সংবাদ

সাতক্ষীরায় পাটের সুদিন ফেরাতে আসছে নতুন জাত


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

সাতক্ষীরায় পাটের সুদিন ফেরাতে আসছে নতুন জাত
ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত আর রোগবালাই কম হওয়ায় ফলন নিয়ে খুশি কৃষকেরা। তবে ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি আর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তাদের মনে রয়েছে শঙ্কা। এর মধ্যে উপকূলীয় জেলাটিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা। এই সংকট মোকাবিলায় কৃষি গবেষকেরা এখন আশার আলো দেখছেন নতুন জাতের ‘দেশি পাট-৮’ নিয়ে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার বেল। কৃষি বিভাগ আশা করছে, বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলে এ বছর জেলায় উৎপাদিত পাটের বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

উপজেলাওয়ারী তথ্যে দেখা যায়, সাতক্ষীরা সদরে ৫ হাজার ২০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৩ হাজার ২৫৫ হেক্টর এবং তালায় ৩ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এছাড়া দেবহাটা, কালীগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগরেও সীমিত পরিসরে পাটের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন খাল-বিলে ও জলাশয়ে পাট ধোয়া এবং ‘জাক’ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

সাতক্ষীরা সদরের দেবনগর গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম ও কলারোয়ার শাহজাহান মোড়ল জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার পাতে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম ছিল। ফলে কীটনাশক খরচ বেঁচেছে। তবে সারের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। সদরের কৃষক হোসেন আলী জানান, গত বছর বিঘাপ্রতি খরচ ১৫-১৬ হাজার টাকা হলেও এবার তা ১৯-২০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে গত তিন বছরে সাতক্ষীরায় পাটের চাষ কমেছে প্রায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজিআরআই) উদ্ভাবিত লবণসহিষ্ণু ‘দেশি পাট-৮’ জাতটি উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই জাতটি লবণাক্ততা সহ্য করতে সক্ষম এবং এটি চাষ করলে উপকূলের পতিত জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, 'মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। লবণসহিষ্ণু নতুন জাতটি জনপ্রিয় করতে আমরা প্রদর্শনী প্লট ও মাঠ দিবসের আয়োজন করছি। উন্নত বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলে পাট চাষের হার আরও বাড়বে।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


সাতক্ষীরায় পাটের সুদিন ফেরাতে আসছে নতুন জাত

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত আর রোগবালাই কম হওয়ায় ফলন নিয়ে খুশি কৃষকেরা। তবে ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি আর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তাদের মনে রয়েছে শঙ্কা। এর মধ্যে উপকূলীয় জেলাটিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা। এই সংকট মোকাবিলায় কৃষি গবেষকেরা এখন আশার আলো দেখছেন নতুন জাতের ‘দেশি পাট-৮’ নিয়ে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার বেল। কৃষি বিভাগ আশা করছে, বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলে এ বছর জেলায় উৎপাদিত পাটের বাজারমূল্য ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

উপজেলাওয়ারী তথ্যে দেখা যায়, সাতক্ষীরা সদরে ৫ হাজার ২০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৩ হাজার ২৫৫ হেক্টর এবং তালায় ৩ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এছাড়া দেবহাটা, কালীগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগরেও সীমিত পরিসরে পাটের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন খাল-বিলে ও জলাশয়ে পাট ধোয়া এবং ‘জাক’ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

সাতক্ষীরা সদরের দেবনগর গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম ও কলারোয়ার শাহজাহান মোড়ল জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার পাতে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম ছিল। ফলে কীটনাশক খরচ বেঁচেছে। তবে সারের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। সদরের কৃষক হোসেন আলী জানান, গত বছর বিঘাপ্রতি খরচ ১৫-১৬ হাজার টাকা হলেও এবার তা ১৯-২০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে গত তিন বছরে সাতক্ষীরায় পাটের চাষ কমেছে প্রায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজিআরআই) উদ্ভাবিত লবণসহিষ্ণু ‘দেশি পাট-৮’ জাতটি উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই জাতটি লবণাক্ততা সহ্য করতে সক্ষম এবং এটি চাষ করলে উপকূলের পতিত জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, 'মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। লবণসহিষ্ণু নতুন জাতটি জনপ্রিয় করতে আমরা প্রদর্শনী প্লট ও মাঠ দিবসের আয়োজন করছি। উন্নত বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলে পাট চাষের হার আরও বাড়বে।'


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত