রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার সার্বিক ফল খুব একটা আশাজাগানিয়া নয়। তবে এই ধূসর পরিস্থিতির মাঝেও বসন্তের বাতাসের মতো আনন্দ নিয়ে এসেছেন পাঁচ শিক্ষার্থী। উপজেলার তিনটি স্কুল থেকে ‘গোল্ডেন জিপিএ-৫’ পেয়ে তারা এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে। তাদের প্রত্যেকের সফলতার গল্প আলাদা, কিন্তু একটি জায়গায় সবাই এক-অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম।
আলোর পথে কাব্য
মাহফুজ হাসান কাব্যের গল্পটা হতে পারতো বিচ্ছেদের, কিন্তু তিনি সেটাকে বানিয়েছেন প্রত্যাবর্তনের। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় পড়ে পাঁচ মাস বই-খাতা থেকে দূরে ছিলেন কাব্য। এমনকি চোটের কারণে বিজ্ঞান বিষয়ের একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্যও হয়েছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি এই লড়াকু কিশোর। প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩.৭৫ পাওয়ার পর জেদ চেপে বসে মনে। শেষ কয়েক মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি আর শিক্ষকদের সহযোগিতায় তিনি গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চাওয়া কাব্য বলেন, ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়-কথাটা আমি নিজের জীবনে প্রমাণ করতে চেয়েছি।’
রুটিনের কারিগর সাবা
দেওয়ান পাড়া রহমত উল্লাহ কলেজিয়েট স্কুলের আরেক কৃতী মুখ সাবা তাবাসসুম। সাবার সাফল্যের চাবিকাঠি ছিল একটি কঠোর রুটিন। প্রতিদিন ভোরবেলা ফজর নামাজের পরপরই টেবিলে বসতেন তিনি। সাবা মনে করেন, ভোরের শান্ত পরিবেশে পড়াশোনা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। মা-বাবার নিবিড় তত্ত্বাবধান আর ধর্মীয় অনুশাসনকে সঙ্গী করে সাবা এখন স্বপ্ন দেখছেন বড় হয়ে মানুষের সেবা করার।
অথৈ ও সানজিনার ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ স্বপ্ন
গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী অথৈ ও সানজিনা ইসলাম। অথৈয়ের মতে, ‘পড়াশোনাকে জমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করলেই পরীক্ষার ভয় অর্ধেক কেটে যায়।’ গণিত আর পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সব সমীকরণে আনন্দ খুঁজে পাওয়া অথৈ ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চান।
অন্যদিকে, সানজিনা ইসলামের বাবা প্রবাসে থাকেন। বাবার অনুপস্থিতিতে মায়ের প্রেরণাই ছিল তার প্রধান শক্তি। সানজিনা বলেন, ‘দশম শ্রেণিতে যখন বিজ্ঞান বিভাগ বেছে নিয়েছিলাম, তখন থেকেই মনে মনে একটি লক্ষ্য ঠিক করে নিয়েছিলাম। আজ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।’
মায়ের আদরে সোহাগের জয়
লোটাস কলেজিয়েট স্কুলের সোহাগ মোল্লা তার সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব দিতে চান তার মাকে। বাবা প্রবাসে থাকায় মায়ের একক চেষ্টায় গড়ে উঠেছেন তিনি। সোহাগের মাও ছেলের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেননি। অযথা সময় নষ্ট না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া এবং নিয়মিত নামাজ পড়ার অভ্যাসই সোহাগকে এনে দিয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। সোহাগের লক্ষ্য এখন সাদা অ্যাপ্রন আর স্টেথোস্কোপ-একজন আদর্শ চিকিৎসক হওয়া।
গোয়ালন্দের এই পাঁচ নক্ষত্র কেবল নিজেদের পরিবার নয়, পুরো উপজেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাদের এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই একদিন বিশাল সাফল্যের গল্প হয়ে ফিরবে-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার সার্বিক ফল খুব একটা আশাজাগানিয়া নয়। তবে এই ধূসর পরিস্থিতির মাঝেও বসন্তের বাতাসের মতো আনন্দ নিয়ে এসেছেন পাঁচ শিক্ষার্থী। উপজেলার তিনটি স্কুল থেকে ‘গোল্ডেন জিপিএ-৫’ পেয়ে তারা এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে। তাদের প্রত্যেকের সফলতার গল্প আলাদা, কিন্তু একটি জায়গায় সবাই এক-অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম।
আলোর পথে কাব্য
মাহফুজ হাসান কাব্যের গল্পটা হতে পারতো বিচ্ছেদের, কিন্তু তিনি সেটাকে বানিয়েছেন প্রত্যাবর্তনের। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় পড়ে পাঁচ মাস বই-খাতা থেকে দূরে ছিলেন কাব্য। এমনকি চোটের কারণে বিজ্ঞান বিষয়ের একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্যও হয়েছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি এই লড়াকু কিশোর। প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩.৭৫ পাওয়ার পর জেদ চেপে বসে মনে। শেষ কয়েক মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি আর শিক্ষকদের সহযোগিতায় তিনি গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চাওয়া কাব্য বলেন, ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়-কথাটা আমি নিজের জীবনে প্রমাণ করতে চেয়েছি।’
রুটিনের কারিগর সাবা
দেওয়ান পাড়া রহমত উল্লাহ কলেজিয়েট স্কুলের আরেক কৃতী মুখ সাবা তাবাসসুম। সাবার সাফল্যের চাবিকাঠি ছিল একটি কঠোর রুটিন। প্রতিদিন ভোরবেলা ফজর নামাজের পরপরই টেবিলে বসতেন তিনি। সাবা মনে করেন, ভোরের শান্ত পরিবেশে পড়াশোনা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। মা-বাবার নিবিড় তত্ত্বাবধান আর ধর্মীয় অনুশাসনকে সঙ্গী করে সাবা এখন স্বপ্ন দেখছেন বড় হয়ে মানুষের সেবা করার।
অথৈ ও সানজিনার ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ স্বপ্ন
গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী অথৈ ও সানজিনা ইসলাম। অথৈয়ের মতে, ‘পড়াশোনাকে জমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করলেই পরীক্ষার ভয় অর্ধেক কেটে যায়।’ গণিত আর পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সব সমীকরণে আনন্দ খুঁজে পাওয়া অথৈ ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চান।
অন্যদিকে, সানজিনা ইসলামের বাবা প্রবাসে থাকেন। বাবার অনুপস্থিতিতে মায়ের প্রেরণাই ছিল তার প্রধান শক্তি। সানজিনা বলেন, ‘দশম শ্রেণিতে যখন বিজ্ঞান বিভাগ বেছে নিয়েছিলাম, তখন থেকেই মনে মনে একটি লক্ষ্য ঠিক করে নিয়েছিলাম। আজ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।’
মায়ের আদরে সোহাগের জয়
লোটাস কলেজিয়েট স্কুলের সোহাগ মোল্লা তার সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব দিতে চান তার মাকে। বাবা প্রবাসে থাকায় মায়ের একক চেষ্টায় গড়ে উঠেছেন তিনি। সোহাগের মাও ছেলের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেননি। অযথা সময় নষ্ট না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া এবং নিয়মিত নামাজ পড়ার অভ্যাসই সোহাগকে এনে দিয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। সোহাগের লক্ষ্য এখন সাদা অ্যাপ্রন আর স্টেথোস্কোপ-একজন আদর্শ চিকিৎসক হওয়া।
গোয়ালন্দের এই পাঁচ নক্ষত্র কেবল নিজেদের পরিবার নয়, পুরো উপজেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাদের এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই একদিন বিশাল সাফল্যের গল্প হয়ে ফিরবে-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের।

আপনার মতামত লিখুন