মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ের বুক চিরে এক সময় ঘুরে বেড়াত বাঘ, গণ্ডার আর বুনো মহিষ। কালের বিবর্তনে অনেক প্রাণী হারিয়ে গেলেও এই পাহাড় কি এখনো তার রহস্য জমিয়ে রেখেছে নিজের গহিনে? সম্প্রতি এক পর্যটকের চোখে ‘ভাল্লুক’ সদৃশ প্রাণী দেখার দাবি সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
বড়লেখার পর্যটক সুদর্শন দেব সম্প্রতি পাথারিয়া পাহাড়ের গহিন অরণ্যে ভ্রমণে যান। তার দলের দুই সদস্যের সামনে দিয়ে হঠাৎ একটি কালো কুচকুচে বড় প্রাণী চলে যেতে দেখা যায়। পর্যটকদের দাবি, সেটি দেখতে ছিল হুবহু ভাল্লুকের মতো। এই ঘটনার পর থেকে পাথারিয়ার গহিন বনে ভাল্লুকের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় ও গবেষকদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
পাথারিয়া পাহাড়ের ইতিহাস বলে, গত ১০০ বছরে বনভূমির একটি বড় অংশ মানুষ কেড়ে নিলেও এটি এখনো অনেক বিরল প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়। দীর্ঘ তিন বছরের এক গবেষণায় এখানে স্থাপন করা হয় স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ট্র্যাপ। সেই ক্যামেরায় ধরা পড়েছে অভাবনীয় সব ছবি। পাথারিয়ার বনে এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সোনালি বিড়াল, মেছো বিড়াল, চিতা বিড়াল, বন বিড়াল, লজ্জাবতী বানর ও উল্লুক। দেখা মিলেছে বিরল প্রজাতির ফেরেট ব্যাজার, হগ ব্যাজার, বনরুই এবং ক্ষুদ্র নখযুক্ত উদবিড়ালেরও। এমনকি মায়া হরিণ, বুনো শুয়োর আর বিপন্ন কাঠময়ূরের উপস্থিতিও নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা।
বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, পাথারিয়া পাহাড় এখনো প্রাণবৈচিত্র্যে অনন্য। এই প্রাকৃতিক বন রক্ষা করা গেলে এটি অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর জন্য শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে। তবে মানুষের আগ্রাসন, অবৈধ শিকার এবং কাঠ পাচার এই বনের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। সীমান্তবর্তী এই বনাঞ্চলকে দ্রুত সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ের বুক চিরে এক সময় ঘুরে বেড়াত বাঘ, গণ্ডার আর বুনো মহিষ। কালের বিবর্তনে অনেক প্রাণী হারিয়ে গেলেও এই পাহাড় কি এখনো তার রহস্য জমিয়ে রেখেছে নিজের গহিনে? সম্প্রতি এক পর্যটকের চোখে ‘ভাল্লুক’ সদৃশ প্রাণী দেখার দাবি সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
বড়লেখার পর্যটক সুদর্শন দেব সম্প্রতি পাথারিয়া পাহাড়ের গহিন অরণ্যে ভ্রমণে যান। তার দলের দুই সদস্যের সামনে দিয়ে হঠাৎ একটি কালো কুচকুচে বড় প্রাণী চলে যেতে দেখা যায়। পর্যটকদের দাবি, সেটি দেখতে ছিল হুবহু ভাল্লুকের মতো। এই ঘটনার পর থেকে পাথারিয়ার গহিন বনে ভাল্লুকের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় ও গবেষকদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
পাথারিয়া পাহাড়ের ইতিহাস বলে, গত ১০০ বছরে বনভূমির একটি বড় অংশ মানুষ কেড়ে নিলেও এটি এখনো অনেক বিরল প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়। দীর্ঘ তিন বছরের এক গবেষণায় এখানে স্থাপন করা হয় স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ট্র্যাপ। সেই ক্যামেরায় ধরা পড়েছে অভাবনীয় সব ছবি। পাথারিয়ার বনে এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সোনালি বিড়াল, মেছো বিড়াল, চিতা বিড়াল, বন বিড়াল, লজ্জাবতী বানর ও উল্লুক। দেখা মিলেছে বিরল প্রজাতির ফেরেট ব্যাজার, হগ ব্যাজার, বনরুই এবং ক্ষুদ্র নখযুক্ত উদবিড়ালেরও। এমনকি মায়া হরিণ, বুনো শুয়োর আর বিপন্ন কাঠময়ূরের উপস্থিতিও নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা।
বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, পাথারিয়া পাহাড় এখনো প্রাণবৈচিত্র্যে অনন্য। এই প্রাকৃতিক বন রক্ষা করা গেলে এটি অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর জন্য শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে। তবে মানুষের আগ্রাসন, অবৈধ শিকার এবং কাঠ পাচার এই বনের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। সীমান্তবর্তী এই বনাঞ্চলকে দ্রুত সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

আপনার মতামত লিখুন