সংবাদ

ত্রিশালে চাঁদা না দেওয়ায় ২০০ গাছ কেটে সাবাড়


প্রতিনিধি, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)
প্রতিনিধি, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

ত্রিশালে চাঁদা না দেওয়ায় ২০০ গাছ কেটে সাবাড়
ছবি : সংবাদ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক অসহায় বিধবার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে বসতভিটার দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুধু গাছ কেটেই ক্ষান্ত হয়নি অভিযুক্তরা, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করায় ওই পরিবারকে প্রাণনাশ ও সন্তান অপহরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা।

উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গুজিয়াম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ত্রিশাল আমলী) আদালতে একটি মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গুজিয়াম গ্রামের আঃ ছামাদ খাঁ, রত্না বেগম, আকলিমা খাতুন, সিজিলা খাতুন, তাছলিমা ও নাছিমাসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে আকলিমা আক্তারের পরিবারের ওপর চড়াও হয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে আকলিমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দুই সন্তান, বৃদ্ধ শ্বশুর ও প্রবাসী দেবরকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছেন।

আকলিমার অভিযোগ, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তার জমির ফসল কেটে ক্ষতি করে আসছিল। সম্প্রতি বাড়িতে ভবন নির্মাণের সময়ও তাকে ৩ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট আবারও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আকলিমা ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা গুজিয়াম মৌজার জমিতে থাকা আম, জাম, কাঁঠাল, বেল, জলপাইসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দুই শতাধিক গাছ ও বাঁশঝাড় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গাছ কাটার প্রতিবাদ করলে এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে আকলিমা ও তার সন্তানদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তার সন্তানকে অপহরণ এবং বৃদ্ধ শ্বশুরকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার বলেন, ‘নিজেদের কেনা জমিতে অনেক কষ্ট করে গাছগুলো লাগিয়েছিলাম। স্বামী নেই দেখে তারা আমাদের ওপর একের পর এক অত্যাচার করছে। এখন আমার সন্তানদের মেরে ফেলার ও তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


ত্রিশালে চাঁদা না দেওয়ায় ২০০ গাছ কেটে সাবাড়

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক অসহায় বিধবার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে বসতভিটার দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুধু গাছ কেটেই ক্ষান্ত হয়নি অভিযুক্তরা, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করায় ওই পরিবারকে প্রাণনাশ ও সন্তান অপহরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা।

উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গুজিয়াম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ত্রিশাল আমলী) আদালতে একটি মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গুজিয়াম গ্রামের আঃ ছামাদ খাঁ, রত্না বেগম, আকলিমা খাতুন, সিজিলা খাতুন, তাছলিমা ও নাছিমাসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে আকলিমা আক্তারের পরিবারের ওপর চড়াও হয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে আকলিমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দুই সন্তান, বৃদ্ধ শ্বশুর ও প্রবাসী দেবরকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছেন।

আকলিমার অভিযোগ, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তার জমির ফসল কেটে ক্ষতি করে আসছিল। সম্প্রতি বাড়িতে ভবন নির্মাণের সময়ও তাকে ৩ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট আবারও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আকলিমা ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা গুজিয়াম মৌজার জমিতে থাকা আম, জাম, কাঁঠাল, বেল, জলপাইসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দুই শতাধিক গাছ ও বাঁশঝাড় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গাছ কাটার প্রতিবাদ করলে এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে আকলিমা ও তার সন্তানদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তার সন্তানকে অপহরণ এবং বৃদ্ধ শ্বশুরকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার বলেন, ‘নিজেদের কেনা জমিতে অনেক কষ্ট করে গাছগুলো লাগিয়েছিলাম। স্বামী নেই দেখে তারা আমাদের ওপর একের পর এক অত্যাচার করছে। এখন আমার সন্তানদের মেরে ফেলার ও তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছি।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত