সংবাদ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও চালু এআই সিস্টেম


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও চালু এআই সিস্টেম
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পর এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় এসেছে মহাসড়কও। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ সিস্টেমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করা হবে।’

মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজি- তা মালিকপক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। ’

সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না। এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি শৃঙ্খলার সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও এডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক 'অটো ফাইন সিস্টেম' এর উদ্বোধন

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ যেকোনো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে।

আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার তথ্য সরাসরি বিআরটিএ ডেটাবেজে চলে যাবে। স্বয়ংক্রিয় সংকেতের মাধ্যমে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার বিবরণ জানানো হবে। 

পরে মালিক ঘরে বসেই মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করতে পারবেন। বারবার আইন লঙ্ঘন করলে বিআরটিএ বিধি অনুযায়ী যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও চালু এআই সিস্টেম

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পর এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় এসেছে মহাসড়কও। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ সিস্টেমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করা হবে।’

মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজি- তা মালিকপক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। ’

সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না। এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি শৃঙ্খলার সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও এডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক 'অটো ফাইন সিস্টেম' এর উদ্বোধন

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ যেকোনো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে।

আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার তথ্য সরাসরি বিআরটিএ ডেটাবেজে চলে যাবে। স্বয়ংক্রিয় সংকেতের মাধ্যমে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার বিবরণ জানানো হবে। 

পরে মালিক ঘরে বসেই মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করতে পারবেন। বারবার আইন লঙ্ঘন করলে বিআরটিএ বিধি অনুযায়ী যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত