চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চার দিন পর অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেছে পুলিশ। নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করতে না আসায় সোমবার (১৭ আগস্ট) সীতাকুণ্ড মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এই মামলা রেকর্ড করে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় ৯ জনের প্রাণহানি ঘটলেও কোনো পরিবার অভিযোগ নিয়ে আসেনি। এ কারণে পুলিশ বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার তদন্তে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ ‘এমটি রাশি’র ভেতরে প্রবেশ করেছে তদন্ত কমিটিগুলো। শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) প্রতিনিধিরা বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে জাহাজটি পরিদর্শন করেন। তদন্ত দলে ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামীম রিয়াজী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুটি উদ্ধারকারী দল গ্যাসের পরিমাণ ও প্রকৃতি নির্ণয় করবে। এরপরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ তিনি আরও জানান, জাহাজটিতে হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অন্য কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছিল কি না এবং নিরাপত্তায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট সকালে ভাটিয়ারি স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই ইয়ার্ডে নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ায় জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়েছিল। বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তারা শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
আপনার মতামত লিখুন