সংবাদ

ফেনীতে মেয়াদহীন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে স্টিকার জালিয়াতি


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

ফেনীতে মেয়াদহীন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে স্টিকার জালিয়াতি
ছবি : সংবাদ

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের আসল মেয়াদের তারিখ ঘষে তুলে সেখানে নিজেদের ইচ্ছামতো নতুন মেয়াদের স্টিকার বসাত ‘মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজ’। এই জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রতারণা করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনী শহরের মহিপাল এলাকার শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের সোনালী ব্যাংক ভবনে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের জেলা সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা ১১টা থেকে শহরের হাজারী রোড, মহিপাল, লালপোল ও হাজীর বাজার এলাকায় নিয়মিত বাজার মনিটরিং শুরু করে ভোক্তা অধিকার। এ সময় নিত্যপণ্যের দাম ও মান যাচাই করার এক পর্যায়ে মহিপালের মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজে হানা দেন কর্মকর্তারা। সেখানে দেখা যায়, জ্বালানি ও অক্সিজেন সামগ্রী বিক্রয়কারী এই প্রতিষ্ঠানটি মূল উৎপাদনকারী কোম্পানির দেওয়া আসল মেয়াদের তারিখ তুলে ফেলছে। পরে সেখানে নিজেদের তৈরি স্টিকার বসিয়ে বিক্রির দিন থেকে পরবর্তী এক বছরের মেয়াদ দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল। অথচ শোরুমে থাকা অবস্থাতেই এসব যন্ত্রের আসল মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।

জালিয়াতি এখানেই শেষ নয়। নিজেরা রিফিল না করেও অন্যের কাছ থেকে রিফিল করিয়ে আনা সিলিন্ডারেও নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নাম ও ভুয়া তারিখ সংবলিত স্টিকার বসিয়ে দেওয়ার সত্যতা পায় আছাদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন দলটি।

মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে জালিয়াতির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৫২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মাঈনুল ইসলাম তুহিন ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন।

সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, ‘জালিয়াতি করে মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নতুন বলে বিক্রি করা হচ্ছিল। এটি সরাসরি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল। জনস্বার্থে আমাদের এই তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

অভিযান চলাকালে জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। এ সময় লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


ফেনীতে মেয়াদহীন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে স্টিকার জালিয়াতি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের আসল মেয়াদের তারিখ ঘষে তুলে সেখানে নিজেদের ইচ্ছামতো নতুন মেয়াদের স্টিকার বসাত ‘মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজ’। এই জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রতারণা করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনী শহরের মহিপাল এলাকার শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের সোনালী ব্যাংক ভবনে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের জেলা সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা ১১টা থেকে শহরের হাজারী রোড, মহিপাল, লালপোল ও হাজীর বাজার এলাকায় নিয়মিত বাজার মনিটরিং শুরু করে ভোক্তা অধিকার। এ সময় নিত্যপণ্যের দাম ও মান যাচাই করার এক পর্যায়ে মহিপালের মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজে হানা দেন কর্মকর্তারা। সেখানে দেখা যায়, জ্বালানি ও অক্সিজেন সামগ্রী বিক্রয়কারী এই প্রতিষ্ঠানটি মূল উৎপাদনকারী কোম্পানির দেওয়া আসল মেয়াদের তারিখ তুলে ফেলছে। পরে সেখানে নিজেদের তৈরি স্টিকার বসিয়ে বিক্রির দিন থেকে পরবর্তী এক বছরের মেয়াদ দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল। অথচ শোরুমে থাকা অবস্থাতেই এসব যন্ত্রের আসল মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।

জালিয়াতি এখানেই শেষ নয়। নিজেরা রিফিল না করেও অন্যের কাছ থেকে রিফিল করিয়ে আনা সিলিন্ডারেও নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নাম ও ভুয়া তারিখ সংবলিত স্টিকার বসিয়ে দেওয়ার সত্যতা পায় আছাদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন দলটি।

মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে জালিয়াতির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৫২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মাঈনুল ইসলাম তুহিন ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন।

সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, ‘জালিয়াতি করে মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নতুন বলে বিক্রি করা হচ্ছিল। এটি সরাসরি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল। জনস্বার্থে আমাদের এই তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

অভিযান চলাকালে জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। এ সময় লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত