সংবাদ

ঢাকা ক্লাব লাইব্রেরি: শতবছরের কল্লোল


হোসেন আবদুল মান্নান
হোসেন আবদুল মান্নান
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

ঢাকা ক্লাব লাইব্রেরি: শতবছরের কল্লোল

একথা নিশ্চিত করেই বলা যায়, ঢাকা শহরের সবচেয়ে প্রাচীন এক সামাজিক ক্লাবের নাম ঢাকা ক্লাব। ১৯১১ সাল থেকে ঢাকার শাহবাগ এবং রমনার সবুজ বনানী ঘেঁষে  এর যাত্রা শুরু হয়। ইতিহাস বলে, ঢাকার নবাবদের বাগান বাড়ি এলাকার বিশালায়তনের ভূমি নিয়ে ভারতবর্ষে কর্মরত বৃটিশ সিভিল সার্ভেন্টরা তথা ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং কালেক্টরগণের উদ্যোগে এ ক্লাবের গোড়াপত্তন হয়। 

উল্লেখ করা যায় যে, উনবিংশ  শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতের বিভিন্ন বড় শহরে একই ধরনের ক্লাব-সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। যদিও বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে খানিকটা বিলম্বে এসে এ সকল স্টেশনক্লাবের সূচনা হয়। বলা হয়ে থাকে, বৃটিশ সিভিল সার্ভিস ১৭৬৫ সাল থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত   কোম্পানির শাসন অর্থাৎ শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা শাসিত হয়।  তাদের ঔপনিবেশিক শাসন চলে মূলত ১৮৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়ে। সে সময় কালেই তারা ভারতবর্ষের নানা গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিশেষ করে দিল্লি, বোম্বে, পাঞ্জাব, কলকাতায় গড়ে তোলে ইংরেজ স্টেশন ক্লাব। যেখানে গান বাজনা, আড্ডা, নেটিভদের ওপর শাসনের কলাকৌশল নিয়ে ভাবনা এবং একইসঙ্গে শারীরিক কসরতের নিমিত্ত এক জনবিচ্ছিন্ন  নিরাপদ স্থান গড়ে তোলে।

২.

ঐতিহাসিক তথ্য-কণিকায় জানা যায়, আজ থেকে ১৩১ বছর আগে ঢাকা যখন প্রাদেশিক রাজধানীর স্বীকৃতি লাভ করে, তখন থেকেই বৃটিশ শাসকরা ঢাকায় ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পরে তারা মফস্বল শহর ঢাকাকে নতুন আদলে গড়ে তোলার প্রয়াস হিসেবে এখানে একটা অভিজাত ক্লাব প্রতিষ্টার উদ্যোগ নেন।     কথিত আছে, ঢাকা ক্লাব প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নে কয়েকজন বৃটিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তিনজন পুলিশ অফিসার এবং তৎকালীন সময়ের ঢাকার একজন করে বড় ব্যবসায়ী, ডাক্তার, প্রকৌশলী ও ব্যাংকারের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি বাই ল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। 

সেকালে বৃটিশ সিভিলিয়ানদের সান্ধ্য ক্লাবে বিলিয়ার্ডসহ নানা ইনডোর গেমের সঙ্গে নেশা জাতীয় পানীয় যেমন থাকত, তেমনি কতিপয় আইনের বইসহ গল্প, কবিতা, গানের বইও থাকতো বলে এদের অনেকের স্মৃতি কথায় তা ওঠে এসেছে। এটাও অনস্বীকার্য যে, সাতসমুদ্র পাড়ি দিয়ে আসা পরিবারবিহীন তরুণ  সিভিলিয়ানদের একাকীত্বকে দূরে রাখার উদ্দেশেই এ অঞ্চলে এজাতীয় ক্লাব-সংস্কৃতি শুরু হয়।   

৩. 

ইতিহাস ঐতিহ্যের গর্বিত ধারক ঢাকা ক্লাবে একটা অতি সমৃদ্ধ ও মানসম্মত লাইব্রেরি রয়েছে। তবে  লাইব্রেরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা কবে থেকে হয়, হাতের কাছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। হরেকরকম বইপুস্তক ও প্রাচীন পত্র-পত্রিকার সংকলনসহ সেখানে দুর্লভ কিছু অজানা ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায়। আগ্রহী পাঠকের জন্য রয়েছে চমৎকার অনুকূল ব্যবস্থা। তবে পাঠক সীমাবদ্ধতার কারণে লাইব্রেরির ব্যবহার খুব বেশি হচ্ছে না। এখানকার পাঠক বলতে  সবাই ক্লাব সদস্য হওয়ায় লাইব্রেরিটা প্রায় সুনশান-নিস্তব্ধ। এখানে বাইরের পাঠকের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। এক সময়ের প্রবীণ সদস্যগণ যারা ক্লাবমুখী ও বইবান্ধব ছিলেন তারা অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই। অন্যদিকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির আশীর্বাদ নিয়ে মানুষ আজকে  ঘরে বসেই পছন্দের বইয়ের ওপর চোখ রাখতে সক্ষম হচ্ছে। মৌলিক গবেষণার কাজও আজকাল আর সেই আগ্রহ ও আন্তরিকতা দিয়ে হচ্ছে না। ফলে দেশের অসংখ্য লাইব্রেরি পাঠক হারিয়ে ক্রমাগত অতীতের জৌলুশ হারানোর শঙ্কায় উপনীত। 

জেনে রাখা ভালো, এ মুহূর্তে ঢাকা ক্লাবে মোট বইয়ের সংখ্যা ১৮,১০০ বা এর কাছাকাছি। এর মধ্যে বাংলা বইয়ের সংখ্যা ১০,২২২টি, ইংরেজি বই ৭,৮৭৮টি। গল্প, উপন্যাসের সংখ্যা ৪,৩৬৮ টি, ফিকশন ৪,৩১০ টি, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, রাজনীতি মিলে ১,১৪২টি, অর্থনীতি ২২৯টি, স্পোর্টস ১৪০টি, রেফারেন্স বই ১,১৬২টি, ছোটদের বই ৬৪৭টি, আত্মজীবনী ১৮৫টি ইত্যাদি। 

এসব মূল্যবান বই সংরক্ষণের জন্যে সেখানে রয়েছে মোট ৫৪টি বুক শেলফ এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা। এবং সেখানে  লাইব্রেরিয়ান হিসেবে পদায়ন করা আছে একাধিক কর্মচারী। 

দেখলে মনে হবে, যুগ যুগ ধরে শেলফে দাঁড়িয়ে থাকা শত-শত বোবা বই তাকিয়ে আছে অচেনা কোনো পাঠকের আঙুলের সামান্য একটু স্পর্শ পাওয়ার জন্যে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে বলেছেন, ‘শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থান পতনের শব্দ শুনিতেছ? এখানে জীবিত ও মৃত ব্যক্তির হৃদয় পাশাপাশি একপাড়ায় বাস করিতেছে’। 

৪.

ঢাকা ক্লাব লাইব্রেরিতে রক্ষিত হাজার হাজার বইয়ের কাতারে এমন অসংখ্য বিখ্যাত ও প্রথিতযশা লেখকের বই রয়েছে। যারা নিজেরা ক্লাব সদস্য হয়ে সৌজন্য কপি হিসেবে ক্লাবের লাইব্রেরিকে উপহার দিয়েছেন। লেখকদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই কিন্তু তাদের স্বাক্ষরিত বইটি অক্ষয় স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। 

মজার ব্যাপার হলো, এ লাইব্রেরিতে বাংলাভাষার চিরায়ত সাহিত্যের অনেক জনপ্রিয় ও কালোত্তীর্ণ বইয়ের প্রথম প্রকাশিত সংখ্যাটি রয়েছে। যা দেশের অন্য কোনো বইয়ের দোকানে সচরাচর পাওয়া সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে দুটো বইয়ের কথা বলা যায়, প্রথম-বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি লেখক ও সাংবাদিক যাযাবর (বিনয় মুখোপাধ্যায়) এর ‘দৃষ্টিপাত’ বইটা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৫৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯৪৭ সালে। প্রকাশক, নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা। মূল্য তিন টাকা।

দ্বিতীয় -সৈয়দ মুজতবা আলী’র প্রথম বই ‘দেশে-বিদেশে’র প্রথম প্রকাশকাল ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ বা ১৯৪৯ সালে। প্রকাশক একই। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে পাঁচ টাকা। উল্লেখ্য যে, বইয়ের প্রথম প্রকাশকালে লেখকের নাম ড. সৈয়দ মুজতবা আলী লেখা রয়েছে। মনে হয়, পরবর্তীকালে সৈয়দ মুজতবা আলী লেখক হিসেবে ‘ডক্টর’ শব্দটি আর লেখেননি।

[লেখক: গল্পকার]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


ঢাকা ক্লাব লাইব্রেরি: শতবছরের কল্লোল

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

একথা নিশ্চিত করেই বলা যায়, ঢাকা শহরের সবচেয়ে প্রাচীন এক সামাজিক ক্লাবের নাম ঢাকা ক্লাব। ১৯১১ সাল থেকে ঢাকার শাহবাগ এবং রমনার সবুজ বনানী ঘেঁষে  এর যাত্রা শুরু হয়। ইতিহাস বলে, ঢাকার নবাবদের বাগান বাড়ি এলাকার বিশালায়তনের ভূমি নিয়ে ভারতবর্ষে কর্মরত বৃটিশ সিভিল সার্ভেন্টরা তথা ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং কালেক্টরগণের উদ্যোগে এ ক্লাবের গোড়াপত্তন হয়। 

উল্লেখ করা যায় যে, উনবিংশ  শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতের বিভিন্ন বড় শহরে একই ধরনের ক্লাব-সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। যদিও বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে খানিকটা বিলম্বে এসে এ সকল স্টেশনক্লাবের সূচনা হয়। বলা হয়ে থাকে, বৃটিশ সিভিল সার্ভিস ১৭৬৫ সাল থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত   কোম্পানির শাসন অর্থাৎ শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা শাসিত হয়।  তাদের ঔপনিবেশিক শাসন চলে মূলত ১৮৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়ে। সে সময় কালেই তারা ভারতবর্ষের নানা গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিশেষ করে দিল্লি, বোম্বে, পাঞ্জাব, কলকাতায় গড়ে তোলে ইংরেজ স্টেশন ক্লাব। যেখানে গান বাজনা, আড্ডা, নেটিভদের ওপর শাসনের কলাকৌশল নিয়ে ভাবনা এবং একইসঙ্গে শারীরিক কসরতের নিমিত্ত এক জনবিচ্ছিন্ন  নিরাপদ স্থান গড়ে তোলে।

২.

ঐতিহাসিক তথ্য-কণিকায় জানা যায়, আজ থেকে ১৩১ বছর আগে ঢাকা যখন প্রাদেশিক রাজধানীর স্বীকৃতি লাভ করে, তখন থেকেই বৃটিশ শাসকরা ঢাকায় ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পরে তারা মফস্বল শহর ঢাকাকে নতুন আদলে গড়ে তোলার প্রয়াস হিসেবে এখানে একটা অভিজাত ক্লাব প্রতিষ্টার উদ্যোগ নেন।     কথিত আছে, ঢাকা ক্লাব প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নে কয়েকজন বৃটিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তিনজন পুলিশ অফিসার এবং তৎকালীন সময়ের ঢাকার একজন করে বড় ব্যবসায়ী, ডাক্তার, প্রকৌশলী ও ব্যাংকারের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি বাই ল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। 

সেকালে বৃটিশ সিভিলিয়ানদের সান্ধ্য ক্লাবে বিলিয়ার্ডসহ নানা ইনডোর গেমের সঙ্গে নেশা জাতীয় পানীয় যেমন থাকত, তেমনি কতিপয় আইনের বইসহ গল্প, কবিতা, গানের বইও থাকতো বলে এদের অনেকের স্মৃতি কথায় তা ওঠে এসেছে। এটাও অনস্বীকার্য যে, সাতসমুদ্র পাড়ি দিয়ে আসা পরিবারবিহীন তরুণ  সিভিলিয়ানদের একাকীত্বকে দূরে রাখার উদ্দেশেই এ অঞ্চলে এজাতীয় ক্লাব-সংস্কৃতি শুরু হয়।   

৩. 

ইতিহাস ঐতিহ্যের গর্বিত ধারক ঢাকা ক্লাবে একটা অতি সমৃদ্ধ ও মানসম্মত লাইব্রেরি রয়েছে। তবে  লাইব্রেরির আনুষ্ঠানিক যাত্রা কবে থেকে হয়, হাতের কাছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। হরেকরকম বইপুস্তক ও প্রাচীন পত্র-পত্রিকার সংকলনসহ সেখানে দুর্লভ কিছু অজানা ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায়। আগ্রহী পাঠকের জন্য রয়েছে চমৎকার অনুকূল ব্যবস্থা। তবে পাঠক সীমাবদ্ধতার কারণে লাইব্রেরির ব্যবহার খুব বেশি হচ্ছে না। এখানকার পাঠক বলতে  সবাই ক্লাব সদস্য হওয়ায় লাইব্রেরিটা প্রায় সুনশান-নিস্তব্ধ। এখানে বাইরের পাঠকের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। এক সময়ের প্রবীণ সদস্যগণ যারা ক্লাবমুখী ও বইবান্ধব ছিলেন তারা অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই। অন্যদিকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির আশীর্বাদ নিয়ে মানুষ আজকে  ঘরে বসেই পছন্দের বইয়ের ওপর চোখ রাখতে সক্ষম হচ্ছে। মৌলিক গবেষণার কাজও আজকাল আর সেই আগ্রহ ও আন্তরিকতা দিয়ে হচ্ছে না। ফলে দেশের অসংখ্য লাইব্রেরি পাঠক হারিয়ে ক্রমাগত অতীতের জৌলুশ হারানোর শঙ্কায় উপনীত। 

জেনে রাখা ভালো, এ মুহূর্তে ঢাকা ক্লাবে মোট বইয়ের সংখ্যা ১৮,১০০ বা এর কাছাকাছি। এর মধ্যে বাংলা বইয়ের সংখ্যা ১০,২২২টি, ইংরেজি বই ৭,৮৭৮টি। গল্প, উপন্যাসের সংখ্যা ৪,৩৬৮ টি, ফিকশন ৪,৩১০ টি, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, রাজনীতি মিলে ১,১৪২টি, অর্থনীতি ২২৯টি, স্পোর্টস ১৪০টি, রেফারেন্স বই ১,১৬২টি, ছোটদের বই ৬৪৭টি, আত্মজীবনী ১৮৫টি ইত্যাদি। 

এসব মূল্যবান বই সংরক্ষণের জন্যে সেখানে রয়েছে মোট ৫৪টি বুক শেলফ এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা। এবং সেখানে  লাইব্রেরিয়ান হিসেবে পদায়ন করা আছে একাধিক কর্মচারী। 

দেখলে মনে হবে, যুগ যুগ ধরে শেলফে দাঁড়িয়ে থাকা শত-শত বোবা বই তাকিয়ে আছে অচেনা কোনো পাঠকের আঙুলের সামান্য একটু স্পর্শ পাওয়ার জন্যে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে বলেছেন, ‘শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থান পতনের শব্দ শুনিতেছ? এখানে জীবিত ও মৃত ব্যক্তির হৃদয় পাশাপাশি একপাড়ায় বাস করিতেছে’। 

৪.

ঢাকা ক্লাব লাইব্রেরিতে রক্ষিত হাজার হাজার বইয়ের কাতারে এমন অসংখ্য বিখ্যাত ও প্রথিতযশা লেখকের বই রয়েছে। যারা নিজেরা ক্লাব সদস্য হয়ে সৌজন্য কপি হিসেবে ক্লাবের লাইব্রেরিকে উপহার দিয়েছেন। লেখকদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই কিন্তু তাদের স্বাক্ষরিত বইটি অক্ষয় স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। 

মজার ব্যাপার হলো, এ লাইব্রেরিতে বাংলাভাষার চিরায়ত সাহিত্যের অনেক জনপ্রিয় ও কালোত্তীর্ণ বইয়ের প্রথম প্রকাশিত সংখ্যাটি রয়েছে। যা দেশের অন্য কোনো বইয়ের দোকানে সচরাচর পাওয়া সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে দুটো বইয়ের কথা বলা যায়, প্রথম-বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি লেখক ও সাংবাদিক যাযাবর (বিনয় মুখোপাধ্যায়) এর ‘দৃষ্টিপাত’ বইটা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৫৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯৪৭ সালে। প্রকাশক, নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা। মূল্য তিন টাকা।

দ্বিতীয় -সৈয়দ মুজতবা আলী’র প্রথম বই ‘দেশে-বিদেশে’র প্রথম প্রকাশকাল ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ বা ১৯৪৯ সালে। প্রকাশক একই। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে পাঁচ টাকা। উল্লেখ্য যে, বইয়ের প্রথম প্রকাশকালে লেখকের নাম ড. সৈয়দ মুজতবা আলী লেখা রয়েছে। মনে হয়, পরবর্তীকালে সৈয়দ মুজতবা আলী লেখক হিসেবে ‘ডক্টর’ শব্দটি আর লেখেননি।

[লেখক: গল্পকার]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত