বাঙালি জনজীবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও বনের জীবনচক্র সুরক্ষায় স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে হাতিই সবচেয়ে বৃহৎ। তবে ক্রমাগত বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রাকৃতিক আবাসস্থল দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। খাদ্য ও প্রজননক্ষেত্রের অভাবে নিজেদের আদি নিবাস ছেড়ে হাতি বাধ্য হয়ে লোকালয়ে নেমে আসছে। যার পরিণতিতে মানুষ ও হাতির মধ্যে প্রাণঘাতী দ্বন্দ্ব পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে।
এমন পরিস্থিতিতে সারা
বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা
আয়োজনের মধ্য দিয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) পালিত হয়েছে বিশ্ব হাতি দিবস। এবারের
দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ
করা হয়েছে “বিশ্বজুড়ে ঐক্যগড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি।”
হাতি ও এর স্বাভাবিক
বাসস্থান সংরক্ষণে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করাই এই উদ্যোগের
মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে এশীয় ও আফ্রিকান প্রজাতির হাতি টিকে আছে। এশিয়ার ১৩টি দেশে প্রায় ৫০ হাজার এশীয় হাতির বসবাস। যার মধ্যে কেবল ভারতেই রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার। তবে বাংলাদেশের চিত্র বেশ উদ্বেগজনক।
২০১৫
সালের আনুষ্ঠানিক জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে
স্থায়ী বন্য হাতির সংখ্যা
মাত্র ২৬৮টি। এছাড়া পরিযায়ী বন্য হাতি রয়েছে
৯৩টি এবং পোষা হাতি
রয়েছে ৯৬টি। ক্রমাগত সংকটে পড়তে থাকা এই
প্রাণিকুল সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে সরকার ২০২৭ সালে পুনরায় দেশব্যাপী
পূর্ণাঙ্গ হাতি জরিপের উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশে
প্রধানত চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চিরসবুজ
বনাঞ্চলে অধিকাংশ বন্যহাতির বিচরণ
লক্ষ্য করা যায়। তবে
চুনতি, ফাসিয়াখালী, টেকনাফ, পাবলাখালী অভয়ারণ্য ও কাপ্তাই জাতীয়
উদ্যানের গণ্ডি পেরিয়ে খাদ্য ও আশ্রয়ের খোঁজে
হাতিগুলো প্রায়ই ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্ত পেরিয়ে
ভারত ও মিয়ানমার থেকেও
কিছু পরিযায়ী হাতি ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা,
শেরপুর, জামালপুর ও মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী
এলাকায় প্রবেশ করে। বন কমে
যাওয়ায় খাবারের তাড়নায় হাতির পাল যখনই লোকালয়ে
ঢুকছে, তখনই বাঁধছে সংঘাত,
ঘটছে প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যাপক
ক্ষয়ক্ষতি।
প্রাকৃতিক
পরিবেশ ও ইকো-সিস্টেম
রক্ষায় হাতির ভূমিকা অপরিসীম। বনের স্বাস্থ্য কেমন,
তা নির্ভর করে সেই বনে
হাতির উপস্থিতির ওপর। শুষ্ক মৌসুমে
নিজের ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর
তৃষ্ণা মেটাতে হাতি মাটিতে গভীর
গর্ত খুঁড়ে পানির উৎস তৈরি করে।
হাতির বিশালাকার পায়ের চাপে মাটিতে লুকিয়ে
থাকা বীজ থেকে নতুন
চারা গজায়, যা বনের পুনর্জন্মে
সাহায্য করে। শুধু তা-ই নয়, হাতির
মলের মাধ্যমে বনের উর্বরতা বাড়ে
এবং উদ্ভিদের বীজের বিস্তৃতি ঘটে। গভীর জঙ্গল
দিয়ে হাতির চলাচলের ফলে ছোট ছোট
ঝোপঝাড় ভেঙে স্বাভাবিক ট্রেইল
তৈরি হয়, যা বনের
অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণীদের যাতায়াতে সহায়তা করে।
মানুষ
ও হাতির তীব্র দ্বন্দ্ব কমাতে এবং সাধারণ মানুষের
ক্ষয়ক্ষতি সামলে নিতে সরকার নিরলস
কাজ করে যাচ্ছে। ২০১২
সাল থেকে ২০২৬ সালের
জুন পর্যন্ত সময়ে বন্য হাতির
আক্রমণে প্রাণ হারানো ৩২২ জন নিহত
ব্যক্তির পরিবার এবং ১৬৯ জন
গুরুতর আহত ব্যক্তির পাশাপাশি
ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির শিকার ৩,২১৫টি পরিবারকে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই
পর্যন্ত পৌনে ১৪ কোটি
টাকা (১৩ কোটি ৭৭
লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী, নিহতের
পরিবারকে ৩ লাখ টাকা,
আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা
এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির
জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা
প্রদান করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার হাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে ইতোমধ্যে ১৫৯টি ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম’ (ইআরটি) গঠন করেছে। প্রায় ১০ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত এই টিমগুলো লোকালয়ে হাতির আসার আগাম বার্তা দেওয়া, ফসল রক্ষা ও হাতিকে নিরাপদে বনে ফেরাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এছাড়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন জোরদারের পাশাপাশি সচেতনতামূলক নানা প্রচারকাজে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা করা হচ্ছে।
২০১৬ সালে চিহ্নিত
১২টি করিডোরের তথ্য ২০২১ সালে
হালনাগাদ করে ১০টি সক্রিয়
করিডোর হিসেবে সনাক্ত করা হলেও রোহিঙ্গা
শরণার্থী শিবির ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের
কারণে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো আজ প্রায় রুদ্ধ।
হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিণ্টু বলেন, ‘হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার। শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়, এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে এই প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।’
আলোচনা অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম এবং প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তারা সবাই একবাক্যে
স্বীকার করেন, হাতি
ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত না হলে বনের
জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। বনের
বুনো খাবার বৃদ্ধি, স্বাভাবিক করিডোরগুলো পুনরুদ্ধার এবং সীমান্ত এলাকায়
সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল হাতি রক্ষা
করা সম্ভব, যা পরিশেষে মানুষের
জীবন ও প্রকৃতিকেই সমৃদ্ধ
করবে।

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
বাঙালি জনজীবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও বনের জীবনচক্র সুরক্ষায় স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে হাতিই সবচেয়ে বৃহৎ। তবে ক্রমাগত বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রাকৃতিক আবাসস্থল দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। খাদ্য ও প্রজননক্ষেত্রের অভাবে নিজেদের আদি নিবাস ছেড়ে হাতি বাধ্য হয়ে লোকালয়ে নেমে আসছে। যার পরিণতিতে মানুষ ও হাতির মধ্যে প্রাণঘাতী দ্বন্দ্ব পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে।
এমন পরিস্থিতিতে সারা
বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা
আয়োজনের মধ্য দিয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) পালিত হয়েছে বিশ্ব হাতি দিবস। এবারের
দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ
করা হয়েছে “বিশ্বজুড়ে ঐক্যগড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি।”
হাতি ও এর স্বাভাবিক
বাসস্থান সংরক্ষণে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করাই এই উদ্যোগের
মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে এশীয় ও আফ্রিকান প্রজাতির হাতি টিকে আছে। এশিয়ার ১৩টি দেশে প্রায় ৫০ হাজার এশীয় হাতির বসবাস। যার মধ্যে কেবল ভারতেই রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার। তবে বাংলাদেশের চিত্র বেশ উদ্বেগজনক।
২০১৫
সালের আনুষ্ঠানিক জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে
স্থায়ী বন্য হাতির সংখ্যা
মাত্র ২৬৮টি। এছাড়া পরিযায়ী বন্য হাতি রয়েছে
৯৩টি এবং পোষা হাতি
রয়েছে ৯৬টি। ক্রমাগত সংকটে পড়তে থাকা এই
প্রাণিকুল সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে সরকার ২০২৭ সালে পুনরায় দেশব্যাপী
পূর্ণাঙ্গ হাতি জরিপের উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশে
প্রধানত চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চিরসবুজ
বনাঞ্চলে অধিকাংশ বন্যহাতির বিচরণ
লক্ষ্য করা যায়। তবে
চুনতি, ফাসিয়াখালী, টেকনাফ, পাবলাখালী অভয়ারণ্য ও কাপ্তাই জাতীয়
উদ্যানের গণ্ডি পেরিয়ে খাদ্য ও আশ্রয়ের খোঁজে
হাতিগুলো প্রায়ই ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্ত পেরিয়ে
ভারত ও মিয়ানমার থেকেও
কিছু পরিযায়ী হাতি ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা,
শেরপুর, জামালপুর ও মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী
এলাকায় প্রবেশ করে। বন কমে
যাওয়ায় খাবারের তাড়নায় হাতির পাল যখনই লোকালয়ে
ঢুকছে, তখনই বাঁধছে সংঘাত,
ঘটছে প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যাপক
ক্ষয়ক্ষতি।
প্রাকৃতিক
পরিবেশ ও ইকো-সিস্টেম
রক্ষায় হাতির ভূমিকা অপরিসীম। বনের স্বাস্থ্য কেমন,
তা নির্ভর করে সেই বনে
হাতির উপস্থিতির ওপর। শুষ্ক মৌসুমে
নিজের ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর
তৃষ্ণা মেটাতে হাতি মাটিতে গভীর
গর্ত খুঁড়ে পানির উৎস তৈরি করে।
হাতির বিশালাকার পায়ের চাপে মাটিতে লুকিয়ে
থাকা বীজ থেকে নতুন
চারা গজায়, যা বনের পুনর্জন্মে
সাহায্য করে। শুধু তা-ই নয়, হাতির
মলের মাধ্যমে বনের উর্বরতা বাড়ে
এবং উদ্ভিদের বীজের বিস্তৃতি ঘটে। গভীর জঙ্গল
দিয়ে হাতির চলাচলের ফলে ছোট ছোট
ঝোপঝাড় ভেঙে স্বাভাবিক ট্রেইল
তৈরি হয়, যা বনের
অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণীদের যাতায়াতে সহায়তা করে।
মানুষ
ও হাতির তীব্র দ্বন্দ্ব কমাতে এবং সাধারণ মানুষের
ক্ষয়ক্ষতি সামলে নিতে সরকার নিরলস
কাজ করে যাচ্ছে। ২০১২
সাল থেকে ২০২৬ সালের
জুন পর্যন্ত সময়ে বন্য হাতির
আক্রমণে প্রাণ হারানো ৩২২ জন নিহত
ব্যক্তির পরিবার এবং ১৬৯ জন
গুরুতর আহত ব্যক্তির পাশাপাশি
ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির শিকার ৩,২১৫টি পরিবারকে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই
পর্যন্ত পৌনে ১৪ কোটি
টাকা (১৩ কোটি ৭৭
লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী, নিহতের
পরিবারকে ৩ লাখ টাকা,
আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা
এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতির
জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা
প্রদান করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার হাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে ইতোমধ্যে ১৫৯টি ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম’ (ইআরটি) গঠন করেছে। প্রায় ১০ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত এই টিমগুলো লোকালয়ে হাতির আসার আগাম বার্তা দেওয়া, ফসল রক্ষা ও হাতিকে নিরাপদে বনে ফেরাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এছাড়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন জোরদারের পাশাপাশি সচেতনতামূলক নানা প্রচারকাজে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা করা হচ্ছে।
২০১৬ সালে চিহ্নিত
১২টি করিডোরের তথ্য ২০২১ সালে
হালনাগাদ করে ১০টি সক্রিয়
করিডোর হিসেবে সনাক্ত করা হলেও রোহিঙ্গা
শরণার্থী শিবির ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের
কারণে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো আজ প্রায় রুদ্ধ।
হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিণ্টু বলেন, ‘হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার। শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বন বিভাগের মাঠকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। হাতির আবাসস্থল রক্ষা মানে শুধু হাতিকে রক্ষা করা নয়, এর মাধ্যমে বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হয়।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে এই প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।’
আলোচনা অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম এবং প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তারা সবাই একবাক্যে
স্বীকার করেন, হাতি
ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত না হলে বনের
জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। বনের
বুনো খাবার বৃদ্ধি, স্বাভাবিক করিডোরগুলো পুনরুদ্ধার এবং সীমান্ত এলাকায়
সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল হাতি রক্ষা
করা সম্ভব, যা পরিশেষে মানুষের
জীবন ও প্রকৃতিকেই সমৃদ্ধ
করবে।

আপনার মতামত লিখুন