাসের চাপ না থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছে না যানবাহনগুলো। নজির আহমেদ ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষারত সিএনজি অটোরিকশাচালক শহিদুল ইসলাম জানান, আগাম ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস বন্ধ হওয়ায় তারা গাড়ি বের করতে পারছেন না। এতে মালিকের জমা ও সংসারের খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রাস্তায় যানবাহন কমে যাওয়ায় পথচারীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।

স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক বিপুল শর্মা জানান, তাদের তিনটি স্টেশনে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ শূন্যের কোঠায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিজিডিসিএল এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের (FSRU) কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে কুমিল্লা, ফেনীসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে স্বল্পচাপ বা শূন্য চাপ বিরাজ করছে। বিজিডিসিএল ফেনী কার্যালয়ের বিক্রয় শাখার ব্যবস্থাপক কিরণ শংকর পাল জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস না আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থার সঞ্চালন বিভাগের ব্যবস্থাপক দেওয়ান মোস্তফা ইমরান বলেন, ‘এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের সংকট। এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ঠিক কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।’ উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও টানা ছয় দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন ফেনীবাসী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত