নারায়ণগঞ্জের আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় আদালতের বেঁধে দেওয়া ৩০ কার্যদিবসের সময় তিন দফায় বাড়িয়ে নেওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার মামলার ১০৫তম শুনানির দিনেও প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষ।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজ মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ জানান, র্যাব-১১-এর তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার প্রতিবেদন দাখিল করেননি, এমনকি নতুন করে সময়ের কোনো আবেদনও জমা দেননি। শুনানি শেষে বিচারক নুরুল হুদা চৌধুরী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি আদালত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করে তিন দফায় এই সময় বাড়িয়ে নেন। গত ১ জুলাই তৃতীয় দফায় সময় চাইলে আদালত ১২ আগস্ট (আজ) দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু এদিনও কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা।
শুনানিকালে মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামি-জামশেদ শেখ, ইউসুফ হোসেন লিটন, কাজল হাওলাদার, শাফায়েত হোসেন শিপন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ ও রিফাত বিন ওসমান আদালতে হাজিরা দেন। তাদের মধ্যে জামশেদ শেখ বর্তমানে কারাগারে আছেন।
অন্যদিকে, পলাতক আসামি সুলতান শওকত ভ্রমর, সালেহ রহমান সীমান্ত ও আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বলেন, ‘জামিনে থাকা আসামি তায়েবউদ্দীন জ্যাকি অসুস্থতার দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না। আজ আবারও সময়ের আবেদন করা হলে আদালত তা শেষবারের মতো মঞ্জুর করেছেন। পরের তারিখে উপস্থিত না হলে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের এ বি রোড এলাকা থেকে ত্বকীকে অপহরণ করা হয়। ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ত্বকীর পরিবার ও স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।
আপনার মতামত লিখুন