হি হি, কি যে কন “বিলাতি মেমের চাপে বাঙালি বেগম কাঁপে!” আরে আমগো শখিনা জরিনা এই সব বঙ্গালি খান্ডারনি বেগমের লগে কি পারবো আপনার বিলাতি বেগম!
মুখে তুই যাই বল, তোর ভাষায়, শখিনা জরিনা এই সব বঙ্গালি খান্ডারনি বেগমরা তো দেখছি বিলাতি বেগমের কাছে একেবারে নস্যি পদে পদে হোঁচট খাচ্চে!
হুরর এই কতা কোইলে হোইবো? বাঙলার মাটি বাঙলার জল, বাঙলার বায়ু বাঙলার ফল এইসবের সঙ্গে বিলাতি মেমের পরিচয় হওনের পর না হ্যেই বাঙালী বেগমর কাঁপাইবো? বিলাতি মেম তো বাঙলার রাস্তাঘাট কিছুই ঠিকমতো চেনে না। আপনেই কন বিলাতি মেম ক্যেমনে বাঙালি বেগমের সাথে পারবো?
আরে বুড়বক “লন্ডন ফগ” এই “লন্ডন ফগ”এর মানে জানিস?
জ্বী, না। “লন্ডন ফগ” এইডা আবার কী? এইডা কি কোনো আইসক্রীমের নাম? খাওন যায়?
এই খানেইতো, তোর বাঙালী বেগম মার খাচ্ছে। “লন্ডন ফগ” হচ্ছে লন্ডনে মাঝে মাঝে এ্যমোন ফগ মানে কুয়াশা হয় যে দু’হাত দূরের জিনিস দ্যেখা যায়না। সেই “লন্ডন ফগ-এর মাঝে আমাদের বিলাতি মেম যুগের পর যুগ কাটিয়েছেন, বুঝেছিস বিলাতি মেম অন্ধকারে থেকেই বলে দিতে পারেন কে বন্ধু আর কে শত্রু। তাই তোর বাঙলার রাস্তঘাট, অলিগলি, চোরাগুপ্তা মার সবই ওঁরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারেন, সব কিছু প্রায় দিব্য চক্ষু দিয়ে দেখতে পারেন। এ যেন শিব ঠাকুরের তৃতীয় নয়ন।
ভাইরে আপনে যদি এ্যতোই আঁন্ধার রাইতে কোইতে পারেন কে বন্ধু কে শত্রু, কে ভালো কে মন্দ, কে চোর কে ডাকাইত, তায়লে তিন দিন না যাইতেই কোইলেন, আমি কিন্তু আমার দরবারের ইম্পোর্টেড নব রত্ন চেঞ্জ কোইরা লুক্যাল পাবলিকরে চান্স দিমু! তায়লে আপনের বিলাতি মেম তো ফেইল মারলো। আমি আগেই কোইছিলাম বাঙলার মাটি বাঙলার জল, বাঙলার বায়ু বাঙলার ফল, বাঙলার রাস্ত ঘাট, অলি গলি, চোরা গুপ্তা মাইর, এইসব নাবুইঝা বিলাতি মেমরে দায়িত্ব দিলে ধরাতো খাইবেনই।
আরে ভাই “ওয়ান স্টেপ ফরওর্য়াড, টু ষ্টেপস ব্যাক” মানে বুঝিস, বিলাতি মেমরা অনেক ধী’শক্তি সম্পন্ন, তারা কখনোই সেকেন্ড লাইন অব্ধসঢ়; ডিফেন্স ছাড়া আগাবেন না।
হা হা. হাসাইলেন মিয়া, সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্স! প্রতিদিন প্রথম লাইনেই যেই ভাবে পাবলিক থ্যেইক্কা মাল কামাইতেছে, এর উপর যদি আবার সেকেন্ড লাইনরে মাল দিতে হয়, তায়লেতো হকার মকার, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, ভূমি দস্যু, বালু খেকো ছলিম, ব্যেবাগতে চাট্টি বাট্টি গুটায়া দ্যেশের থ্যেইক্কা পুশ আউট কইরা বেগম পাড়ায় যায়া ঘর বাঁধবো।
ধ্যাৎত্তেরি, তোর সঙ্গে কথা বলাই ঝকমারি। সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্স মানে টাকা তোলার সেকেন্ড লাইন নয়, সেকেন্ড লাইন অব্ধসঢ়; ডিফেন্স মানে যদি কেউ কাজ ঠিক মতো না পারে তাহলে তার পরিবর্তে আর একজন সাথে সাথে দায়িত্ব নিবেন। কাজ যাতে সুন্দর গতিতে এগিয়ে যায়। কাজের যাতো কোনো ব্যাঘাৎ না ঘটে।
হীঃ হীঃ কি সুন্দর কোইলেন, কাজের যাতো কোনো ব্যাঘাৎ না ঘটে! আরে মিয়া ব্যেবাগ মেগা প্রজেক্ট বন্ধ, কেউ কোত্থাও নেই। ব্যেবাগ বড় বড় সাইটে শুন শান, কব্বরের নীরবতা, ড্রিল মেশিনের চিল্লানিতো নাইই, এ্যমোন কি একটা কুত্তার ডাকও শোনা যায়না! আপনে কন সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্স মানে, কাজ যাতে সুন্দর গতিতে এগিয়ে যায়। কাজই নাই কাজ আবার সুন্দও মতো আ¹ায় ক্যেমনে!!
বাহ কর্মদোষে যারা তাদের মেগা প্রজেক্ট বন্ধ কোরে পাইলয়েছে, তারা আবার ফিরে আসবে এটা কেবল সময়ের ব্যাপার। দ্যেখনা তোর ডিসেম্বরের মাঝেই হারানো দিনের মতো যারা হারিয়ে গিয়েছিলো তারা আবার ফিরে আসবে, এই ধনসিঁড়ি নদীটির তীরে, হয়তো রাণী নয়, সম্রাজ্ঞী নয়, কয়েদীর স্বল্প পোষাকে...
ভাইডি কি যে কন স্বল্প পোষাকে!! এইডা কি আপনের বিলাতের সী’বিচনি যে কেবল দুই পিস স্বল্প পোষাক পিন্দা ঘুরবেন!
ভেবে দ্যেখ আমাদের বিলাতি জনগন কত্তো সভ্য হাতের কাছে সব স্বল্প বসনা, উদভিন্না নারীরা হেঁটে ব্যেড়াচ্ছে, ছুঁয়ে দ্যেখাতো দূরের কথা কেউ একটু চোখ তুলেও তাকায়না। আর তোদেও এখানে শালোয়ার-কামিজ থ্রী’পিস পরে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে স্নান করলে তার ভিডিওতে টু’মিলিয়ন লাইক। ভাবতে পারিস ক্যেমোন সব ভদ্র সভ্য সন্তানের হাতে আজ বাংলার ভাগ্য নির্ধারিত।
বাঙলা মা আজ গর্বিত। তার বিলাত থেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত সভ্য সন্তানরা দেশ পরিচালনার ভার পেয়েছেন। এবার বুঝি সোনার মৃগ দ্যেয় বুঝি দ্যেয় ধরা...
সোনার মৃগ ধরা দিবো কিনা জানিনা, তয় এবার আপনের বিলাইতি ম্যেম আর বাঙ্গালী বেগমের চুলাচুলি বন্ধ না করলে কোইলাম খবর আছে। সোনার মৃগ তো ধরা পড়বোই না, কিন্তু আপনে সিধা ধরা খাইবেন।
না না আর নেগেটিভ কথা বলিস না, এবার যে কোরেই হোক, বিলাতি মেমে আর বাঙালি বেগম দুই বোন একসাথে মিলেমিশে থাকবে দেশে আবার ফুল ফুটবে, আবার তোর মেগা-প্রজেক্ট গুলোতে ড্রীল মেশিনের কোলাহলে দেশ আবার এগিয়ে যাবে, জিডিপি বাড়বে, ভাবতেই গাটা শিউরে উটছে।
দোয়া করি আপনে বিলাতি-বাঙালী দুই বোইনরে মিলায়া সংসারটা সুন্দর করেন।
কাউয়ার মতুন একচোখা না হয়া দুই চক্ষুদিয়া সব কিছু দ্যেইক্ষা শুইন্না আ¹ুয়া জান আমরা আছি আপনের সঙ্গে...
জয়য়য়...ভাইয়া, জাউ¹া ব্যান্ড সঙ্গীত গামু না!
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
হি হি, কি যে কন “বিলাতি মেমের চাপে বাঙালি বেগম কাঁপে!” আরে আমগো শখিনা জরিনা এই সব বঙ্গালি খান্ডারনি বেগমের লগে কি পারবো আপনার বিলাতি বেগম!
মুখে তুই যাই বল, তোর ভাষায়, শখিনা জরিনা এই সব বঙ্গালি খান্ডারনি বেগমরা তো দেখছি বিলাতি বেগমের কাছে একেবারে নস্যি পদে পদে হোঁচট খাচ্চে!
হুরর এই কতা কোইলে হোইবো? বাঙলার মাটি বাঙলার জল, বাঙলার বায়ু বাঙলার ফল এইসবের সঙ্গে বিলাতি মেমের পরিচয় হওনের পর না হ্যেই বাঙালী বেগমর কাঁপাইবো? বিলাতি মেম তো বাঙলার রাস্তাঘাট কিছুই ঠিকমতো চেনে না। আপনেই কন বিলাতি মেম ক্যেমনে বাঙালি বেগমের সাথে পারবো?
আরে বুড়বক “লন্ডন ফগ” এই “লন্ডন ফগ”এর মানে জানিস?
জ্বী, না। “লন্ডন ফগ” এইডা আবার কী? এইডা কি কোনো আইসক্রীমের নাম? খাওন যায়?
এই খানেইতো, তোর বাঙালী বেগম মার খাচ্ছে। “লন্ডন ফগ” হচ্ছে লন্ডনে মাঝে মাঝে এ্যমোন ফগ মানে কুয়াশা হয় যে দু’হাত দূরের জিনিস দ্যেখা যায়না। সেই “লন্ডন ফগ-এর মাঝে আমাদের বিলাতি মেম যুগের পর যুগ কাটিয়েছেন, বুঝেছিস বিলাতি মেম অন্ধকারে থেকেই বলে দিতে পারেন কে বন্ধু আর কে শত্রু। তাই তোর বাঙলার রাস্তঘাট, অলিগলি, চোরাগুপ্তা মার সবই ওঁরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারেন, সব কিছু প্রায় দিব্য চক্ষু দিয়ে দেখতে পারেন। এ যেন শিব ঠাকুরের তৃতীয় নয়ন।
ভাইরে আপনে যদি এ্যতোই আঁন্ধার রাইতে কোইতে পারেন কে বন্ধু কে শত্রু, কে ভালো কে মন্দ, কে চোর কে ডাকাইত, তায়লে তিন দিন না যাইতেই কোইলেন, আমি কিন্তু আমার দরবারের ইম্পোর্টেড নব রত্ন চেঞ্জ কোইরা লুক্যাল পাবলিকরে চান্স দিমু! তায়লে আপনের বিলাতি মেম তো ফেইল মারলো। আমি আগেই কোইছিলাম বাঙলার মাটি বাঙলার জল, বাঙলার বায়ু বাঙলার ফল, বাঙলার রাস্ত ঘাট, অলি গলি, চোরা গুপ্তা মাইর, এইসব নাবুইঝা বিলাতি মেমরে দায়িত্ব দিলে ধরাতো খাইবেনই।
আরে ভাই “ওয়ান স্টেপ ফরওর্য়াড, টু ষ্টেপস ব্যাক” মানে বুঝিস, বিলাতি মেমরা অনেক ধী’শক্তি সম্পন্ন, তারা কখনোই সেকেন্ড লাইন অব্ধসঢ়; ডিফেন্স ছাড়া আগাবেন না।
হা হা. হাসাইলেন মিয়া, সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্স! প্রতিদিন প্রথম লাইনেই যেই ভাবে পাবলিক থ্যেইক্কা মাল কামাইতেছে, এর উপর যদি আবার সেকেন্ড লাইনরে মাল দিতে হয়, তায়লেতো হকার মকার, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, ভূমি দস্যু, বালু খেকো ছলিম, ব্যেবাগতে চাট্টি বাট্টি গুটায়া দ্যেশের থ্যেইক্কা পুশ আউট কইরা বেগম পাড়ায় যায়া ঘর বাঁধবো।
ধ্যাৎত্তেরি, তোর সঙ্গে কথা বলাই ঝকমারি। সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্স মানে টাকা তোলার সেকেন্ড লাইন নয়, সেকেন্ড লাইন অব্ধসঢ়; ডিফেন্স মানে যদি কেউ কাজ ঠিক মতো না পারে তাহলে তার পরিবর্তে আর একজন সাথে সাথে দায়িত্ব নিবেন। কাজ যাতে সুন্দর গতিতে এগিয়ে যায়। কাজের যাতো কোনো ব্যাঘাৎ না ঘটে।
হীঃ হীঃ কি সুন্দর কোইলেন, কাজের যাতো কোনো ব্যাঘাৎ না ঘটে! আরে মিয়া ব্যেবাগ মেগা প্রজেক্ট বন্ধ, কেউ কোত্থাও নেই। ব্যেবাগ বড় বড় সাইটে শুন শান, কব্বরের নীরবতা, ড্রিল মেশিনের চিল্লানিতো নাইই, এ্যমোন কি একটা কুত্তার ডাকও শোনা যায়না! আপনে কন সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্স মানে, কাজ যাতে সুন্দর গতিতে এগিয়ে যায়। কাজই নাই কাজ আবার সুন্দও মতো আ¹ায় ক্যেমনে!!
বাহ কর্মদোষে যারা তাদের মেগা প্রজেক্ট বন্ধ কোরে পাইলয়েছে, তারা আবার ফিরে আসবে এটা কেবল সময়ের ব্যাপার। দ্যেখনা তোর ডিসেম্বরের মাঝেই হারানো দিনের মতো যারা হারিয়ে গিয়েছিলো তারা আবার ফিরে আসবে, এই ধনসিঁড়ি নদীটির তীরে, হয়তো রাণী নয়, সম্রাজ্ঞী নয়, কয়েদীর স্বল্প পোষাকে...
ভাইডি কি যে কন স্বল্প পোষাকে!! এইডা কি আপনের বিলাতের সী’বিচনি যে কেবল দুই পিস স্বল্প পোষাক পিন্দা ঘুরবেন!
ভেবে দ্যেখ আমাদের বিলাতি জনগন কত্তো সভ্য হাতের কাছে সব স্বল্প বসনা, উদভিন্না নারীরা হেঁটে ব্যেড়াচ্ছে, ছুঁয়ে দ্যেখাতো দূরের কথা কেউ একটু চোখ তুলেও তাকায়না। আর তোদেও এখানে শালোয়ার-কামিজ থ্রী’পিস পরে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে স্নান করলে তার ভিডিওতে টু’মিলিয়ন লাইক। ভাবতে পারিস ক্যেমোন সব ভদ্র সভ্য সন্তানের হাতে আজ বাংলার ভাগ্য নির্ধারিত।
বাঙলা মা আজ গর্বিত। তার বিলাত থেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত সভ্য সন্তানরা দেশ পরিচালনার ভার পেয়েছেন। এবার বুঝি সোনার মৃগ দ্যেয় বুঝি দ্যেয় ধরা...
সোনার মৃগ ধরা দিবো কিনা জানিনা, তয় এবার আপনের বিলাইতি ম্যেম আর বাঙ্গালী বেগমের চুলাচুলি বন্ধ না করলে কোইলাম খবর আছে। সোনার মৃগ তো ধরা পড়বোই না, কিন্তু আপনে সিধা ধরা খাইবেন।
না না আর নেগেটিভ কথা বলিস না, এবার যে কোরেই হোক, বিলাতি মেমে আর বাঙালি বেগম দুই বোন একসাথে মিলেমিশে থাকবে দেশে আবার ফুল ফুটবে, আবার তোর মেগা-প্রজেক্ট গুলোতে ড্রীল মেশিনের কোলাহলে দেশ আবার এগিয়ে যাবে, জিডিপি বাড়বে, ভাবতেই গাটা শিউরে উটছে।
দোয়া করি আপনে বিলাতি-বাঙালী দুই বোইনরে মিলায়া সংসারটা সুন্দর করেন।
কাউয়ার মতুন একচোখা না হয়া দুই চক্ষুদিয়া সব কিছু দ্যেইক্ষা শুইন্না আ¹ুয়া জান আমরা আছি আপনের সঙ্গে...
জয়য়য়...ভাইয়া, জাউ¹া ব্যান্ড সঙ্গীত গামু না!
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন