সংবাদ

২৬ দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ : তদন্তের মুখে বাবা-ছেলে


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

২৬ দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ : তদন্তের মুখে বাবা-ছেলে
ছবি : সংবাদ

ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জাল দলিল তৈরি ও জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের নেপথ্যে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন এক দলিল লেখক ও তার ছেলে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা রেজিস্ট্রি অফিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন–ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. শহীদ উল্লাহ খোকন ও তার ছেলে শাহাদাত হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে তারা জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও তদন্তের নির্দেশপত্র থেকে জানা যায়, গত ২০ জুলাই জাহিদুল আলম নামের এক ব্যক্তি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের আগস্টে একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য গেলে খোকন ও তার ছেলে শাহাদাত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে জাহিদুল অন্য এক দলিল লেখকের মাধ্যমে কাজ করে নিশ্চিত হন যে ওই টাকা অবৈধভাবে দাবি করা হয়েছিল।

একই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ হায়দার আলী শাহরিয়ার নামের আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে রেজিস্ট্রি হওয়া ২৬টি নির্দিষ্ট দলিলের নম্বর উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব দলিলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানেরও দাবি জানানো হয়।

ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় পরশুরামের সাব-রেজিস্ট্রার প্রবাল কৃষ্ণ সাহাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের (২০২৬) মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের ২৬টি দলিলের সহিমুহুরি নকল, খাজনা দাখিলা এবং এসএ ও বিএস পর্চা পর্যালোচনা করে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি যাচাই করা হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ দিয়েছে, তা জানা নেই। দলিল লেখক সমিতির নিয়ম মেনেই আমরা ফি নিয়ে থাকি।’ তার বাবা শহীদ উল্লাহ খোকন দাবি করেন, ‘রেজিস্ট্রার স্যারের সঙ্গে ব্যক্তিগত মনোমালিন্যের কারণে আমার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ৩৬ বছরের পেশাজীবনে এমন অভিযোগ কখনো আসেনি।’

জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম বলেন, ‘প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জালিয়াতির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


২৬ দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ : তদন্তের মুখে বাবা-ছেলে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জাল দলিল তৈরি ও জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের নেপথ্যে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন এক দলিল লেখক ও তার ছেলে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা রেজিস্ট্রি অফিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন–ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. শহীদ উল্লাহ খোকন ও তার ছেলে শাহাদাত হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে তারা জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও তদন্তের নির্দেশপত্র থেকে জানা যায়, গত ২০ জুলাই জাহিদুল আলম নামের এক ব্যক্তি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের আগস্টে একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য গেলে খোকন ও তার ছেলে শাহাদাত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে জাহিদুল অন্য এক দলিল লেখকের মাধ্যমে কাজ করে নিশ্চিত হন যে ওই টাকা অবৈধভাবে দাবি করা হয়েছিল।

একই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ হায়দার আলী শাহরিয়ার নামের আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে রেজিস্ট্রি হওয়া ২৬টি নির্দিষ্ট দলিলের নম্বর উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব দলিলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানেরও দাবি জানানো হয়।

ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় পরশুরামের সাব-রেজিস্ট্রার প্রবাল কৃষ্ণ সাহাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের (২০২৬) মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের ২৬টি দলিলের সহিমুহুরি নকল, খাজনা দাখিলা এবং এসএ ও বিএস পর্চা পর্যালোচনা করে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি যাচাই করা হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ দিয়েছে, তা জানা নেই। দলিল লেখক সমিতির নিয়ম মেনেই আমরা ফি নিয়ে থাকি।’ তার বাবা শহীদ উল্লাহ খোকন দাবি করেন, ‘রেজিস্ট্রার স্যারের সঙ্গে ব্যক্তিগত মনোমালিন্যের কারণে আমার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ৩৬ বছরের পেশাজীবনে এমন অভিযোগ কখনো আসেনি।’

জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম বলেন, ‘প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জালিয়াতির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত