সংবাদ

ঘোড়ার গাড়িতে ‘রাজকীয়’ বিদায় নিলেন প্রিয় শিক্ষিকা


সংগ্রাম দত্ত, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
সংগ্রাম দত্ত, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

ঘোড়ার গাড়িতে ‘রাজকীয়’ বিদায় নিলেন প্রিয় শিক্ষিকা
ছবি : সংবাদ

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বেলা রানী দেব দীর্ঘ ৩৯ বছর ৪ মাস পর অবসরে গেলেন। তার এই বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমী বিদায়যাত্রায় অংশ নেন কয়েক প্রজন্মের শত শত শিক্ষার্থী।

বেলা রানী দেব ১৯৮৭ সালে এই বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। কর্মজীবনের পুরো সময়টাই তিনি কাটিয়েছেন এই এক প্রতিষ্ঠানেই। তার হাতেখড়ি নেওয়া বহু শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘ চার দশকের এই পথচলা শেষে প্রিয় শিক্ষিকাকে রাজকীয় সম্মান জানাতেই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেন তার প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।

সোমবার দুপুরে বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ের মাঠ কর্দমাক্ত হয়ে পড়লেও আয়োজন থামেনি। করতালির মধ্য দিয়ে বেলা রানী দেব যখন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছান, তখন আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুল ও উপহারে সিক্ত করেন। এরপর তাকে একটি রকিং চেয়ারে বসিয়ে শূন্যে ভাসিয়ে নিয়ে তোলা হয় সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে। মোটরসাইকেলের বহর ও শিক্ষার্থীদের শোভাযাত্রাসহ প্রায় চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাকে উত্তর নন্দীউড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চন্দ্র ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল তালুকদার। আয়োজকদের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান এবং তুহিন জুবায়ের।

বেলা রানী দেব তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার অনেক ছাত্রছাত্রী আজ প্রতিষ্ঠিত। তারা যে আমাকে এতটা ভালোবাসে, এটা আগে বুঝিনি। এই স্কুলটি ছিল আমার পরিবারের মতো। আজকের এই সম্মান আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তুহিন জুবায়ের বলেন, ‘আমরা শৈশব থেকেই তাকে দিদিমণি বলে ডাকি। তিনি শুধু শিক্ষক নন, আমাদের অভিভাবক। আমাদের বড় ভাই থেকে শুরু করে ছোটরা পর্যন্ত সবাই তার কাছে পড়েছেন। তার এই দীর্ঘ ত্যাগ ও পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমরা এই ক্ষুদ্র আয়োজন করেছি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


ঘোড়ার গাড়িতে ‘রাজকীয়’ বিদায় নিলেন প্রিয় শিক্ষিকা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বেলা রানী দেব দীর্ঘ ৩৯ বছর ৪ মাস পর অবসরে গেলেন। তার এই বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমী বিদায়যাত্রায় অংশ নেন কয়েক প্রজন্মের শত শত শিক্ষার্থী।

বেলা রানী দেব ১৯৮৭ সালে এই বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। কর্মজীবনের পুরো সময়টাই তিনি কাটিয়েছেন এই এক প্রতিষ্ঠানেই। তার হাতেখড়ি নেওয়া বহু শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘ চার দশকের এই পথচলা শেষে প্রিয় শিক্ষিকাকে রাজকীয় সম্মান জানাতেই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেন তার প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।

সোমবার দুপুরে বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ের মাঠ কর্দমাক্ত হয়ে পড়লেও আয়োজন থামেনি। করতালির মধ্য দিয়ে বেলা রানী দেব যখন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছান, তখন আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুল ও উপহারে সিক্ত করেন। এরপর তাকে একটি রকিং চেয়ারে বসিয়ে শূন্যে ভাসিয়ে নিয়ে তোলা হয় সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে। মোটরসাইকেলের বহর ও শিক্ষার্থীদের শোভাযাত্রাসহ প্রায় চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাকে উত্তর নন্দীউড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চন্দ্র ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল তালুকদার। আয়োজকদের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান এবং তুহিন জুবায়ের।

বেলা রানী দেব তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার অনেক ছাত্রছাত্রী আজ প্রতিষ্ঠিত। তারা যে আমাকে এতটা ভালোবাসে, এটা আগে বুঝিনি। এই স্কুলটি ছিল আমার পরিবারের মতো। আজকের এই সম্মান আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তুহিন জুবায়ের বলেন, ‘আমরা শৈশব থেকেই তাকে দিদিমণি বলে ডাকি। তিনি শুধু শিক্ষক নন, আমাদের অভিভাবক। আমাদের বড় ভাই থেকে শুরু করে ছোটরা পর্যন্ত সবাই তার কাছে পড়েছেন। তার এই দীর্ঘ ত্যাগ ও পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমরা এই ক্ষুদ্র আয়োজন করেছি।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত